*অভিজিৎ ঘোষ*
******************
নৃপেন চক্রবর্তী-দশরথ দেব-মানিক সরকার।রাজ্যের এই তিন কমিউনিস্ট নেতা বিভিন্ন সময়ে ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী।১৯৭৮ থেকে ১৯৮৮ এবং ১৯৯৩ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত টানা ৩৫ বছর বামেদের হাতে ছিলো রাজ্যের ক্ষমতা।
বামেদের ৩৫ বছরের শাসন কালে রাজ্য হয়েছিল রক্তস্নাত।বামেদের ধারাবাহিক অনাচারে এক সময় ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন মা ত্রিপুরা সুন্দরী।অবশেষে ১৮-তে পতন ঘটে বামেদের।
বাম জামানার ৩৫ বছরের সারা রাজ্যে খুন হয়েছে কয়েক ডজন।তবে প্রতিটি খুনের প্রেক্ষাপট ছিলো আলাদা। । কখনো ঘটেছে রাজনৈতিক হত্যাকান্ড,আবার কখনো গ্যাং-ওয়ারে মৃত্যু ।কিন্তু বাম প্রশাসন ছিলো নির্বিকার।আজও এই সব হত্যাকাণ্ডের কোনো কিনারা হয়নি। বাম জামানার ৩৫ বছরে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের উপাখ্যান তুলে ধরা হয়েছে এই প্রতিবেদনে।



** মুখ্যমন্ত্রী: নৃপেন চক্রবর্তী।

**শাসন কাল: ১৯৭৮ থেকে ১৯৮৮


*নৃপেন্দ্র পাল হত্যাকাণ্ড*
………………………………
রাজ্যের প্রথম রাজনৈতিক হত্যাকান্ড ঘটে খোয়াইয়ে। ১৯৭৮-এ বামেরা ক্ষমতায় আসার পর কংগ্রেসের প্রধান নৃপেন্দ্র পালকে প্রকাশ্যে খুন করা হয়েছিলো খোয়াইয়ে।দিনদুপুরে প্রধান নৃপেন্দ্র পাল রিকশা করে যাচ্ছিলেন।তখনই যমদূতরা রাস্তায় প্রধান নৃপেন্দ্র পালের পথ অবরোধ করে দা-দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছিলো।নৃপেন্দ্র’র রক্তে লাল হয়েছিলো রিকশা। রাজনৈতিক মহলে আজও গুঞ্জন, নৃপেন্দ্র পালকে যে হত্যা করা হবে তা জানতেন তৎকালীন বাম মুখ্যমন্ত্রী নৃপেন চক্রবর্তী।কিন্তু খুন হওয়া প্রধান নৃপেন্দ্র পালের পরিবার কোনোদিন বিচার পায়নি।ধরা পড়েনি খুনিরা।কারণ হত্যাকারীরা হার্মাদ বাহিনীর সদস্য।

*গৌতম দত্ত হত্যাকান্ড *
. ……………………………
গৌতম দত্ত ছিলেন বিশালগড় বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক। তিনি সিপিআইএম’র টিকিটে পাশ করেছিলেন।১৯৮০ সালে দিন দুপুরে ক্ষমতাসীন দলের বিধায়ককে দুস্কৃতিরা ডেকে এনে হত্যা করেছিলো।তখন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন নৃপেন চক্রবর্তী।কিন্তু বিধায়ক গৌতম দত্তের খুনিদের টিকির নাগাল পায়নি তৎকালীন সময়ে বাম প্রশাসনের লোকজন।এটাই ছিলো রাজ্যের প্রথম বিধায়ক হত্যাকান্ড।

*পরিমল সাহা হত্যাকান্ড*
……………………………..
সিপিআইএম বিধায়ক গৌতম দত্তের হত্যাকাণ্ডের তিন বছরের মধ্যেই বিশালগড়ে খুন হয়েছিলেন কংগ্রেস বিধায়ক পরিমল সাহা।১৯৮৩-সালের কোনো এক দুপুরে বিশালগড় ব্লকে যাওয়ার পথে অফিসটিলা এলাকায় নৃশংস ভাবে দুস্কৃতিরা খুন করেছিলো বিধায়ক পরিমল সাহাকে।তবে দীর্ঘ ২৭ বছর পর এই মামলার বিচার হয়েছিলো আদালতে।এবং দোষীদের শাস্তি ঘোষণা করেছিল আদালত।এখন বিশালগড় কেন্দ্রীয় কারাগারে অবস্থান করছে খুনিরা।

*শঙ্কর-জয়ন্ত হত্যাকান্ড*
……………………………….
নৃপেন চক্রবর্তীর জামানাতেই নৃশংস ভাবে খুন হয়েছিলো পলিটেকনিক কলেজের দুই ছাত্র শঙ্কর ভৌমিক ও জয়ন্ত ভট্টাচার্য। কলেজের হোস্টেলেই তাদের খুন করেছিলো হার্মাদ বাহিনী। হার্মাদ বাহিনীর সদস্যরা জিপ গাড়ি নিয়ে পলিটেকনিকের দুই ছাত্রকে ধাওয়া করেছিলো।শঙ্কর-জয়ন্ত ছিলো বাইকে(বুলেট)।ঊষা বাজার ছিনাইহানি থেকে তাদের ধাওয়া করে পলিটেকনিক কলেজের হোস্টেল কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।সেখানেই তাদের জবাই দেয় হার্মাদ বাহিনীর হায়নারা।


* মুখ্যমন্ত্রী: দশরথ দেব
*শাসন কাল: ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৮


