ডেস্ক রিপোর্টার,১০জানুয়ারি।।
রাজ্য রাজনীতির হেভিওয়েট নাম সুদীপ রায় বর্মন। কি হতে চলেছে সুদীপ রায় বর্মনের আগামীর রাজনৈতিক ভবিষ্যত? তিনি কি বিজেপিতেই থাকছেন?নাকি ফিরে যাবেন পুরানো ঘর “কংগ্রেসে”।আবার উঁকি দিচ্ছে ঘাসফুলের সম্ভাবনা। এই সমস্ত বিষয় নিয়ে দ্বিধা দ্বন্দ্বে সুদীপ অনুগামীরা।
সুদীপ রায় বর্মনের ঘনিষ্ট মহলের দাবি, তিনি থাবকেন না বিজেপিতে।যাবেন না তৃণমূল কংগ্রেসে।সুদীপ রায় বর্মনের পাখির চোখ এখন শহরের পোস্টঅফিস চৌমুহনীর সাদা বাড়ির দিকে।এই সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কংগ্রেসের হাই-কামান্ডের সঙ্গে নাকি সুদীপ রায় বর্মনের কথাও চলছে।কিন্তু তারমধ্যে দেখা দিয়েছে বিপত্তি।
পুর ভোটের আগে সুদীপ রায় বর্মনের অঙ্গুলির নির্দেশে তাঁর বেশ কিছু অনুগামী যোগ দিয়েছিলো তৃণমূল কংগ্রেসে।আগরতলা পুর নিগম ভোটে সুদীপ রায় বর্মনের অনুগামীদের একাংশ তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হয়েছিল।বেশ কিছু অনুগামী সরাসরি যোগ দিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেসে।
সুদীপ রায় বর্মনের রাজনীতির অন্দর মহলের খবর অনুযায়ী, এই মুহূর্তে সুদীপ ঝুঁকছেন কংগ্রেসের দিকে।যেকোনো সময় দিতে পারেন ঘোষণা।তাঁর সঙ্গে দুই বিধায়ক আশীষ সাহা ও দিবাচন্দ্র রাংখলও পা বাড়াবেন কংগ্রেসের দিকে।এই সিদ্ধান্ত নাকি প্রায় চূড়ান্ত।সুদীপ রায় বর্মন তাঁর অনুগামীদের সঙ্গে এই সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে করেছেন বৈঠক।তাতে বিপত্তি বাঁধে সদ্য তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়া তাঁর অনুগামীরা। বর্তমান সময়ে তারা তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়তে নারাজ।কারণ তারা কিছুদিন আগে মাত্র যোগ দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসে।এখন ফের কংগ্রেসে গেলে নিজ নিজ এলাকায় সংশ্লিষ্ট নেতা-কর্মীদের জনপ্রিয়তা তলানিতে ঠেকবে। এই বিষয়টি বিলক্ষণ বুঝতে পেরেছে নেতৃত্ব স্থানীয় সুদীপ অনুগামীরা। স্বাভাবিক ভাবেই তারা সুদীপ বর্মনের সঙ্গে কংগ্রেসে যোগ দিতে চাইছে না।তারা তৃণমুল কংগ্রেসেই থাকতে চাইছে।সুদীপ রায় বর্মনকে নাকি নেতৃত্ব স্থানীয় অনুগামীরা এই “বার্তা” জানিয়ে দিয়েছেন।এই অবস্থায় সুদীপ রায় বর্মনও কিছুটা বেকায়দায় পড়ে গেছেন।
রাজ্য কংগ্রেসের সাংগঠনিক অবস্থা এখন তলানিতে ঠেকেছে।টানা ২৫বছর ধরে প্রধান বিরোধী থাকলেই ক্ষমতায় আসতে পারেনি কংগ্রেস।ঘুরিয়ে ফিরিয়ে এই সময় কালে সুদীপের হাতেও ছিলো কংগ্রেসের ব্যাটন।কংগ্রেস ব্যর্থ হওয়াতেই ১৮-র বিধানসভা নির্বাচনে মানুষ “অল-আউট” হয়ে বিজেপি’র দিকে ঝুঁকে যায়।এবং ক্ষমতায় আসে ভাজপা।
এই মুহূর্তে সুদীপ রায় বর্মন কংগ্রেসে গেলে মানুষ বাস্তবে কংগ্রেসের দিকে কতটা সঙ্গ দেবে? তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।তার মধ্যে বোনাস হিসাবে থাকবে প্রদেশ কংগ্রেসের কাঁকড়া সংস্কৃতি। কারণ সুদীপ রায় বর্মন কংগ্রেসে গেলেও বর্তমান প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বীরজিৎ সিনহা কতটা আন্তরিক ভাবে মেনে নেবেন এটাও দেখার বিষয়।হাই-কামান্ডের চাপে মেনে নিয়েও রাজ্যে থাকবে একটা বিভাজন।সুতরাং কংগ্রেস পুরো শক্তি নিয়ে মাঠে নামতে পারবে না।রাজ্যের মানুষ প্রদেশ কংগ্রেসের এই চাল চিত্র দেখতে দেখতে অভ্যস্ত।এই কারণেই তৃণমূল কংগ্রেসে যাওয়া সুদীপ অনুগামীরা কংগ্রেসের ভরসা করতে পারছে না।তাই তারা মন্দের ভালো তৃণমূল কংগ্রেসের উপরই আস্থা রাখতে চাইছে।রাজনীতিকরা বলছেন,এই পরিস্থিতিতে সুদীপ রায় বর্মনের বাড়ছে রাজনৈতিক স্নায়ুর চাপ। গোটা চিত্র পরিষ্কার হতে সময় লাগবে আরো কিছুটা দিন।তার জন্য অবশ্যই করতে হবে অপেক্ষা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.