ডেস্ক রিপোর্টার, ৮জুলাই।।
“এই সেই আগরতলার নটোরিয়াস নেতা যার জন্য আপনারা ভোট দিয়েছেন? এই সেই নাটুকে নেতা যে উপনির্বাচনের ২ দিন আগে মানুষের সহানুভূতি আদায় করতে আক্রান্ত হওয়ার নাটক করেছিল। ২০২৩-এ একে নির্বাচন করার আগে দু’বার ভাবুন।”….. রাজ্যের কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন সম্পর্কে তৃণমূল কংগ্রেসের কয়েকটি হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপে এই সংক্রান্ত পোস্ট করা হয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের গ্রুপ গুলিতে দাবি করা হয়েছে, সুদীপ রায় বর্মন নাটোরিয়াস নেতা এবং তার বিরুদ্ধে থাকা বিভিন্ন ফৌজদারী মামলা তথ্য দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে একটি গ্রুপের নাম হয়েছে “অভিষেক ব্যানার্জী অফিসিয়াল গ্রুপ।” অন্যটি “অল ত্রিপুরা টিএমসি(মেম্বার)”। শুক্রবার সকালে এই খবর প্রকাশিত হয় রাজ্যের জনপ্রিয় নিউজ পোর্টাল “জনতার মশাল”- এ।


এই খবর সম্প্রচারিত হওয়ার পর ঝড় উঠে রাজ্য রাজনীতিতে। বাদ যায়নি, বাংলার রাজনীতির অঙ্গনও। টনক নড়ে তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বের। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত প্রদেশ তৃণমূল বা বঙ্গ তৃণমূলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোন প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে “নীরবতা”র ইশারার গভীরতা যে অনেক বেশি, তা কালে কা প্রমাণিত। তৃণমূল কংগ্রেসের ভোট সমীক্ষক সংস্থা আই- প্যাকের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, “অভিষেক ব্যানার্জী অফিসিয়াল” নামে কোনো হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপ তাদের নেই।ব্যাস, কিন্তু “অল ত্রিপুরা টিএমসি (মেম্বার ) এই গ্রুপ সম্পর্কে কিছুই বলেনি। তৃণমূলের ভোট সমীক্ষক সংস্থা “আই- প্যাক”র পক্ষ থেকে “জনতার মশাল”কে আকার – ইঙ্গিতে আইনি জুজুও দেখানো হয়েছে।তাতে অবশ্যই বিচলিত নয় “জনতার মশাল”। জনতার মশাল’র আইনী লড়াইয়ের গভীরতা অনেক দীর্ঘ। পূর্বতন বাম জামানার একটি মামলার আইনী লড়াইয়ে জয়ী হয়েই “জনতার মশাল” মানুষের আশীর্বাদকে পুঁজি করে ফের পথ চলা শুরু করেছে। এটা অবশ্যই আই-প্যাক সদস্যদের জানা নেই।এই রাজ্যে বাম জামানায় মন্ত্রিসভার একজন সদস্য মাত্র ৩৯দিনের মাথায় তাঁর মন্ত্রীত্ব হারিয়ে ছিলেন।তার পেছনেও মূল হোতা ছিলেন “জনতার মশাল”র কান্ডারী। আর বর্তমান বিজেপি সরকারের সময়ের ঘটনা সম্পর্কে খোঁজ নিলেই জানতে পারবেন বঙ্গ তৃণমূল নেতৃত্ব এবং তাদের ভোট সমীক্ষক সংস্থা আই – প্যাক। কোনো রাজনৈতিক দল বা রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে “জনতার মশাল” র শত্রুতা বা বৈরীতা নেই। সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালো বলার ক্ষমতা রাখে “জনতার মশাল”।যদি কেউ মনে করেন “জনতার মশাল”র এই বক্তব্যে কোথায় তঞ্চকতা আছে,তাহলে “জনতার মশাল”র সম্প্রচারিত খবরে চোখ বুলিয়ে নিতে পারেন। সুতরাং “জনতার মশাল” বহু ঝড় ঝাপটাকে অতিক্রম করেই এগিয়ে চলছে বীরদর্পে। তবে আইপ্যাকের এই আইনি জুজু’র মধ্য দিয়ে একটা বিষয় পরিস্কার পশ্চিম বাংলায় সংবাদ মাধ্যমের গণতান্ত্রিক অধিকার কতটা সুরক্ষিত?