*সুখরাম দেববর্মা হত্যাকাণ্ড*
……………………………………
সুখরাম দেববর্মা ছিলেন এসডিও (টিসিএস অফিসার)। নির্মাণ কাজ নিয়ে বাম নেতৃত্বের সঙ্গে খটকা লাগে তৎকালীন সময়ের সদর এসডিও সুখরাম দেববর্মার।তখনই সুখরামকে খালাস করার পরিকল্পনা নেয় বাম মদতপুস্ট অপরাধীরা।কথিত আছে সুখরাম দেববর্মা যে খুন হবেন তা জানতেন তৎকালীন সময়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সমর চৌধুরী। ১৯৯৩-র কোনো এক বিকালে অফিস থেকে বের হাওয়ার সময় প্রকাশ্যে সুখরাম দেববর্মাকে গুলি করে দুস্কৃতিরা। আশঙ্কা জনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য সুখরামকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল কলকাতায়।সেখানেই এই টিসিএস অফিসারের মৃত্যু হয়। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুস্কৃতিদের টিকির নাগাল পায়নি বাম প্রশাসন।ঘুরিয়ে বললে বাম নেতৃত্বের কথায় পুলিশ গ্রেফতার করেনি সুখরাম দেববর্মার আততায়ীদের। তারা আজও বহাল তবিয়তে। সম্প্রতি সুখরাম দেববর্মা হত্যাকাণ্ডের পুনঃ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব।

*সেলিম মিয়া হত্যাকান্ড*
……………………………….
সেলিম মিয়া ছিলেন বাম ছাত্র সংগঠন এসএফআই’র রাজ্য নেতা। সেলিম নেতা হওয়ার সুবাদে তার দাপট ছিলো।এই সময় বাধারঘাট দশরথ দেব স্টেডিয়ামের কাজ নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছিলো শহর দক্ষিণের মাফিয়া স্বপন দাসের সঙ্গে। উভয়ের বাড়ি শহর দক্ষিনের পশ্চিম প্রতাপগড় এলাকায়। স্টেডিয়ামের নির্মাণ কাজের বরাত পাওয়া কেন্দ্র করে স্বপন দাসের লোকজন দিনদুপুরে বড়দোয়ালি স্কুলের পেছনের রাস্তায় খুন করেছিলো সেলিমকে। সেলিম খুনের পর নিয়ম অনুযায়ী মামলা হয় পশ্চিম থানায়।কিন্তু পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।খুনিরা আজও বহাল তবিয়তে।সেলিমের খুনিদের কয়েকজন পরবর্তী সময়ে বাম নেতাদের হাত ধরে বাগিয়ে নেয় পুলিশের চাকরি। কিন্তু ছাত্র নেতা সেলিমের পরিবার আজও পায়নি বিচার।

*স্বপন দাস হত্যাকান্ড*
……………………………
১৯৯৩ সালে বামেরা ক্ষমতায় আসার প্রধান পাঁচটি কারণের মধ্যে অন্যতম ছিলো পুলিশ আন্দোলন। পুলিশ আন্দোলনের একজন নেতা ছিলেন স্বপন দাস।তিনি পুলিশের হাবিলদার ছিলেন। পাশাপাশি শহর দক্ষিণে স্বপন দাসের ছিল একটি সামাজিক সংস্থা।এই সামাজিক সংস্থার অন্তরালে সমান্তরাল ভাবে চলতো নিগোসিয়েশন ব্যবসাও। বাম ছাত্র নেতা সেলিম মিয়াকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিয়ে সাম্রাজ্য বিস্তার করেছিলো স্বপন দাস।কিন্তু তিনিও বেশিদিন থাকতে পারেন নি পৃথিবীতে।সেলিম হত্যার এক বছরের মধ্যেই পাল্টা বদলা হিসাবে খুন হন স্বপন দাস।আততায়ীরা রাতেই আঁধারে বাড়িতে গিয়ে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে।স্ত্রীর সামনেই ভোজালি দিয়ে জবাই দেয় তাকে।এরপর মৃত্যু নিশ্চিত করতে খুব সামনে থেকে বুকে গুলি করে।এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ডকে “ডাকাতি”বলে চালিয়ে দেয় পুলিশ। শহর দক্ষিনের সেলিম মিয়া ও স্বপন দাসের ঝামেলা নিয়ে দুই তাবর বাম নেতা বিভক্ত হয়ে গিয়েছিলো।একজন স্বপন দাসের পক্ষ নিয়েছিলেন বাম নেতা বাদল চৌধুরী।
ছাত্র নেতা সেলিমের পক্ষ নিয়েছিলেন তৎকালীন মন্ত্রী অনিল সরকার। শহর দক্ষিণে এখনও সেলিম-স্বপনের বিষয় উঠে আসলেই ভেসে আসে দুই কমিউনিস্ট নেতার নামও।


**মুখ্যমন্ত্রী: মানিক সরকার
*শাসন কাল: ১৯৯৮ থেকে ২০১৮

কমিউনিস্ট মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের ২০বছরের রাজত্ব কালে কত রক্ত ঝরছে এই রাজ্যে? তুলে ধরা হবে তার খতিয়ানও।এই সময়ে অবশ্যই অধিকাংশ খুনের পেছনে ছিলো সিন্ডিকেটরাজ। সিন্ডিকেটের বেতাজ বাদশাদের খুন হয়েছিলো গ্যাং-ওয়ারে।এই গ্যাং-ওয়ারের পেছনে ছিলো বাম নেতাদের লম্বা হাত।এমনটাই বলছেন,রাজনীতির অঙ্গনে থাকা লোকজন।

