ডেস্ক রিপোর্টার, ৫আগষ্ট।।
রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবের পরবর্তী রাজনৈতিক গন্তব্য কোথায়? বিপ্লব কুমার দেব কি ফের প্রদেশ বিজেপির সভাপতি হচ্ছেন? নাকি তাকে পাঠিয়ে দেওয়া হবে রাজ্যসভায়? তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু করেছে শহরের পোস্ট অফিস চৌমুনীর কংগ্রেস ভবন। বিপ্লবকে নিয়ে পোস্ট অফিস চৌমুনী সাদা বাড়ির এত কৌতুহল কেন? গুঞ্জন শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
রাজনৈতিক বিশারদদের বক্তব্য, প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্বের বর্তমান কার্যকলাপ থেকে স্পষ্ট তারা বিপ্লব কুমার দেবকে সমীহ করছে। তারা বিলক্ষণ বুঝতে পেরেছে, বিপ্লব কুমার দেবের হাতে ফের বিজেপির ব্যাটন আসলে কংগ্রেসের পক্ষে রাজনীতি করা অনেকটাই কঠিন হয়ে যাবে। ২৩- র বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের কোমর সোজা করে দাঁড়ানো কঠিন হয়ে যাবে। এই কারণেই বিপ্লব কুমার দেবের পরবর্তী রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রতি মুহূর্তে মাথা ঘামাচ্ছে কংগ্রেস নেতৃত্ব।
প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব ভালো করেই জানেন গোটা রাজ্যেই এখনো জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছেন বিপ্লব কুমার দেব। রাজ্যজুড়ে রয়েছে তাঁর প্রচুর অনুগামী।কারণ বিপ্লব কুমার দেবই ২০১৮ সালে বামেদের পরাজিত করে রাজ্যের মানুষকে মুক্তির স্বাদ এনে দিয়েছিলেন।বর্তমান প্রদেশ কংগ্রেসের হেভিওয়েট নেতা সুদীপ রায় বর্মন দীর্ঘদিন ধরেই বামেদের সঙ্গে লড়াই করেও রাজ্যকে বাম মুক্ত করতে পারেননি।

নিন্দুকরা বলে থাকেন, বামদের সঙ্গে গোপন সমঝোতার কারণেই রাজ্যের মানুষকে বামেদের নাগপাশ থেকে মুক্ত করতে পারেননি সুদীপ।অর্থাৎ ঘুরিয়ে বললে, রাজ্যের মানুষের সঙ্গে সুদীপ রায় বর্মন সহ তৎকালীন কংগ্রেস নেতৃত্ব দিনের পর দিন প্রতারণা করে গেছেন। ২৩- র ভোটকে সামনে রেখে ফের প্রতারণার ফাঁদ পেতেছেন সুদীপ রায় বর্মন।বামেদের সঙ্গে জোটের বার্তা দিয়েছেন তিনি। মানুষ সুদীপ রায় বর্মন সহ কংগ্রেস নেতৃত্বের এই ধরনের কার্যকলাপ কখনও মেনে নেবে না। বরং রাজ্যের সর্বত্রই আস্থা বাড়ছে বিজেপির প্রতি। সাধারণ মানুষ চাইছে ফের প্রদেশ বিজেপির ব্যাটন উঠে আসুক বিপ্লব কুমার দেবের হাতে।
প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব রাজ্যের সাধারণ মানুষের শিরা ধমনীর পালস বুঝতে পেরেছেন। এই কারণেই তারা আতঙ্কের প্রহর গুনছে বিপ্লব কুমার দেবকে নিয়ে।কংগ্রেস নেতৃত্ব বিভিন্নভাবে জানার চেষ্টা করছেন বিপ্লব দেবেই কি হবেন প্রদেশ বিজেপির পরবর্তী সভাপতি?
কংগ্রেস ভবনের অন্দর মহলের খবর অনুযায়ী, কংগ্রেসের তাবড় তাবড় নেতৃত্ব বলছেন, বিপ্লব কুমার দেব প্রদেশ বিজেপির সভাপতি না হলেই ভালো। যদি বিপ্লব প্রদেশ বিজেপির সভাপতি চেয়ারে বসেন, তাহলে ২৩র ভোটের আগেই গুটিয়ে যাবে কংগ্রেস। এই আতঙ্কেই এখন কাঁপছে পোস্ট অফিস চৌমুনির সাদা বাড়ি।
রাজনীতিকদের বক্তব্য, বাম জামানার টানা কুড়ি বছর বিরোধী আসনে থাকা কংগ্রেস প্রতিটি নির্বাচনে পূর্ণাঙ্গ শক্তি নিয়ে লড়াই করেছিল। ১৯৯৮ এ বিধানসভা নির্বাচনে ১০- র অধিক আসন পেয়েছিল কংগ্রেস। তারপর থেকে ধীরে ধীরে কংগ্রেসের আসন কমতে থাকে।২০১৩- সালে কংগ্রেসের আসন সংখ্যা দাঁড়ায় ৯- এ। ১৮ – বিধানসভা নির্বাচনে মোদী- বিপ্লব ঝড়ে কংগ্রেসের ভোট গিয়ে ঠেকেছিলো মাত্র ১.৫ শতাংশে।এই মুহূর্তে কংগ্রেসের একটি স্প্লিন্টার গ্রুপ লড়াই করছে মাত্র। স্বাভাবিক ভাবেই বর্তমান কংগ্রেস কতটা সাফল্য পাবে তা জলের মতো পরিস্কার। এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের কাছে গোদের উপর বিষ ফোঁড়ার মত কাজ করছেন বিপ্লব কুমার দেব।
বিপ্লব স্ব- মহিমায় ফিরলে বর্তমান প্রদেশ কংগ্রেস যে হাওড়া ও গোমতী জলে ভেসে যাবে তা বিলক্ষণ বুঝতে পারছেন কংগ্রেস নেতৃত্ব। এই আতঙ্ক থেকেই কংগ্রেস নেতৃত্ব তাদের ইষ্ট দেবের কাছ প্রার্থনা করছেন,বিপ্লব দেব যেন প্রদেশ বিজেপির সভাপতির চেয়ারে না বসতে পারেন। তার জন্যই নানান ভাবে বিপ্লবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করছে কংগ্রেস নেতৃত্ব। দাবি,বিপ্লব অনুগামীদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published.