*অভিজিৎ ঘোষ*
————————–
তৃণমূল কংগ্রেস কি ফুরিয়ে গেছে?
নাকি, পুর ও নগর ভোটে “অক্লান্ত পরিশ্রম” করে হাঁপিয়ে গেছেন দলের প্রদেশ ও বঙ্গ নেতৃত্ব?একই অবস্থা তৃণমূল কংগ্রেসের ভোট কৌশলী কর্পোরেট সংস্থা “আই-প্যাক।”
আগরতলা পুর নিগম ভোটে প্রায় কুড়ি শতাংশের কাছাকাছি ভোট পেয়ে গোলক ধাঁধাঁ দেখছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব। তারা বিপ্লব দেবের সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করার মতো কোনো ইস্যু খোঁজে পাচ্ছে না।তাহলে বলতেই হয়,বিপ্লব দেবের নেতৃত্বে রাজ্য চলছে ভালোভাবেই।
তৃণমূল কংগ্রেস বিপ্লব দেবের সরকারের বিরুদ্ধে কোনো যুৎসই ইস্যু না পেয়ে একটি “পাতি” বিষয়কে ইস্যু করার চেষ্টা করছে।কিন্তু ঘাসফুলের এই ইস্যু রাজ্যে রাজনীতির বাজারে পুরোপুরি ফ্লপ বলেই বিবেচিত হবে। তৃণমূল কংগ্রেসের এই পাতি ইস্যু দেখে মুস্কি হাসি হাসছেন রাজনীতিকরা। তৎসঙ্গে প্রদেশ তৃণমূল কংগ্রেসের থিঙ্ক-ট্যাঙ্কদের রাজনীতির গভীরতাও মাপতে পেরেছেন সংশ্লিষ্ট মহল। তৃণমূল কংগ্রেসের ভোট কৌশলী সংস্থা আই-প্যাকের ত্রিপুরায় কর্মরত লোকজন রাজ্য রাজনীতির ময়দানের ঘাস কতটা মাপতে পেরেছেন তাও জলের মতো পরিষ্কার হয়ে গেছে। বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে প্রশান্ত কিশোরের আই-প্যাক সফলতা পেলেও তারা এখনো ত্রিপুরার মাটির গন্ধ শুঁকতে ব্যর্থ।তাদের বর্তমান কার্যকলাপ দেখে মনে হয় আগামী দিনেও ত্রিপুরাতে আই-প্যাক কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারবে না।বলছেন রাজনীতির বিশারদরা।
প্রদেশ তৃণমূল কংগ্রেসের থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক ও তাদের ভোট কৌশলী সংস্থার সম্পর্কে কেন ভোট বিশেষজ্ঞরা এই ভবিষ্যৎ বাণী করছেন?তার উপযুক্ত ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তারা।ভোট বিশ্লেষকরা বলছেন, শনিবার তৃণমূল কংগ্রেসের টুইটার পেজে একটি পোস্ট দেওয়া হয় রাজ্যের দুর্ঘটনা সংক্রান্ত বিষয়ে। টুইটারে তৃণমূল কংগ্রেসের পোস্টে লেখা ছিলো, “বিপ্লব দেবের শাসনে ত্রিপুরাবাসীর জীবনের কোনও মূল্য নেই!
শেষ তিন বছর দশ মাসে ত্রিপুরায় পথ দুর্ঘটনায় মৃত ৭৯০জন!পথ দুর্ঘটনার হার কমাতে বিপ্লব দেবের সরকারের ভূমিকা কি?”
