ডেস্ক রিপোর্টার,৯জানুয়ারি।।
২৩-র মহারণকে সামনে রেখে ঘর সাজাচ্ছে শাসক দল বিজেপি। প্রতিদিন শক্তি বাড়ানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছে তৃণমূল কংগ্রেস।ঘর ছুটদের ঘরে এনে পুরানো ছন্দে আসতে চাইছে কংগ্রেস।
কিন্তু কি করছে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল সিপিআইএম? বামেদের কার্যকলাপ জানতে উদগ্রীব রাজনৈতিক মহল।। সিপিআইএমের অতুর ঘরের খবর, বসে নেই তারা।২৩-র মহারণ জয়ী হয়ে ফের ক্ষমতা দখলের স্বপ্ন দেখছে কমিউনিস্টরা। জলের উপরে কমিউনিস্টদের নীরব দেখলেও জলের নিচে ” সিক্রেট কারেন্ট”। দলের সংগঠনকে মালায় গাঁথার কাজ অনেক আগে থেকেই শুরু করেছে কমিউনিস্টরা। তাদের হাতিয়ার মোবাইল সেট ও হোয়াটস অ্যাপ।
কমিউনিস্টদের গর্ভগৃহের পাওয়া খবর অনুযায়ী, বামেরা এখন হোয়াটস অ্যাপকে ব্যবহার করে সংগঠনকে শক্তিশালী করছে।নেতা-কর্মীরা প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কার্যকলাপ কম করলেও হোয়াটস অ্যাপের মাধ্যমে তারা প্রতিদিন সাংগঠনিক কার্যকলাপ করছে। তাছাড়া সপ্তাহে একদিন করে মোবাইলে চলে ভার্চুয়াল(নানান অ্যাপের মাধ্যমে) মিটিং। বামেদের ব্রাঞ্চ কমিটি থেকে লোকাল কমিটি এবং জেলা কমিটি থেকে মহকুমা কমিটি এবং রাজ্য কমিটিতে একই কায়দায় চলছে সাংগঠনিক কাজকর্ম।
বাম নেতা কর্মীদের মোবাইলে,মোবাইলে ২০-২৫টি হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপ রয়েছে।এই সমস্ত গ্রুপের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত কথাবার্তা ও সংগঠনের নানান পরিকল্পনার কথা শেয়ার করা হয়ে থাকে।স্বাভাবিক ভাবেই বাম নেতা-কর্মী সমর্থকরা মানসিক ভাবে বুস্টআপ হয়ে আছে।তারা ছোট পরিসরে ভার্চুয়াল মিটিংয়ের সেরে নিয়েছে উঠান সভার কাজও। সিপিআইএমের বিভিন্ন শাখা সংগঠনগুলিও একই ভাবে সক্রিয় হয়ে মোবাইল ব্যবহার করে চালিয়ে যাচ্ছে সাংগঠনিক কর্মসূচি।
মেলারমাঠের এক শীর্ষ নেতার দাবি, তাদের ভোট ব্যাংক “ইনটেক” রয়েছে।পুর ও নগর ভোটে মানুষকে ভোট দিতে দেয়নি বিজেপি।তাই তারা কম ভোট পেয়েছে।নির্বাচন স্বচ্ছ হলে ভোটের অঙ্ক রকম হতো।তবে বিধানসভা ভোট এই রকম ভাবে হতে দেবেন বামেরা।তারা ঝাঁপিয়ে পড়বে সর্ব শক্তি নিয়ে।তার জন্যই এই মুহূর্তে ঝামেলা এড়ানোর জন্য সিপিআইএমের সর্ব স্তরের নেতা-কর্মী-সমর্থকরা
হোয়াটস অ্যাপকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।অর্থাৎ বামেরা এখন সংগঠনকে ধরে রাখতে প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেছে।
শুধু সিপিআইএম নয়। রাজ্যের বাম ঐক্যের পরিধিতে থাকা সিপিআইএমের অন্যান্য শরিকরাও একই ভাবে হোয়াটস অ্যাপকে হাতিয়ার করে সাংগঠনিক কার্যকলাপ জারি রাখছে। অর্থাৎ ২৩-র ভোট যুদ্ধের জন্য কমিউনিস্টরা গকুলেই তাদের কর্ম পরিকল্পনা চালিয়ে যাচ্ছে।
ইতিপূর্বে সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী ঘোষণা দিয়েছিলেন, ফেব্রুয়ারি মাসে হবে দলের রাজ্য সম্মেলন।রাজ্য সম্মেলন উপলক্ষ্যে করা হবে প্রকাশ্য জনসভা।কিন্তু সোমবার থেকেই করোনার আস্ফালনের জন্য রাজ্যে লাগু হচ্ছে নাইট কার্ফু। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমস্ত রাজনৈতিক দলের মিছিল,মিটিং বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।প্রাথমিক ভাবে এই নাইট কার্ফু জারি থাকবে আগামী ২০জানুয়ারি পর্যন্ত।তবে রাজ্যে করোনা সংক্রমণের গতি বাড়ছে প্রতিদিন।এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে করোনার বিধি নিষেধ আরো কঠোর হতে পারে। রাজনীতিকরা বলছেন,এক্ষেত্রে বামেদের প্রকাশ্য সমাবেশ না হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকবে।স্বাভাবিক ভাবেই সাংগঠনিক কার্যকলাপের জন্য বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের উপরই জোর দিতে বাধ্য হবে বামেরা। আগামী বিধানসভা ভোটে বামেরাও যে ছেড়ে কথা বলবে না, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।সাম্প্রতিক কালে বামেদের শরীরী ভাষা থেকে তা প্রমাণিত ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.