ইউক্রেনে মৃত্যুর মিছিল।

* জল-স্থল- অন্তরীক্ষে রুশের দাপট।

* ইউক্রেনের পরমাণু কেন্দ্র দখল।

* ইউক্রেনের স্কুল,হাসপাতাল ও আবাসন গোলাবর্ষণ।

* ধ্বংস ইউক্রেনের গোয়েন্দার সদর দপ্তর।

* জাতীয় পতাকা হাতে রাস্তায় ইউক্রেনের জনতা।

* রাশিয়া বান্ধব সরকার গঠনের প্রস্তুতি মস্কোর।

*ইউক্রেনের পাশে ডেনমার্ক,অস্ট্রেলিয়া ও স্পেন।

*রাশিয়ার পাশে বেলারুশ।ইউক্রেন সীমান্তে সেনা মোতায়েন।

* রাশিয়ার পরমাণু যুদ্ধের হুমকি।

* রাশিয়ার দখলে ইউক্রেনের একের পর এক শহরের।

কিভা,২মার্চ।।
রুশের মিসাইল হামলায় বিপর্যস্ত ইউক্রেন।গোটা দেশে শুধু ধ্বংস স্তুপ আর ধ্বংস স্তুপ। রুশ সেনা একের পর এক ইউক্রেনের শহর দখল করে চলছে। দখল করেছে ইউক্রেনের পরমাণু কেন্দ্র। ইউক্রেনের পুলিশ সদর দপ্তর ও গোয়েন্দা বিভাগের সদর দপ্তরের মূল বিল্ডিং ভেঙে তছনছ করে দেয়। ইউক্রেনের চারিদিকে থাকা সীমান্তে রুশ সেনা ঘেরাও করে রেখেছে।যুদ্ধের সপ্তম দিন অর্থাৎ বুধবারে রাশিয়া স্পেশাল ফোর্স নামিয়ে দিয়েছে ইউক্রেনে। এই ফোর্স বিশেষ প্রশিক্ষিত এবং তাদের হাতে আছে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র। আকাশ থেকে ধেয়ে আসা মৃত্যুরদূত মিসাইল আছড়ে পড়ছে হাসপাতাল,স্কুল, সরকারী বিভিন্ন দপ্তরে উপর।মিসাইলের লেলিহান শিখায় একের পর এক বিল্ডিংয়ে জ্বলে উঠছে আগুন। ইউক্রেনের জাইটমায়ার শহরে একটি প্রসূতি মায়েদের হাসপাতালে মিসাইল নিক্ষেপ করে রাশিয়া।তাতে প্রচুর শিশু ও মেয়েদের মৃত্যু হয়।
জল-স্থল ও অন্তরীক্ষে সবেতেই রাশিয়া আটকে দিয়েছে ইউক্রেনকে।বুধবার স্পেশাল পদাতিক বাহিনীকে নামিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি কৃষ্ণসাগরেও যুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু করেছে রুশ।ওডেসডেনে ল্যান্ডিং করে রুশের যুদ্ধ কপ্টার। যুদ্ধ বিমান থেকে মুহূর্তে মুহূর্তে বোম্বিং করছে রুশ সেনা। ইউক্রেনের অধিকাংশ বড় শহর এখন রুশ সেনার দখলে চলে এসেছে বলে দাবি আন্তর্জাতিক মহলের।
ইউক্রেনের উপর মুহূর্মুহুর আক্রমনের মধ্যেই রুশের বিদেশমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, পরমাণু হামলা ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই। স্বাভাবিক ভাবে পরমাণু যুদ্ধের আশঙ্কা করছে আন্তর্জাতিক মহল। রক্তচাপ বাড়ছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনের। রুশ বাহিনীকে আটকাতে রাস্তায় নেমে পড়েছে ইউক্রেনের সাধারণ মানুষ। তারা জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে রাশিয়ার যুদ্ধ ট্যাঙ্ককে আটকে দিয়েছে। প্রচুর ইউক্রেনের প্রবাসী ফিরে গিয়েছে দেশে।তারা দেশের জন্য হাতে নেবে আগ্নেয়াস্ত্র। রাশিয়ার অভিযোগ, ইউক্রেনের বিভিন্ন জেলে থাকা দাগি অপরাধীদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র।দাবি রুশের।
ইউক্রেনের রাজধানী কিভ ও অন্যতম বড় শহর খারকিভ দখলের অপেক্ষায় রুশ। ক্রমশ এই দুই শহরকে ধ্বংস স্তূপে পরিনত করেছে রুশ। যেকোনো সময় আনুষ্ঠানিক ভাবে রুশ দখল করবে এই দুই শহর।পরিস্থিতি আচ করে ভারতীয় দূতাবাস উপস্থিত ভারতীয়দের কিভ ও খারকিভ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। রাশিয়ার সঙ্গে হাত মিলিয়েছে বেলারুশ। রাশিয়ার এই মিত্রশক্তি ইউক্রেন সীমান্তে বাড়িয়ে সেনার সংখ্যা।বৃহস্পতিবারের মধ্যেই বেলারুশের সেনা বাহিনী প্রবেশ করবে ইউক্রেনের।
এদিকে ইউক্রেনের পাশে দাঁড়িয়েছে ডেনমার্ক, স্পেন ও অস্ট্রেলিয়া। এই তিন দেশ ইউক্রেনকে অস্ত্র, অর্থ ও ওষুধ দিয়ে সাহায্য করেছে। প্রয়োজনে পাঠাবে সেনা।আর এই জায়গাতেই চিন্তার ভাজ পড়ছে আন্তর্জাতিক মহলের।কেননা এই গতিতে যুদ্ধ চলতে থাকলে তা বিশ্বযুদ্ধের রূপ নেবে। ইউক্রেনকে একেবারে ঘায়েল করতে কিভ, খারকিভের টিভি টাওয়ার ধ্বংস করে দিয়েছে ইউক্রেন।
মস্কো চাইছে এখনই আত্মসমর্পণ করুক ইউক্রেন।তবে ইউক্রেনের পরাজয় যে এখন সময়ের অপেক্ষা তা বলার অপেক্ষা রাখে না।তারজন্য ইউক্রেনে মস্কো রাশিয়া বান্ধব সরকার গঠনের তোড়জোড় শুরু করেছে।ইতিমধ্যেই প্রেসিডেন্ট হিসেবে ইয়ানুকোভিচের নাম ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়া।
ইউক্রেন তার সীমিত শক্তি নিয়ে রাশিয়াকে পাল্টা জবাব দেওয়ার চেষ্টা করছে।তবে এটা রাশিয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। মস্কোর শক্তি কয়েকগুণ বেশি ইউক্রেনের তুলনায়। এবং তিন দিক থেকেই হামলা শুরু করে দিয়েছে রুশ বাহিনী। ইউক্রেন সেনারাও রুশের পর পর বেশ কয়েকটি যুদ্ধ বিমান ধ্বংস করে দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.