অর্থাৎ ভোট পরবর্তী পরিস্থিতিতে তৃণমূল কংগ্রেস খোঁজে পেলো গরম ইস্যু ” যান সন্ত্রাস”।তাহলে তৃণমূল কংগ্রেসের কথায় বাকি সব প্রায় ঠিকঠাক।এখন যান সন্ত্রাসের ইস্যুকে সামনে রেখে বিজেপি সরকারকে জব্দ করতে চাইছে তৃণমূল! ঘাসফুল শিবির টুইটারে দুর্ঘটনার পরিসংখ্যানও দিয়েছে। টুইটারে দেওয়া তৃণমূল কংগ্রেসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৮-তে রাজ্যে যান সন্ত্রাসের বলি হয়েছে ২০৬জন।২০১৯-এ ২৩৪জন।২০২০-এ ১৮৮জন ও ২০২১-র অক্টোবর পর্যন্ত দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৬২ জন। তৃণমূল কংগ্রেসের পরিসংখ্যান থেকে স্পস্ট শেষ দুই বছরে যান সন্ত্রাসে কমেছে মৃত্যুর সংখ্যা। এক্ষেত্রে অবশ্যই ক্রেডিট পাবে বিপ্লব দেবের সরকার।এটাই স্বাভাবিক।বলছেন রাজনীতির প্রাজ্ঞরা।
রাজনীতিকদের কথায়, প্রদেশ ও বঙ্গ তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্ব সহ আই-প্যাকের জেনে রাখা ভালো ত্রিপুরাতে বাম জামানায় দুর্ঘটনার আরো বেশি ছিলো বৎসরান্তে। ২০১০-র শেষ দিকেআগরতলা-বিশালগড় সড়কের ভূঞার মাথা এলাকায় দুই কামান্ডারের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৩জনের মৃত্যু হয়েছিলো।এটাই রাজ্যে শেষ বড় দুর্ঘটনা।এই ঘটনার পর তৎকালীন বাম সরকার অনেক বেশি সতর্ক হয়েছিলো যান দুর্ঘটনা রুখতে। নিয়েছিলো বেশ কিছু পদক্ষেপ।এবং তারা সফলও হয়েছিলো।তারপর থেকে রাজ্যে দুর্ঘটনার সংখ্যা কমতে শুরু করে।
রাজ্য অরক্ষা দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ভূঞার মাথার ঘটনার পর যান সন্ত্রাসে এক সঙ্গে এতো লোকের মৃত্যু হয়নি রাজ্যে।২০১৮ থেকে এখন পর্যন্ত এমন কোনো ভয়াবহ ঘটনা ঘটেনি। স্বাভাবিক ভাবেই যান দুর্ঘটনার মত ইস্যু রাজ্য রাজনীতিতে ‘পাতেই’ উঠবে না। ২০১৮-তে বিজেপিও বামেদের বিরুদ্ধে যান সন্ত্রাসকে হাতিয়ার করেনি।কারণ বিজেপি নেতৃত্ব জানতেন ত্রিপুরাতে এটা ধূপে টেকবে না। আর বর্তমানে রাজ্য রাজনীতিতে “যান সন্ত্রাস” অকেজো ইস্যু। অথচ তৃণমূল নেতৃত্ব ও আইপ্যাক চারপাশে চোখ-কান খোলা রাখলে আরো অন্তত মান বাঁচানোর ইস্যু পেয়ে যেতো।তবে বাদবাকিটা তাদের বিষয়।কিন্তু এধরণের পাতি ইস্যু দিয়ে রাজ্যের মানুষকে বোকা বানিয়ে বিজেপি’র বিরুদ্ধে যে মাঠে নামানো যাবে না তা হলফ করে বলছেন রাজনীতিকরা।
বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য, গত মাসেই পশ্চিমবাংলায় একটি সড়ক দুর্ঘটনায় এক সঙ্গে ১৮জনের মৃত্যু হয়েছে।দেশের বিভিন্ন রাজ্যে প্রতিদিন ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনায়।মানুষ বলি হচ্ছে যান সন্ত্রাসের।এই সমস্যা সারা দেশেই।অথচ তৃণমূল কংগ্রেস বাংলার সড়ক দুর্ঘটনার তথ্য না দিয়ে ত্রিপুরার যান সন্ত্রাস নিয়ে সরব হচ্ছে।আসলে তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে বিপ্লব দেবের সরকারের বিরুদ্ধে কোনো ইস্যু খোঁজে পাচ্ছে না তৃণমূল কংগ্রেস।তাই শেষ পর্যন্ত হতাশাগ্রস্থ হয়ে যান সন্ত্রাসকে ইস্যু করতে চাইছে।এই ধরণের ইস্যু অবশ্যই রাজ্য রাজনীতির ‘হাসির খোরাক’ বলেই মনে করছেন প্রদেশ বিজেপি’র নেতৃত্ব।

Leave a Reply

Your email address will not be published.