ডেস্ক রিপোর্টার,৪জানুয়ারি।।
“ত্রিপুরায় এক সময় ভ্রষ্টাচারের গাড়ি চলতো।কিন্তু ব্রেক চেপে রাখা হয়েছিলো উন্নয়নের গাড়ির।এখন সেই ব্রেক উধাও।গোটা রাজ্যে চলছে উন্নয়ন।”—–বক্তা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।মঙ্গলবার রাজ্যে সফরে এসে শহরের স্বামী বিবেকানন্দ স্টেডিয়ামের জনসভায় একথা বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর রাজ্য সফর কেন্দ্র করে আগরতলা এমবিবি বিমান বন্দর থেকে শুরু করে স্বামী বিবেকানন্দ স্টেডিয়াম সহ গোটা শহর সেজে উঠেছিলো। এদিন প্রধানমন্ত্রী রাজ্যে এসে প্রথমে চলে যায় আগরতলা এমবিবি বিমান বন্দরের টার্মিনাল ভবনে।তিনি পরিদর্শন করেন গোটা টার্মিনাল ভবন। সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব ও কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রকের মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এমবিবি বিমান বন্দরের টার্মিনাল ভবন পরিদর্শন করে সোজা চলে আসেন স্বামী বিবেকানন্দ স্টেডিয়ামে। জনসভা স্থলে এসে রাজ্যের বেশ কয়েকজন বেনিফিসিয়ারীর সঙ্গে মঞ্চেই কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।এর পর একে একে বোতাম টিপে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এমবিবি বিমান বন্দরের টার্মিনাল ভবন, মিশন বিদ্যাজ্যোতি প্রকল্প ও মুখ্যমন্ত্রী গ্রামীণ সমৃদ্ধি যোজনার উদ্বোধন করেন।জনসভায় দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন,”২০১৮-র বিধসনসভা নির্বাচনের আগে আমি হীরা উপহার দেওয়ার কথা বলেছিলাম।এখন হীরা মডেলের মাধ্যমেই রাজ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রসার ঘটেছে।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন এমবিবি বিমান বন্দরের টার্মিনাল ভবনে প্রবেশ করলেই দেখা যায় মিনি ত্রিপুরাকে। দেশ-বিদেশের মানুষ বিমান বন্দরে পা রাখলেই ত্রিপুরা সম্পর্কে একটা স্বচ্ছ ধারণা পেয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হওয়াতে ত্রিপুরা এখন কারবারের হাব হয়ে উঠেছে।. জল,সড়ক,রেল ও আকাশ পথে এখন যোগাযোগের সমস্ত ব্যবস্থা রয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে ত্রিপুরার যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে।এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারেও সহজেই পৌঁছে যাবে ত্রিপুরা।এই মুহূর্তে ত্রিপুরা হয়ে উঠেছে গোটা উত্তর-পূর্বাঞ্চলের করিডোর। এর সুবিধা পাবে এই অঞ্চলের অন্যান্য রাজ্যেগুলিও।
নরেন্দ্র মোদী বলেন, কিষান রেলের মাধ্যমে ত্রিপুরার আনারস, কাঁঠাল পৌঁছে গেছে বিদেশের বাজারেও। ডাবল ইঞ্জিনের জন্যই ত্রিপুরা এই সুবিধা পাচ্ছে।আগামীদিনে ত্রিপুরার উন্নয়ন আরো বড় পরিসরে ছড়িয়ে পড়বে বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
এদিনের জনসভায় বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রকের মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন।তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে বিমান পরিবহনের ক্ষেত্রটি সেই ভাবে উন্নয়ন হয়নি।স্বাধীনতার পর থেকে গোটা দেশে বিমান বন্দর ছিলো মোট ১৪টি।কিন্তু নরেন্দ্র মোদীর জামানায় সাড়ে সাত বছরে গোটা দেশে বিমান বন্দর হয়েছে ৭০টি।পরিসংখ্যান দেখিয়ে কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রকের মন্ত্রী জানিয়েছেন, আগে গত উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এয়ারপোর্ট ছিলো ৭টি।এখন সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে মোট এয়ারপোর্টের সংখ্যা ১৭টি।হেলিপ্যাড রয়েছে ১৬টি। সব কিছুর পেছনেই রয়েছে নরেন্দ্র মোদীর মস্তিষ্ক। অন্যান্যদের মধ্যে জনসভায় উপস্থিত ছিলেন রাজ্যপাল সত্যদেব নারায়ণ আর্য্য, মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব ও উপ-মুখ্যমন্ত্রী জিষ্ণু দেববর্মন, কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী প্রতিমা ভৌমিক।

Leave a Reply

Your email address will not be published.