*দেবল দেব হত্যাকাণ্ড*
…………………………..
মানিক সরকারের শাসনকালেই যুব কংগ্রেস নেতা দেবল দেব খুন হয়েছিলো রাজধানীতে। সন্ধ্যা রাতে শহরের সূর্য চৌমূহনী এলাকায় এক বন্ধুর সঙ্গে বাইকে চেপে কংগ্রেস ভবন থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছিলেন।কিন্তু আততায়ীর চলন্ত বাইকেই তাকে গুলি করে হত্যা করে। দেবল দেব হত্যা মামলার তদন্তও বর্তেছিলো সিবিআই’র হাতে।কিন্তু তার আগেই বাম সরকারের পুলিশ দেবল হত্যা মামলার তথ্য প্রমাণ লোপাট করে।এবং মেরিট হীন করে দেয় গোটা মামলাকে।পুলিশ-সিবিআই কেউই দেবলের খুনিদের গ্রেফতার করে শাস্তির যুপ কাষ্টে নিয়ে যেতে পারেনি। যদিও দেবল দেব খুনের পেছনে ছিলো কংগ্রেসের আন্তর্কোন্দল।এবং জমি সংক্রান্ত লেনদেন।

*মধুসুধন সাহা হত্যাকাণ্ড*
……………………………….
মধুসুধন সাহা ওরফে ভোলা সাহা ছিলেন বনমালী পুরের কংগ্রেস বিধায়ক।মানিক জামানায় ২০০১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের বিকালে শিবনগর গেদুমিয়া মসজিদের সামনেই ক্যরাম খেলতে ব্যাস্ত ছিলেন।এই সময় বাইকে চেপে আসা যমদূতরা সামনে থেকে গুলি করে হত্যা করে মধুসুধন সাহাকে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার।এই মামলার তদন্ত করে সিবিআই।কিন্তু কোনো নির্যাস বেরিয়ে আসেনি।কারা মেরেছেন বিধায়ককে আজও জানতে পারেনি রাজ্যের মানুষ।

* মানিক মিয়া হত্যাকান্ড*
………………………………….
মানিক মিয়া ছিলো ক্যাডার বাহিনীর সদস্য। পশ্চিম প্রতাপগড়ের স্বপন দাস খুনের সঙ্গে সে জড়িত ছিল। রাজধানীর দুই নম্বর এম এল এ হোস্টেলে বোমা বানাতে গিয়ে বিস্ফোরণে গুরুতর জখম হয়েছিলো মানিক।তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো কলকাতায়।কিন্তু কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে বালিশ চাপা দিয়ে আহত মানিককে খুন করেছিল দুস্কৃতিরা। মানিকের মৃত্যুর পর এই অভিযোগ করেছিলো তার পরিবার।

*সঞ্জু দেবনাথ হত্যাকাণ্ড*
……………………………….
বাম জামানায় সমাজদ্রোহিদের দৌরাত্ম বেড়েছিলো শহর সংলগ্ন বর্ডার গোল চক্কর এলাকায়।একের পর এক মাফিয়ারা মাথা চাড়া দিয়ে ওঠেছিলো। এই সময়ে সীমান্ত সংলগ্ন রাজনগরে খুন হয়েছিল সঞ্জু দেবনাথ।শীতের দুপুরে শিক্ষিত ছেলে সঞ্জু সীমান্ত লাগোয়া মাঠে তাস খেলতে ব্যস্ত ছিলো।এই সময় সীমান্ত ওপার থেকে আসা দুস্কৃতিরা দা সহ ধারালো অস্ত্র নিয়ে সঞ্জুকে হামলা করে।ঘটনা স্থলেই তার মৃত্যু হয়।নিগোসিয়েশন ব্যাবসা কেন্দ্র করেই হার্মার বাহিনীর এজেন্ট কুট্টি মিয়া খুন করেছিলো সঞ্জুকে।

*আব্দুল হক হত্যাকান্ড*
…………………………………
সঞ্জু হত্যাকাণ্ডের জের ধরেই মানিক যুগে খুন হয়েছিলো আব্দুল হক।তাও আবার সীমান্ত লাগোয়া রাজনগরে।দিন দুপুরে আততায়ীরা হাতুড়ি দিয়ে আব্দুলের মাথায় আঘাত করে তাকে খুন করেছিলো।

*কুট্টি মিয়া হত্যাকান্ড*
……………………………
মানিক জামানায় কুটি মিয়ার বিক্রমে তটস্থ ছিল বর্ডার গোলচক্কর এলাকা।নিগোসিয়েশন থেকে শুরু করে জমি দালালি, অস্ত্রের ব্যবসা থেকে শুরু নেশা বাণিজ্য সব কিছুতেই ছিলো কুট্টির হাত।তার তান্ডবে দিশেহারা ছিলো সাধারণ মানুষ।তোলা আদায় ছিলো তার সহজাত বৈশিষ্ট্য। রাজনৈতিক বলে বলীয়মান কুট্টিকে পুলিশও কিছু করতে পারেনি।শেষ পর্যন্ত বিএসএফ পাচারকারী তকমা দিয়ে নৃশংস ভাবে কুট্টিকে হত্যা করেছিলো। বিএসএফ ক্যাম্পে থাকা রুটির গরম তাওয়াতে বসিয়ে দেওয়া হয়েছিলো কুট্টি মিয়াকে।ক্যাম্পেই মৃত্যু হয় তার। একবার ভাবুন, পুলিশ তাকে কাবু করতে না পারায়,শেষ পর্যন্ত বিএসএফকে ব্যাবহার করতে হয়েছিলো।এই ঘটনার পেছনে রামনগরের দুই তাবর বাম নেতার হাত ছিলো বলে দাবি করে অতি বড় বাম সমর্থকরা।

