ডেস্ক রিপোর্টার, আগরতলা।।
” ত্রিবর্ণ রঞ্জিত আমাদের জাতীয় পতাকা দেশের সার্বভৌমত্ব , গৌরব , রাষ্ট্রবাদী চেতনা , দেশপ্রেম আর মহান আত্মত্যাগের ঐতিহ্য । দেশের প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য এই জাতীয় পতাকার মর্যাদা ও সম্মান রক্ষা করা । দেশভক্তির এই ভাবনাকে সুদৃঢ় করতেই ‘ হর ঘর তিরঙ্গা ‘ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।” মঙ্গলবার সচিবালয়ের প্রেস কনফারেন্স হলে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে একথা বলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ( ডা 🙂 মানিক সাহা। ‘হর ঘর তিরঙ্গা ‘ কর্মসূচিকে রাজ্যব্যাপী সফল করার জন্য রাজ্যবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী ডা : সাহা বলেন , ‘ হর ঘর তিরঙ্গা ’ কর্মসূচির মুখ্য উদ্দেশ্য হচ্ছে দেশপ্রেম , জাতীয়তাবোধ এবং রাষ্ট্রবাদী চেতনাকে দেশের জনগণের মধ্যে জাগ্রত করা । দেশের স্বাধীনতার ৭৫ তম বর্ষপূর্তিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মার্গ দর্শনে এক নতুন চিন্তা চেতনায় দেশপ্রেম ও দেশের মুক্তির সংগ্রামে নিবেদিত বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর লক্ষ্যেই জাতীয় এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে ।
সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন , ত্রিবর্ণ রঞ্জিত জাতীয় পতাকা হচ্ছে আমাদের গর্ব । আমাদের দেশাত্মবোধের পরিচায়ক ও রাষ্ট্রিয় চেতনার অনুভূতি । রাষ্ট্রীয় চেতনার এই অনুভূতিকে রাজ্যবাসীর মধ্যে জাগ্রত করতে রাজ্যেও আগামী ১৩-১৫ আগস্ট হর ঘর তিরঙ্গা কর্মসূচি পালন করা হবে । এই কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি রাজ্যের প্রতিটি বাড়িতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে ।
মুখ্যমন্ত্রী জানান , এই অভিযানকে সফল করতে রাজ্যের ৮ টি জেলায় ৫ লক্ষ ৩৭ হাজার জাতীয় পতাকা বিতরণ করা হবে । এই ৫ লক্ষ ৩৭ হাজার জাতীয় পতাকা হস্ততাঁত ও হস্তকারু শিল্প দপ্তর , ভারত সরকারের নিয়োজিত সংস্থা , টিআরএলএম এবং টিইউএলএম মাধ্যমে ব্যবস্থা করা হবে । এছাড়াও সংশ্লিষ্ট জেলার জেলাশাসকগণ বিভিন্ন স্ব – সহায়ক দলের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা সরবরাহের ব্যবস্থা করবেন রাজ্যের নাগরিকগণ প্রত্যেক জেলার পঞ্চায়েত অফিস , ভিলেজ কমিটি , ওয়ার্ড অফিস, রেশন সপ থেকে স্বল্পমূল্যে জাতীয় পতাকা সংগ্রহ করতে পারবেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান , হর তিরঙ্গা সাংবাদিক সম্মেলনে সফল করতে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের মাধ্যমে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে । জনগণ যাতে স্বল্পমূল্যে জাতীয় পতাকা কিনেন এজন্য সচেতনতামূলক প্রচার অভিযান করা হচ্ছে ।
