ডেস্ক রিপোর্টার,৪মে।।
“নিজের বেলায় ষোল আনা,আর অন্যের বেলায় আনাগুনা।”—– এই অবস্থা হয়েছে রাজ্যের এডিসির শাসক দল তিপ্রামথার সুপ্রিমো প্রদ্যুত কিশোরের। প্রদ্যুত কিশোর সম্পর্কে এই মন্তব্য করছে রাজ্য বিজেপি’র নেতৃত্ব।
” গত ১লা মে কংগ্রেস নেতা সুদীপ রায় বর্মনের দেহরক্ষী ও গাড়ির চালকের উপর আক্রমন করেছিলো দুস্কৃতিরা।” অভিযোগ সুদীপের। কংগ্রেস নেতা সুদীপ রায় বর্মনের দেহরক্ষী ও চালকের উপর আক্রমনের ঘটনা প্রসঙ্গে মুখ খুললেন মথার সুপ্রিমো প্রদ্যুত কিশোর।

প্রদ্যুত কিশোর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। ব্যাস, এক দলের রাজনৈতিক নেতারা আক্রান্ত হলে অপর দলের নেতৃত্ব নিন্দা জানাবেন, এটা স্বাভাবিক। এটা রাজনৈতিক সৌজন্যতা। প্রথা মেনে প্রদ্যুত কিশোরও তাই করেছেন।
সুদীপের নাম না করে প্রদ্যুত কিশোর সোশ্যাল মিডিয়ায় বলেছেন,” আজকের আগরতলার হিংসাত্মক ঘটনার নিন্দা করতে হবে দলমত নির্বিশেষে।গত বছরও আমার উপর এসডিএম অফিসে হামলা হয়েছিল এবং স্পষ্ট সিসিটিভি ফুটেজ থাকা সত্ত্বেও আজ পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি! এসব মোটরবাইক গ্রুপকে পুলিশের শিক্ষা দিতে হবে।”

বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, প্রদ্যুত কিশোর বাইক বাহিনীকে কাঠ গড়ায় তুলেছেন।এবং তাদের উপযুক্ত শাস্তির কথাও বলেছেন।কিন্তু কি চলছে পাহাড়ে? বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, পাহাড়ে সমান্তরাল সন্ত্রাস করছে তিপ্রামথা। মান্দাইয়ের ঘটনা সম্পর্কে সবাই ওয়াকিবহাল। বিজেপি’র মন্ডল অফিসে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর,কর্মীদের মারধর, বীরবিক্রমের মূর্তি পুড়িয়ে দেওয়া সব সীমাহীন সন্ত্রাস করেছে তিপ্রামথা। মান্দাইয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই আশারাম বাড়িতে বিজেপি’র ঘরোয়া সভায় আক্রমণ করে তিপ্রামথা। বিজেপি নেত্রী পাতালকন্যার লোকজনকে বেছে বেছে মারধর করছে মথার কর্মীরা। পাহাড় থেকে প্রতি মুহূর্তে ভেসে আসছে এই সংক্রান্ত খবর। অথচ এই গুলি নিয়ে প্রদ্যুত কিশোরের কোনো বক্তব্য নেই।
বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, প্রদ্যুত কিশোরের উচিত আগে পাহাড়ের সন্ত্রাস বন্ধ করা। তারপর সমতলের ঘটনা নিয়ে বিবৃতি দেওয়া। প্রদ্যুত কিশোরের লোকজন যখন পাহাড়ে হিংসাত্মক ঘটনা সংঘটিত করে তখন কোনো সমস্যা নেই।তখন প্রদ্যুত নীরব থাকেন। প্রদ্যুত কিশোরের উচিত মান্দাই, আশারাম বাড়ি, মোহনপুর সহ বিভিন্ন অঞ্চলে সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িত লোকজনকে পুলিশের হাতে তোলে দেওয়া। কিন্তু তিনি করবেন না।করলে মুখোশ সামনে চলে আসবে।
অন্যদিকে সুদীপ ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর রাজধর্ম পালন করেছেন। পুলিশ গ্রেফতার করেছে অভিযুক্তদের।এখন ঘটনার তদন্ত চলছে। পাহাড়ে কোনো ঘটনায় জড়িত তিপ্রা মথার লোকজনকে গ্রেফতার করতে গেলেই তারা পুলিশকেও পাল্টা আক্রমন করে। এই সংক্রান্ত অনেক ঘটনা রয়েছে।তারপরও প্রদ্যুত মুখ খোলেন নি।অথচ তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের নাম করেই বাইক বাহিনীকে খুচিয়ে প্রকারন্তে বিজেপি’র দিকেই আক্রমণের ‘বর্শা’ ছুড়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.