*রতন মিয়া হত্যাকান্ড*
………………………………
সাধারণ গাড়ির চালক রতন মিয়া আগরতলা পুর নিগমের বস হয়ে যায় রাজনৈতিক গড ফাদারদের আশ্রয়ে। রতন ছিলো মানিক মিয়ার ছোট ভাই। দাদার পথ অনুসরণ করেই অপরাধ জগতে পা রেখেছিল।এই রতন ছিলো প্রতাপগড়ে খুন হওয়া স্বপন দাসের গাড়ির চালক। এক সময় নিগোসিয়েশন ব্যবসাকে হাতিয়ার করে রতন ডাক-সাইটের মাফিয়া হয়ে উঠে।কিন্তু বেশি দিন রাজত্ব করতে পারেনি।একদিন সন্ধ্যা রাতে পশ্চিম প্রতাপগড়ের বিপিসি ক্লাব লাগোয়া রাস্তায় তার কনভয় থামিয়ে নিজের লোকরাই রতনকে খালাস করে।রতনকে হত্যার জন্য রাস্তার লাইট বন্ধ করে দিয়েছিলো আততায়ীরা। রতনের খুনিরা আজও বহাল তবিয়তে।

*আবুল মিয়া হত্যাকাণ্ড *
…………………………….
মানিক জামানাতে খুন হয় বর্ডার গোল চক্করে যুবক আবুল মিয়া।তাকে সন্ধ্যা রাতে পূর্ব আগরতলার আশ্রম চৌমুহনী এক বিয়ে বাড়ি থেকে প্রকাশ্যে অপহরণ করে দুষ্কৃতীরা।মারুতি ভ্যানের ভিতরেই তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।এরপর তার লাশ নিয়ে ফেলা হয় মধ্য প্রতাপগড় রেল ব্রিজ লাগোয়া ধান ক্ষেতে।আবুলের খুনিরা আজও সিনা ফুলিয়ে ঘুরছে শহরে।কিন্তু পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে।

*মন্টু দাস হত্যাকান্ড*
……………………………..
কমিউনিস্ট মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের রাজত্ব কালেই ২০০৯-র ডিসেম্বরের কোনো এক সন্ধ্যা রাতে শিবনগর নিজ বাড়িতে খুন হয়েছিলেন কংগ্রেস নেতা মন্টু দাস।দুষ্কৃতীরা তার বাড়িতে ঢুকে গুলি করে হত্যা করে। মন্টুর খুনিরাও পাড় পেয়ে যায়। তাদের কিছুই হয়নি আইন অনুযায়ী। এফ সি আই’র নিগোসিয়েশন কেন্দ্র করেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিলো বলে দাবি করেছিল পুলিশ।

*শ্যামল বর্ধন হত্যাকান্ড*
………………………………
শ্যামল বর্ধন ছিলো একজন সুপারি কিলার।বিধায়ক মধুসুধন সাহা ও কংগ্রেস নেতা মন্টু দাস হত্যাকাণ্ডে শ্যামল জড়িত ছিল।কিন্তু পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি।ছিলো না উপযুক্ত প্রমান।বা থাকলেও তা লোপাট করে দেয়।২০১১-র ১২ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা রাতেই শিব নগর চিত্তরঞ্জন ক্লাবের সামনেই ভোজলি দিয়ে তার কন্ঠ নালি কেটে দেয় দুস্কৃতিরা।অবাক করার বিষয় শ্যামলের খুনিরা সদর্পে ঘুরাফেরা করছে শিবনগর এলাকায় আজও।কিন্তু বিচার পায়নি তার পরিবার।

*দিলীপ ঘোষ হত্যাকান্ড*
………………………………
মানিক জামানায় গ্যাং ওয়ারের শেষ বলি দিলীপ ঘোষ।রাজধানীর পুর নিগমের নিগোসিয়েশন ব্যবসা কেন্দ্র করে দুর্গা চৌমুহনীতে খুন হয়েছিলো দিলীপ।২০১৩-র ১১ নভেম্বরে এই ঘটনা।দিলীপ হত্যাকাণ্ডের পর নড়েচড়ে বসেছিলেন মানিক সরকার।এরপরই নিগোসিয়েশন ব্যবসা বন্ধের জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন পুলিশকে।কিন্তু এতদিনের অভ্যাস কিভাবে পাল্টাবে? যার ফলে কিছুই হয়নি।তবে দিলীপ খুনের পর তিন জনকে গ্রেফতার করেছিলো।তাদের মধ্যে দুইজনের জেল হয়েছিলো নিম্ন আদালতের নির্দেশে।পরে অবশ্যই উচ্চ আদালত থেকে তারা জামিনে মুক্তি পায়।