এছাড়াও হর ঘর তিরঙ্গা কর্মসূচিকে সফল করতে রাজ্যব্যাপী প্রচার অভিযানের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে । এ লক্ষ্যে হোর্ডিং , ফ্ল্যাক্স লাগানো হয়েছে , এফ এম চ্যানেলে প্রচার অভিযান চলছে , বাংলা ও ককবরক ভাষায় অডিও প্রচার করা হচ্ছে । এছাড়াও বাংলা ও হিন্দি ভাষায় প্রেরণামূলক ভিডিও তৈরি করা হবে , সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের দ্বারা স্থানীয় টিভি চ্যানেলগুলিতে আবেদন জানানো হবে । ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী এবং তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের মন্ত্রীর আবেদনমূলক ভিডিওবার্তা প্রচারিত হয়েছে । মুখ্যমন্ত্রী জানান , তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উদ্যোগে আগরতলা শহরের উজ্জয়ন্ত প্রাসাদ প্রাঙ্গণ , সিটি সেন্টার , হেরিটেজ পার্ক , এমবিবি কলেজ ও ত্রিপুরা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ‘ সেলফি বুথ ’ তৈরি করা হয়েছে । এই সেলফি বুথে জাতীয় পতাকার সাথে ছবি তুলে harghartiranga.com এই ওয়েবসাইটে আপলোড করা যাবে । তাছাড়াও নিজ নিজ বাড়িতে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের ছবি এই ওয়েবসাইটে আপলোড করা যাবে ।
মুখ্যমন্ত্রী জানান , গত ১৭ জুলাই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ , কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রী জি কৃষাণ রেড্ডি এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের আধিকারিকদের সাথে হর ঘর তিরঙ্গা কর্মসূচিকে সফল করতে বিভিন্ন সময়ে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আলোচনা করা হয়েছে । এছাড়াও গত ২৫ জুলাই মুখ্যসচিবের উপস্থিতিতে বিভিন্ন দপ্তরের সচিব ও ৮ জেলার জেলাশাসক , পুলিশ সুপারদের নিয়ে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভার্চুয়াল সভার আয়োজন করা হয়েছিল ।
‘ হর ঘর তিরঙ্গা’ মহান এই কর্মসূচিকে সফল করে দেশের সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রবাদী চিন্তা চেতনাকে সুদৃঢ় করার জন্য রাজ্যবাসীর প্রতি আবেদন জানান মুখ্যমন্ত্রী । সাংবাদিক সম্মেলনে আজাদি কা অমৃত মহোৎসব বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান , আজাদি কা অমৃত মহোৎসব ৫টি থিমের উপর ভিত্তি করে পালন করা হচ্ছে।আজাদি কা অমৃত মহোৎসব উপলক্ষ্যে গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন ইভেন্টে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে । উল্লেখযোগ্য ইভেন্টগুলির মধ্যে রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর দ্বারা অলনাইনে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ১ লক্ষ ৪৭ হাজার ৮০৫ জন সুবিধাভোগীর মধ্যে প্রথম কিস্তি প্রদান , এম বি বি বিমানবন্দরের নতুন সুসংহত টার্মিনাল ভবনের উদ্বোধন , মিশন -১০০ বিদ্যাজ্যোতি প্রকল্প এবং মুখ্যমন্ত্রী ত্রিপুরা গ্রাম সমৃদ্ধি যোজনার উদ্বোধন ত্রিপুরার ৫০ তম পূর্ণরাজ্য পালনের অঙ্গ হিসেবে পোস্টাল স্ট্যাম্প প্রকাশ , বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য নাগরিকদের স্টেট সিভিল অ্যাওয়ার্ড এবং স্টেটহুড অ্যাওয়ার্ড প্রদান ইত্যাদি । এই সমস্ত অনুষ্ঠানের ফটোগ্রাফও amritmahotsav.nic.in পোর্টালে আপলোড করা হয়েছে । আজাদি কা অমৃত মহোৎসব উপলক্ষ্যে আয়োজিত বিভিন্ন ইভেন্ট এবং ফটোগ্রাফ amritmahotsav.nic.in পোর্টালে আপলোড করার ক্ষেত্রে ত্রিপুরা দেশের মধ্যে সপ্তম স্থানে রয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিক সম্মেলনে জানান ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.