চুড়াইবাড়ি ডেস্ক,৩রা মে।।
“ঈদ উল ফিতর” উৎসবের আগের রাতে গো হত্যাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের রূপ নেয়
চুড়াইবাড়ির দক্ষিণ শনিছড়া এলাকায়। হামলা-পাল্টা হামলা। আহত বেশ কয়েকজন। ভাঙচুর প্রচুর মোটর বাইক। থানায় দায়ের করা হয়েছে মামলা। ‘আন্তরাষ্ট্রীয় হিন্দু সেনা’ নামক একটি সংগঠন ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা কেন্দ্র করে বিষিয়ে উঠেছিলো শনিছড়া এলাকার আকাশ-বাতাস। রাতভর বিরাজ করে উত্তেজনা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী। রাতেই শনিছড়াতে অবস্থান করেছিলেন উত্তর জেলার পুলিশ সুপার কিরণ কুমার। শেষ পর্যন্ত পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। উৎসবের দিনে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়ার যায়নি। তবে পরিস্থিতি আচ করতে পেয়ে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আঁটোসাঁটো করেছে জেলা পুলিশ প্রশাসন।

স্থানীয় সূত্রের খবর, ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে প্রতি বছর শনিছড়া অঞ্চলে বসবাসকারী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজন ধর্মীয় প্রথা অনুযায়ী গো-হত্যা করে থাকে।এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।শনিছড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের তিন নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ শনিছড়া এলাকার এক বাড়িতে গো-হত্যা করা হয়। এই খবর পৌঁছে যায় আন্তরাষ্ট্রীয় হিন্দু সেনার কাছে।

আন্তরাষ্ট্রীয় হিন্দু সেনার প্রদেশ সভাপতি অবিনাশ দাস জানিয়েছেন, তারা গো-হত্যার খবরের সত্যতা খুঁজে পায়। সংগঠনের পক্ষ থেকে বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে জানানো হয় পুলিশ সুপার কিরণ কুমার ও মহকুমা শাসক সৌম্য দেববর্মাকে।

হিন্দু সেনার প্রদেশ সভাপতির অবিনাশ দাসের কথায়, তারা সংগঠনের কার্যকর্তাদের নিয়ে পৌঁছে গিয়েছিলেন দক্ষিণ শনিছড়া এলাকার সেই বাড়িতে যেখানে গো-হত্যা করা হয়েছিলো। তারা সেখানে গিয়ে বস্তাতে ভর্তি গরুর মাংস দেখতে পায়।এবং একাজে জড়িত লোকজনকে গো-হত্যা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

অবিনাশ দাসের অভিযোগ, এই বাড়িতেই আচমকা কিছু দুস্কৃতি তাদের উপর হামলা শুরু করে দেয়। হিন্দু সেনার কার্যকর্তাদের মারধরের পাশাপাশি সাতটি মোটর বাইক ভাঙচুর করে।খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। উদ্ধার করে গরু মাংস। এবং সিজ করে নিয়ে আসে থানায়।

এই ঘটনার পর হিন্দু সেনার পক্ষ থেকে রাতেই চুড়াই বাড়ি থানায় মামলা দায়ের করে করা হয়। অভিযুক্তদের গ্রেফতার সহ ভাঙচুর করে দেওয়া মোটর বাইক মেরামত করে না দিলে সমস্ত হিন্দু সংগঠনকে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন প্রদেশ সভাপতি অবিনাশ দাস। রাতেই ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়েছিলেন উত্তর জেলার এসপি কিরণ কুমার। পুলিশ সুপার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, গুজবকে কেন্দ্র করে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে ঝামেলা হয়েছিলো ।তবে পুলিশ শক্ত হাতে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে।সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী।

Leave a Reply

Your email address will not be published.