এছাড়াও রাজধানীতে ধনঞ্জয় ঘোষ হত্যাকান্ড, শহর দক্ষিণে সুব্রত পাল হত্যাকাণ্ডের মত বহু ঘটনা ঘটেছে।সবগুলির ক্ষেত্রে একই হাল।খুনিদের কোনো সাজা হয়নি।বা খুনিদের সনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।অর্থাৎ সব খুনের ঘটনা তলিয়ে যায় হাওড়ার জলে।চিরতরে হয়ে যায় ক্লোজ চাপ্টার।*অভিজিৎ ঘোষ*
******************
নৃপেন চক্রবর্তী-দশরথ দেব-মানিক সরকার।রাজ্যের এই তিন কমিউনিস্ট নেতা বিভিন্ন সময়ে ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী।১৯৭৮ থেকে ১৯৮৮ এবং ১৯৯৩ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত টানা ৩৫ বছর বামেদের হাতে ছিলো রাজ্যের ক্ষমতা।
বামেদের ৩৫ বছরের শাসন কালে রাজ্য হয়েছিল রক্তস্নাত।বামেদের ধারাবাহিক অনাচারে এক সময় ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন মা ত্রিপুরা সুন্দরী।অবশেষে ১৮-তে পতন ঘটে বামেদের।
বাম জামানার ৩৫ বছরের সারা রাজ্যে খুন হয়েছে কয়েক ডজন।তবে প্রতিটি খুনের প্রেক্ষাপট ছিলো আলাদা। । কখনো ঘটেছে রাজনৈতিক হত্যাকান্ড,আবার কখনো গ্যাং-ওয়ারে মৃত্যু ।কিন্তু বাম প্রশাসন ছিলো নির্বিকার।আজও এই সব হত্যাকাণ্ডের কোনো কিনারা হয়নি। বাম জামানার ৩৫ বছরে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের উপাখ্যান তুলে ধরা হয়েছে এই প্রতিবেদনে।



** মুখ্যমন্ত্রী: নৃপেন চক্রবর্তী।

**শাসন কাল: ১৯৭৮ থেকে ১৯৮৮


*নৃপেন্দ্র পাল হত্যাকাণ্ড*
………………………………
রাজ্যের প্রথম রাজনৈতিক হত্যাকান্ড ঘটে খোয়াইয়ে। ১৯৭৮-এ বামেরা ক্ষমতায় আসার পর কংগ্রেসের প্রধান নৃপেন্দ্র পালকে প্রকাশ্যে খুন করা হয়েছিলো খোয়াইয়ে।দিনদুপুরে প্রধান নৃপেন্দ্র পাল রিকশা করে যাচ্ছিলেন।তখনই যমদূতরা রাস্তায় প্রধান নৃপেন্দ্র পালের পথ অবরোধ করে দা-দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছিলো।নৃপেন্দ্র’র রক্তে লাল হয়েছিলো রিকশা। রাজনৈতিক মহলে আজও গুঞ্জন, নৃপেন্দ্র পালকে যে হত্যা করা হবে তা জানতেন তৎকালীন বাম মুখ্যমন্ত্রী নৃপেন চক্রবর্তী।কিন্তু খুন হওয়া প্রধান নৃপেন্দ্র পালের পরিবার কোনোদিন বিচার পায়নি।ধরা পড়েনি খুনিরা।কারণ হত্যাকারীরা হার্মাদ বাহিনীর সদস্য।

*গৌতম দত্ত হত্যাকান্ড *
…………………………….
গৌতম দত্ত ছিলেন বিশালগড় বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক। তিনি সিপিআইএম’র টিকিটে পাশ করেছিলেন।১৯৮০ সালে দিন দুপুরে ক্ষমতাসীন দলের বিধায়ককে দুস্কৃতিরা ডেকে এনে হত্যা করেছিলো।তখন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন নৃপেন চক্রবর্তী।কিন্তু বিধায়ক গৌতম দত্তের খুনিদের টিকির নাগাল পায়নি তৎকালীন সময়ে বাম প্রশাসনের লোকজন।এটাই ছিলো রাজ্যের প্রথম বিধায়ক হত্যাকান্ড।

*পরিমল সাহা হত্যাকান্ড*
……………………………..
সিপিআইএম বিধায়ক গৌতম দত্তের হত্যাকাণ্ডের তিন বছরের মধ্যেই বিশালগড়ে খুন হয়েছিলেন কংগ্রেস বিধায়ক পরিমল সাহা।১৯৮৩-সালের কোনো এক দুপুরে বিশালগড় ব্লকে যাওয়ার পথে অফিসটিলা এলাকায় নৃশংস ভাবে দুস্কৃতিরা খুন করেছিলো বিধায়ক পরিমল সাহাকে।তবে দীর্ঘ ২৭ বছর পর এই মামলার বিচার হয়েছিলো আদালতে।এবং দোষীদের শাস্তি ঘোষণা করেছিল আদালত।এখন বিশালগড় কেন্দ্রীয় কারাগারে অবস্থান করছে খুনিরা।

*শঙ্কর-জয়ন্ত হত্যাকান্ড*
……………………………….
নৃপেন চক্রবর্তীর জামানাতেই নৃশংস ভাবে খুন হয়েছিলো পলিটেকনিক কলেজের দুই ছাত্র শঙ্কর ভৌমিক ও জয়ন্ত ভট্টাচার্য। কলেজের হোস্টেলেই তাদের খুন করেছিলো হার্মাদ বাহিনী। হার্মাদ বাহিনীর সদস্যরা জিপ গাড়ি নিয়ে পলিটেকনিকের দুই ছাত্রকে ধাওয়া করেছিলো।শঙ্কর-জয়ন্ত ছিলো বাইকে(বুলেট)।ঊষা বাজার ছিনাইহানি থেকে তাদের ধাওয়া করে পলিটেকনিক কলেজের হোস্টেল কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।সেখানেই তাদের জবাই দেয় হার্মাদ বাহিনীর হায়নারা।


* মুখ্যমন্ত্রী: দশরথ দেব
*শাসন কাল: ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৮


