ডেস্ক রিপোর্টার,৫জানুয়ারি।।
“রাজ্যের উন্নয়নে ব্রেক কষে ছিলো পূর্বতন বাম সরকার”—-রাজ্য সফরে এসে বামেদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তুলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে সরব হয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিরোধী দলনেতা মানিক সরকার।বুধবার তিনি সাংবাদিক বৈঠক করে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন “ডাবল ইঞ্জিন” সরকারকে।
আগরতলা এমবিবি বিমান বন্দর থেকে রেল লাইন।জাতীয় সড়ক নির্মাণ থেকে শুরু করে বাংলাদেশের উপর দিয়ে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ব্রড ব্র্যান্ড লাইন।সব কিছুই কবর থেকে তুলে এনেছেন বিরোধী দল নেতা মানিক সরকার। রাজ্যের দুই দশকের মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, বাংলাদেশের সঙ্গে রেল পথ হয়েছে বামেদের সময়েই।কেন্দ্রের তৎকালীন ইউপিএ সরকার,ত্রিপুরা সরকার ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৌলতেই আগরতলা-ঢাকা রেলপথ হয়েছে।তারজন্য ডাবল ইঞ্জিন সরকারের কোনো ভূমিকা নেই। বাম সরকার ও রাজ্যের মানুষের আন্দোলনের ফলেই রাজ্য পেয়েছিল আটটি নতুন জাতীয় সড়ক। এক্ষেত্রে ডাবল ইঞ্জিন সরকার কিছু করেনি।মানিক সরকারের অভিযোগ, পাঁচ বছরে নতুন করে ১কিলোমিটার রেলপথও রাজ্য ও কেন্দ্রের বিজেপি সরকার।
আগরতলা এমবিবি বিমান বন্দরের প্রসঙ্গ টেনে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার বলেন, বাম সরকারের জামানাতেই নতুন টার্মিনাল বিল্ডিংয়ের কাজ শুরু হয়েছিলো। টার্মিনাল ভবন তৈরিতে ডাবল ইঞ্জিন সরকারের কোনো ধরনের হাত নেই। জমি অধিগ্রহণ থেকে শুরু করে অর্থ ব্যয় এবং টার্মিলাল ভবনের নির্মাণ সব আগেই সব হয়েছিল।
বাংলাদেশের কক্সবাজার থেকে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ব্রড ব্র্যান্ড লাইন টানা হয়েছিলো বাম সরকারের সময়েই।এটার উদ্বোধন করেছিলেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজেই। মানিক সরকার দাবি করেন, উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ব্রড ব্র্যান্ড লাইন ভিডিও কনফারেন্সে উদ্বোধনের সময় বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন,ত্রিপুরা এবং ভারতের প্রয়োজনের আরো উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ব্রড ব্র্যান্ড লাইন ইচ্ছা করলে নিতে পারে।তাতে বাংলাদেশ সর্বতো সাহায্য করবে।মানিক সরকারের প্রশ্ন ডাবল ইঞ্জিন সরকার কেন এরপর আরো উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ব্রডব্র্যান্ড লাইন করার জন্য চেষ্টা করেনি।
প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার প্রসঙ্গ টেনে মানিক সরকার বলেন, এই প্রকল্প নতুন নয়।২০১১-সালের প্রজেক্ট।২০১৪-তে বিজেপি কেন্দ্রে আসার পর রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কেন্দ্রের কাছে দাবি জানানো হয়েছিলো কাঁচা ঘরের পরিবর্তে পাকা ঘর দেওয়ার জন্য।কিন্তু তখন কেন্দ্রের মোদী সরকার তা কর্ণপাত করেনি।পরে বিজেপি শাসিত রাজ্যের পক্ষ থেকে একই দাবি উঠে।এরপরই পাকা ঘরের সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্র।মানিক সরকারের কথায়, এক্ষেত্রে শুধুমাত্র একজনের কৃতিত্ব দেওয়া ঠিক নয়।
রাজ্যের আনারস একবার বিদেশে পাঠানো হয়েছে।তারপর কৃষকরা আনারসের সঠিক দাম পাচ্ছে কি না তার কোনো খবর নেই।এই মুহূর্তে আনারস চাষীরা চাষ বন্ধ করে দিয়েছে।তারা সঠিক বাজার পাচ্ছে না বিক্রির জন্য।এই খবর রাখেন কি প্রধানমন্ত্রী?প্রশ্ন তুলেছেন মানিক।একই ভাবে সম্প্রতি অকাল বৃষ্টিতে কৃষকদের প্রচুর ক্ষতি হয়েছে।কিন্তু কৃষকদের এই ক্ষতিপূরণের বিষয়ে কোনো খোঁজ নেই ডাবল ইঞ্জিন সরকারের।অভিযোগ বিরোধী দলনেতার। রাজ্যের বাশঁবেত শিল্প নিয়েও প্রধানমন্ত্রীকে খোঁচা দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা।
মানিক সরকার প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, বামেরা ব্রেক কষার সরকার ছিলো না।ছিলো উন্নয়নের সরকার।এখন ডাবল ইঞ্জিন সরকার পামচার হয়ে মুখ থুবড়ে পড়েছে।এবং শিখিয়েছে ভোট জালিয়াতি ও ভোট ডাকাতির শিল্প।

Leave a Reply

Your email address will not be published.