আইপ্যাকের বক্তব্য অনুযায়ী, “অভিষেক ব্যানার্জীর অফিসিয়াল” গ্রুপটি ভুয়ো।যদি তাই হয়ে থাকে তাহলে, “জনতার মশাল” কোনো দোষ করে নি। বরং সর্ব ভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চোখ খুলে দিয়েছে।তাহলে কি অভিষেকের নাম বাড়িয়ে ব্যাঙের ছাতার মতো হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপ ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে?এটা বাংলাতেই হোক বা ত্রিপুরাতেই হোক। কোথায় বাংলার নামজাদা গোয়েন্দা – পুলিশ? কোথায় বাংলার সাইবার সেল? কোথায় ত্রিপুরার তথা কথিত নেটওয়ার্ক সমৃদ্ধ পুলিশ?তাহলে কি, কোথায়ও রয়েছে নিরাপত্তার খামতি।
“অভিষেক ব্যানার্জী অফিসিয়াল” এই গ্রুপে পাওয়া স্ক্রিন শটে স্পষ্ট ভাবে চন্দ্রিমা এবং দেবাংশু ও দীপান্বিতার নাম রয়েছে। বাংলার রাজনীতিতে চন্দ্রিমা এবং দেবাংশু পরিচিত মুখ।এই সম্পর্কে “জনতার মশাল”র নতুন করে বলার কিছু নেই। বাংলার পাশাপাশি ত্রিপুরার রাজনীতির অঙ্গনের মানুষও চন্দ্রিমা এবং দেবাংশু সম্পর্কে ওয়াকিবহাল।” আর দীপান্বিতা প্রদেশ তৃণমূলের অংশ। এটা অবশ্যই না করতে পারবেন না প্রদেশ তৃণমূল নেতৃত্ব। “জনতার মশাল”র হাতে আসা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের প্রাপ্ত স্ক্রিন শট অনুযায়ী সুদীপ রায় বর্মন সম্পর্কিত পোস্টটি করা হয়েছিল গত ৫ জুলাই। তবে তৃণমূল কংগ্রেস এখন দাবি করতেই পারে,এই গ্রুপে থাকা চন্দ্রিমা ও দেবাংশু তাদের নেতা- নেত্রী নন।এটা অন্য কেউ। তাহলে কি মানতে হবে, অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের নামে হোয়াটস অ্যাপে ফেক অ্যাকাউন্ট করে তার অনুগামীদের “ফেক” নামও জড়িয়ে দেওয়া হয়েছে? এটাও সম্ভব! এই প্রশ্নের উত্তর অবশ্যই খুঁজবেন আমজনতা।
“জনতার মশাল”র হাতে আসা “অভিষেক ব্যানার্জী অফিসিয়াল” এই হোয়াটস অ্যাপস গ্রুপের স্ক্রিন শট অনুযায়ী, গ্রুপে সুদীপ রায় বর্মন সংক্রান্ত পোস্টটি করেছেন গোবর্ধন দেবরায় নামে এক ব্যক্তি।তার মোবাইল নাম্বার ৯৮৩১১৫…..(নিরাপত্তার জন্য শেষ চারটি সাংখ্য দেওয়া হয়নি।)। তিনি কে? এটা অবশ্যই অনুসন্ধান করার দায়িত্ব রইল সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বের উপর।


এবার আসা যাক, অল ত্রিপুরা টিএমসি (মেম্বার) এই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের বিষয়ে। তৃণমূল কংগ্রেসের এই গ্রুপটিতেও কংগ্রেস নেতা সুদীপ রায় বর্মনের বিরুদ্ধে পোস্ট করা হয়েছে। এখানেও লেখা হয়েছে,”এই সেই আগরতলার নটোরিয়াস নেতা যার জন্য আপনারা ভোট দিয়েছেন? এই সেই নাটুকে নেতা যে উপনির্বাচনের ২ দিন আগে মানুষের সহানুভূতি আদায় করতে আক্রান্ত হওয়ার নাটক করেছিল। ২০২৩-এ একে নির্বাচন করার আগে দু’বার ভাবুন।”. স্ক্রিনশট থেকে এই গ্রুপের কয়েকজন সদস্যদের নামও পাওয়া গিয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন আব্দুল আজল, অনিতা,বিশ্বনাথ ও বাপটু। প্রদেশ তৃণমূল নেতৃত্ব যে সংশ্লিষ্ট নামগুলি সম্পর্কে ওয়াকি বহাল তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তৃণমূল কংগ্রেসের এই গ্রুপেও সুদীপের বিরুদ্ধে পোস্টটি করা হয়েছে ৭০৮৫২৭..(নিরাপত্তার কারণে শেষ চারটি নম্বর দেওয়া হয়নি।) এই মোবাইল নম্বর থেকে। কংগ্রেস নেতা সুদীপ রায় বর্মনের বিরুদ্ধে করা পোস্টের নিচেই প্রদেশ তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি সুবল ভৌমিকের একটি নিউজের ক্লিপিং পোস্ট করেছেন শান্তনু আচার্য নামে এই গ্রুপেরই একজন সদস্য। শান্তনুর পোস্ট থেকে প্রমাণিত এই গ্রুপের সঙ্গে প্রদেশ তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বের সম্পর্ক রয়েছে।
রাজনীতিকরা বলছেন, কোনটা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈধ অফিশিয়াল হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপ বা কোনটা অল ত্রিপুরা টিএমসি( মেম্বার) বৈধ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ, এটা অবশ্যই তদন্ত সাপেক্ষ। কিন্তু এটা স্পষ্ট এই দুইটি গ্রুপের নাম দিয়ে সুদীপ রায় বর্মনের বিরুদ্ধে বাংলা ও ত্রিপুরায় প্রচার শুরু হয়েছে।রাজনীতির ময়দানে এটা স্বাভাবিক। একে অপরকে ঘায়েল করতে নেবে রণ কৌশল। আর “জনতার মশাল” শুধু মাত্র নিরপেক্ষ ভাবে এই খবর সম্প্রচার করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.