*সুখরাম দেববর্মা হত্যাকাণ্ড*
……………………………………
সুখরাম দেববর্মা ছিলেন এসডিও (টিসিএস অফিসার)। নির্মাণ কাজ নিয়ে বাম নেতৃত্বের সঙ্গে খটকা লাগে তৎকালীন সময়ের সদর এসডিও সুখরাম দেববর্মার।তখনই সুখরামকে খালাস করার পরিকল্পনা নেয় বাম মদতপুস্ট অপরাধীরা।কথিত আছে সুখরাম দেববর্মা যে খুন হবেন তা জানতেন তৎকালীন সময়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সমর চৌধুরী। ১৯৯৩-র কোনো এক বিকালে অফিস থেকে বের হাওয়ার সময় প্রকাশ্যে সুখরাম দেববর্মাকে গুলি করে দুস্কৃতিরা। আশঙ্কা জনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য সুখরামকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল কলকাতায়।সেখানেই এই টিসিএস অফিসারের মৃত্যু হয়। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুস্কৃতিদের টিকির নাগাল পায়নি বাম প্রশাসন।ঘুরিয়ে বললে বাম নেতৃত্বের কথায় পুলিশ গ্রেফতার করেনি সুখরাম দেববর্মার আততায়ীদের। তারা আজও বহাল তবিয়তে। সম্প্রতি সুখরাম দেববর্মা হত্যাকাণ্ডের পুনঃ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব।

*সেলিম মিয়া হত্যাকান্ড*
……………………………….
সেলিম মিয়া ছিলেন বাম ছাত্র সংগঠন এসএফআই’র রাজ্য নেতা। সেলিম নেতা হওয়ার সুবাদে তার দাপট ছিলো।এই সময় বাধারঘাট দশরথ দেব স্টেডিয়ামের কাজ নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছিলো শহর দক্ষিণের মাফিয়া স্বপন দাসের সঙ্গে। উভয়ের বাড়ি শহর দক্ষিনের পশ্চিম প্রতাপগড় এলাকায়। স্টেডিয়ামের নির্মাণ কাজের বরাত পাওয়া কেন্দ্র করে স্বপন দাসের লোকজন দিনদুপুরে বড়দোয়ালি স্কুলের পেছনের রাস্তায় খুন করেছিলো সেলিমকে। সেলিম খুনের পর নিয়ম অনুযায়ী মামলা হয় পশ্চিম থানায়।কিন্তু পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।খুনিরা আজও বহাল তবিয়তে।সেলিমের খুনিদের কয়েকজন পরবর্তী সময়ে বাম নেতাদের হাত ধরে বাগিয়ে নেয় পুলিশের চাকরি। কিন্তু ছাত্র নেতা সেলিমের পরিবার আজও পায়নি বিচার।

*স্বপন দাস হত্যাকান্ড*
……………………………
১৯৯৩ সালে বামেরা ক্ষমতায় আসার প্রধান পাঁচটি কারণের মধ্যে অন্যতম ছিলো পুলিশ আন্দোলন। পুলিশ আন্দোলনের একজন নেতা ছিলেন স্বপন দাস।তিনি পুলিশের হাবিলদার ছিলেন। পাশাপাশি শহর দক্ষিণে স্বপন দাসের ছিল একটি সামাজিক সংস্থা।এই সামাজিক সংস্থার অন্তরালে সমান্তরাল ভাবে চলতো নিগোসিয়েশন ব্যবসাও। বাম ছাত্র নেতা সেলিম মিয়াকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিয়ে সাম্রাজ্য বিস্তার করেছিলো স্বপন দাস।কিন্তু তিনিও বেশিদিন থাকতে পারেন নি পৃথিবীতে।সেলিম হত্যার এক বছরের মধ্যেই পাল্টা বদলা হিসাবে খুন হন স্বপন দাস।আততায়ীরা রাতেই আঁধারে বাড়িতে গিয়ে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে।স্ত্রীর সামনেই ভোজালি দিয়ে জবাই দেয় তাকে।এরপর মৃত্যু নিশ্চিত করতে খুব সামনে থেকে বুকে গুলি করে।এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ডকে “ডাকাতি”বলে চালিয়ে দেয় পুলিশ। শহর দক্ষিনের সেলিম মিয়া ও স্বপন দাসের ঝামেলা নিয়ে দুই তাবর বাম নেতা বিভক্ত হয়ে গিয়েছিলো।একজন স্বপন দাসের পক্ষ নিয়েছিলেন বাম নেতা বাদল চৌধুরী।
ছাত্র নেতা সেলিমের পক্ষ নিয়েছিলেন তৎকালীন মন্ত্রী অনিল সরকার। শহর দক্ষিণে এখনও সেলিম-স্বপনের বিষয় উঠে আসলেই ভেসে আসে দুই কমিউনিস্ট নেতার নামও।


**মুখ্যমন্ত্রী: মানিক সরকার
*শাসন কাল: ১৯৯৮ থেকে ২০১৮

কমিউনিস্ট মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের ২০বছরের রাজত্ব কালে কত রক্ত ঝরছে এই রাজ্যে? তুলে ধরা হবে তার খতিয়ানও।এই সময়ে অবশ্যই অধিকাংশ খুনের পেছনে ছিলো সিন্ডিকেটরাজ। সিন্ডিকেটের বেতাজ বাদশাদের খুন হয়েছিলো গ্যাং-ওয়ারে।এই গ্যাং-ওয়ারের পেছনে ছিলো বাম নেতাদের লম্বা হাত।এমনটাই বলছেন,রাজনীতির অঙ্গনে থাকা লোকজন।

