ডেস্ক রিপোর্টার,১ডিসেম্বর।।
বর্তমান সময়ে “মোবাইল সেট ” প্রতিটি মানুষের জীবনের একটি অঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে।মোবাইল বিনা জীবন একেবারেই যেন অচল।ধনী-গরীবের কোনো বালাই নেই।প্রত্যেকের হাতেই যেন মোবাইল থাকা বাধ্যতামূলক।হবেই বা না কেন? কর্পোরেট সেক্টরের কর্মী থেকে শুরু সরকারি কর্মচারী।প্রত্যেকেই পেশাগত কাজে ব্যবহার করছেন মোবাইল। সংবাদ মাধ্যম বিশেষ করে ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় দিন দিন যেন ক্যামেরার দিন ফুরিয়ে আসছে।ক্যামেরার জায়গা দখল নিচ্ছে “মোবাইল”।
গ্রজেটেড অফিসার থেকে সরকারী দপ্তরের সাধারণ কর্মী।চা-ওয়ালা থেকে রিকশা ওয়ালা।প্রত্যেকেই হাতেই শোভা বর্ধন করে মোবাইল।হয়তো বা এক্ষেত্রে থাকে দামের তারতম্য। এই টুকুই যা।
মানুষের মোবাইল ফোনের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মোবাইল কোম্পানিগুলি গ্রাহকদের জ্ঞাতসারেই প্রতিদিন কাটছে পকেট।রাস্তায় আনাচে কানাচে বিভিন্ন মোবাইল কোম্পানির ছাতা টাঙিয়ে বসে থাকে এজেন্টরা।প্রথমত তাদের কাছে মোবাইল রিচার্জের জন্য গেলেই শুরু হয় পকেট কাটা।প্রতিটি কোম্পানির ক্ষেত্রে একই বিষয়।তাদের অধিকাংশ রিচার্জ থাকে ৯৯ টাকা,১৯৯টাকা,১৪৯ টাকা,২৪৯টাকা,৩৯৯টাকা,৫৯৯টাকা ইত্যাদি। এই মূল্যের রিচার্জ মানুষ বেশি ব্যবহার করে থাকে। কোনো গ্রাহক বিভিন্ন মোবাইল কোম্পানির এই পয়েন্টগুলি থেকে রিচার্জ করলেই অতিরিক্ত একটাকা দিতে হয়।
এয়ারটেল,ভোদাফোন,জিও সব কোম্পানির গ্রাহকরা টাকা খুঁজলেই কোম্পানি রিচার্জ পয়েন্টে থাকা কর্মী সটান জানিয়ে দেন,”তাদের কাছে এক টাকা খুচরো নেই”।ব্যাস, তখন গ্রাহককেও আর কিছু করার থাকে না।স্বাভাবিক ভাবেই তারা কেটে পড়ে।কেউ প্রতিবাদ করলেই খুচরো নেই,খুচরো নেই বলে রে-রে গলা চড়ায় মোবাইল কোম্পানির কর্মীরা। অর্থাৎ মোবাইল কোম্পানিগুলি প্রতিদিন খুচরো নাম করে মানুষের পকেট কেটে চলছে। কিন্তু তার জন্য কোনো হেলদোল নেই রাজ্যের “ক্রেতা সুরক্ষা”র জন্য ঢাউস ঢাউস বিজ্ঞাপন দেওয়া মহকুমা প্রশাসন।অভিযোগ গ্রাহকদের।
ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের বক্তব্য, মহকুমা প্রশাসন হয়তো বা বলবে তাদের কাছে এই ধরণের কোনো অভিযোগ নেই।কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে প্রশাসনের স্ব উদ্যোগে কিছু দায়িত্ব নেওয়া উচিত। সারা রাজ্যে সংশ্লিষ্ট মোবাইল রিচার্জ পয়েন্ট গুলি থেকে মানুষ প্রচুর টাকার রিচার্জ করে থাকে। গ্রাহকদের জ্ঞাত সারেই পকেট কাটছে মোবাইল কোম্পানিগুলি।
অনেকেই মোবাইলে অন-লাইনে রিচার্জ করে থাকে।এক্ষেত্রে সংখ্যা অনেক কম। অধিকাংশ মানুষ বিভিন্ন দোকান ও কোম্পানি গুলির পয়েন্ট থেকে রিচার্জ করে থাকে।তবে কোনো কোনো দোকানদার একটাকা, দুই টাকা ফিরিয়ে দেন।তবে তার সংখ্যাও অনেক কম।
গ্রাহকদের বক্তব্য, এই ভাবে মোবাইল কোম্পানিগুলো মানুষের পকেট কাটলেও নির্বিকার প্রশাসন। প্রত্যেক গ্রাহক থেকে এক টাকা বা দুই টাকা করে রেখে দেয় ঠিকই।দিনের শেষে এই টাকার পরিমাণ কত? মাসান্তে বা বৎসরান্তে এই টাকার পরিমাণ কত দাঁড়ায়?তার খোঁজ কি নিয়েছে প্রশাসন?

Leave a Reply

Your email address will not be published.