*দেবল দেব হত্যাকাণ্ড*
…………………………..
মানিক সরকারের শাসনকালেই যুব কংগ্রেস নেতা দেবল দেব খুন হয়েছিলো রাজধানীতে। সন্ধ্যা রাতে শহরের সূর্য চৌমূহনী এলাকায় এক বন্ধুর সঙ্গে বাইকে চেপে কংগ্রেস ভবন থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছিলেন।কিন্তু আততায়ীর চলন্ত বাইকেই তাকে গুলি করে হত্যা করে। দেবল দেব হত্যা মামলার তদন্তও বর্তেছিলো সিবিআই’র হাতে।কিন্তু তার আগেই বাম সরকারের পুলিশ দেবল হত্যা মামলার তথ্য প্রমাণ লোপাট করে।এবং মেরিট হীন করে দেয় গোটা মামলাকে।পুলিশ-সিবিআই কেউই দেবলের খুনিদের গ্রেফতার করে শাস্তির যুপ কাষ্টে নিয়ে যেতে পারেনি। যদিও দেবল দেব খুনের পেছনে ছিলো কংগ্রেসের আন্তর্কোন্দল।এবং জমি সংক্রান্ত লেনদেন।

*মধুসুধন সাহা হত্যাকাণ্ড*
……………………………….
মধুসুধন সাহা ওরফে ভোলা সাহা ছিলেন বনমালী পুরের কংগ্রেস বিধায়ক।মানিক জামানায় ২০০১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের বিকালে শিবনগর গেদুমিয়া মসজিদের সামনেই ক্যরাম খেলতে ব্যাস্ত ছিলেন।এই সময় বাইকে চেপে আসা যমদূতরা সামনে থেকে গুলি করে হত্যা করে মধুসুধন সাহাকে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার।এই মামলার তদন্ত করে সিবিআই।কিন্তু কোনো নির্যাস বেরিয়ে আসেনি।কারা মেরেছেন বিধায়ককে আজও জানতে পারেনি রাজ্যের মানুষ।

* মানিক মিয়া হত্যাকান্ড*
………………………………….
মানিক মিয়া ছিলো ক্যাডার বাহিনীর সদস্য। পশ্চিম প্রতাপগড়ের স্বপন দাস খুনের সঙ্গে সে জড়িত ছিল। রাজধানীর দুই নম্বর এম এল এ হোস্টেলে বোমা বানাতে গিয়ে বিস্ফোরণে গুরুতর জখম হয়েছিলো মানিক।তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো কলকাতায়।কিন্তু কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে বালিশ চাপা দিয়ে আহত মানিককে খুন করেছিল দুস্কৃতিরা। মানিকের মৃত্যুর পর এই অভিযোগ করেছিলো তার পরিবার।

*সঞ্জু দেবনাথ হত্যাকাণ্ড*
……………………………….
বাম জামানায় সমাজদ্রোহিদের দৌরাত্ম বেড়েছিলো শহর সংলগ্ন বর্ডার গোল চক্কর এলাকায়।একের পর এক মাফিয়ারা মাথা চাড়া দিয়ে ওঠেছিলো। এই সময়ে সীমান্ত সংলগ্ন রাজনগরে খুন হয়েছিল সঞ্জু দেবনাথ।শীতের দুপুরে শিক্ষিত ছেলে সঞ্জু সীমান্ত লাগোয়া মাঠে তাস খেলতে ব্যস্ত ছিলো।এই সময় সীমান্ত ওপার থেকে আসা দুস্কৃতিরা দা সহ ধারালো অস্ত্র নিয়ে সঞ্জুকে হামলা করে।ঘটনা স্থলেই তার মৃত্যু হয়।নিগোসিয়েশন ব্যাবসা কেন্দ্র করেই হার্মার বাহিনীর এজেন্ট কুট্টি মিয়া খুন করেছিলো সঞ্জুকে।

*আব্দুল হক হত্যাকান্ড*
…………………………………
সঞ্জু হত্যাকাণ্ডের জের ধরেই মানিক যুগে খুন হয়েছিলো আব্দুল হক।তাও আবার সীমান্ত লাগোয়া রাজনগরে।দিন দুপুরে আততায়ীরা হাতুড়ি দিয়ে আব্দুলের মাথায় আঘাত করে তাকে খুন করেছিলো।

*কুট্টি মিয়া হত্যাকান্ড*
……………………………
মানিক জামানায় কুটি মিয়ার বিক্রমে তটস্থ ছিল বর্ডার গোলচক্কর এলাকা।নিগোসিয়েশন থেকে শুরু করে জমি দালালি, অস্ত্রের ব্যবসা থেকে শুরু নেশা বাণিজ্য সব কিছুতেই ছিলো কুট্টির হাত।তার তান্ডবে দিশেহারা ছিলো সাধারণ মানুষ।তোলা আদায় ছিলো তার সহজাত বৈশিষ্ট্য। রাজনৈতিক বলে বলীয়মান কুট্টিকে পুলিশও কিছু করতে পারেনি।শেষ পর্যন্ত বিএসএফ পাচারকারী তকমা দিয়ে নৃশংস ভাবে কুট্টিকে হত্যা করেছিলো। বিএসএফ ক্যাম্পে থাকা রুটির গরম তাওয়াতে বসিয়ে দেওয়া হয়েছিলো কুট্টি মিয়াকে।ক্যাম্পেই মৃত্যু হয় তার। একবার ভাবুন, পুলিশ তাকে কাবু করতে না পারায়,শেষ পর্যন্ত বিএসএফকে ব্যাবহার করতে হয়েছিলো।এই ঘটনার পেছনে রামনগরের দুই তাবর বাম নেতার হাত ছিলো বলে দাবি করে অতি বড় বাম সমর্থকরা।

*রতন মিয়া হত্যাকান্ড*
………………………………
সাধারণ গাড়ির চালক রতন মিয়া আগরতলা পুর নিগমের বস হয়ে যায় রাজনৈতিক গড ফাদারদের আশ্রয়ে। রতন ছিলো মানিক মিয়ার ছোট ভাই। দাদার পথ অনুসরণ করেই অপরাধ জগতে পা রেখেছিল।এই রতন ছিলো প্রতাপগড়ে খুন হওয়া স্বপন দাসের গাড়ির চালক। এক সময় নিগোসিয়েশন ব্যবসাকে হাতিয়ার করে রতন ডাক-সাইটের মাফিয়া হয়ে উঠে।কিন্তু বেশি দিন রাজত্ব করতে পারেনি।একদিন সন্ধ্যা রাতে পশ্চিম প্রতাপগড়ের বিপিসি ক্লাব লাগোয়া রাস্তায় তার কনভয় থামিয়ে নিজের লোকরাই রতনকে খালাস করে।রতনকে হত্যার জন্য রাস্তার লাইট বন্ধ করে দিয়েছিলো আততায়ীরা। রতনের খুনিরা আজও বহাল তবিয়তে।

*আবুল মিয়া হত্যাকাণ্ড *
…………………………….
মানিক জামানাতে খুন হয় বর্ডার গোল চক্করে যুবক আবুল মিয়া।তাকে সন্ধ্যা রাতে পূর্ব আগরতলার আশ্রম চৌমুহনী এক বিয়ে বাড়ি থেকে প্রকাশ্যে অপহরণ করে দুষ্কৃতীরা।মারুতি ভ্যানের ভিতরেই তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।এরপর তার লাশ নিয়ে ফেলা হয় মধ্য প্রতাপগড় রেল ব্রিজ লাগোয়া ধান ক্ষেতে।আবুলের খুনিরা আজও সিনা ফুলিয়ে ঘুরছে শহরে।কিন্তু পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে।

*মন্টু দাস হত্যাকান্ড*
……………………………..
কমিউনিস্ট মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের রাজত্ব কালেই ২০০৯-র ডিসেম্বরের কোনো এক সন্ধ্যা রাতে শিবনগর নিজ বাড়িতে খুন হয়েছিলেন কংগ্রেস নেতা মন্টু দাস।দুষ্কৃতীরা তার বাড়িতে ঢুকে গুলি করে হত্যা করে। মন্টুর খুনিরাও পাড় পেয়ে যায়। তাদের কিছুই হয়নি আইন অনুযায়ী। এফ সি আই’র নিগোসিয়েশন কেন্দ্র করেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিলো বলে দাবি করেছিল পুলিশ।

*শ্যামল বর্ধন হত্যাকান্ড*
………………………………
শ্যামল বর্ধন ছিলো একজন সুপারি কিলার।বিধায়ক মধুসুধন সাহা ও কংগ্রেস নেতা মন্টু দাস হত্যাকাণ্ডে শ্যামল জড়িত ছিল।কিন্তু পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি।ছিলো না উপযুক্ত প্রমান।বা থাকলেও তা লোপাট করে দেয়।২০১১-র ১২ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা রাতেই শিব নগর চিত্তরঞ্জন ক্লাবের সামনেই ভোজলি দিয়ে তার কন্ঠ নালি কেটে দেয় দুস্কৃতিরা।অবাক করার বিষয় শ্যামলের খুনিরা সদর্পে ঘুরাফেরা করছে শিবনগর এলাকায় আজও।কিন্তু বিচার পায়নি তার পরিবার।

*দিলীপ ঘোষ হত্যাকান্ড*
………………………………
মানিক জামানায় গ্যাং ওয়ারের শেষ বলি দিলীপ ঘোষ।রাজধানীর পুর নিগমের নিগোসিয়েশন ব্যবসা কেন্দ্র করে দুর্গা চৌমুহনীতে খুন হয়েছিলো দিলীপ।২০১৩-র ১১ নভেম্বরে এই ঘটনা।দিলীপ হত্যাকাণ্ডের পর নড়েচড়ে বসেছিলেন মানিক সরকার।এরপরই নিগোসিয়েশন ব্যবসা বন্ধের জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন পুলিশকে।কিন্তু এতদিনের অভ্যাস কিভাবে পাল্টাবে? যার ফলে কিছুই হয়নি।তবে দিলীপ খুনের পর তিন জনকে গ্রেফতার করেছিলো।তাদের মধ্যে দুইজনের জেল হয়েছিলো নিম্ন আদালতের নির্দেশে।পরে অবশ্যই উচ্চ আদালত থেকে তারা জামিনে মুক্তি পায়।

এছাড়াও রাজধানীতে ধনঞ্জয় ঘোষ হত্যাকান্ড, শহর দক্ষিণে সুব্রত পাল হত্যাকাণ্ডের মত বহু ঘটনা ঘটেছে।সবগুলির ক্ষেত্রে একই হাল।খুনিদের কোনো সাজা হয়নি।বা খুনিদের সনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।অর্থাৎ সব খুনের ঘটনা তলিয়ে যায় হাওড়ার জলে।চিরতরে হয়ে যায় ক্লোজ চাপ্টার।

Leave a Reply

Your email address will not be published.