ডেস্ক রিপোর্টার, ১০মে।।
লাউস থাকে রাজ্যে আসা আগর শিল্পের বিনিয়োগকারীরা বৃষ্টির কারণে আসতে পারেননি উত্তর জেলার কদমতলায়। তবে ভার্চুয়াল বৈঠকের মাধ্যমে বিদেশি শিল্প উদ্যোগীরা আগর শিল্পের সঙ্গে জড়িত লোকজন ও সরকারী আধিকারীদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল বৈঠকে লাউস থেকে আগত বিনিয়োগকারীরা কদমতলা থেকে বিশাল সংখ্যক আগত ক্রয়ের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। লাউসের একজন শিল্পপতি জানিয়েছেন,”তিনি একাই প্রতি মাসে এক হাজার কেজি আগর ক্রয় করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।” ভারতীয় মুদ্রায় এই আগরের বাজারমূল্য হবে আড়াই কোটি টাকার অধিক। ভার্চুয়াল বৈঠকে উপস্থিত লাউসের অপর এক শিল্পপতি সরাসরি রাজ্যের আগর শিল্পে একশ কোটি টাকা লগ্নি করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

কদমতলা ব্লকের ফুলবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের ৩নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় অল ত্রিপুরা আগর এ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক আনফর আলির বাস ভবনে বৈঠক হওয়ার কথা ছিলো। এই বৈঠকে বিদেশি শিল্পপতিদের আসার কথা ছিলো। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে হেলিকপ্টার না চলার কারণে তারা আগরতলা থেকে কদমতলায় যেতে পারেননি। তবে ভার্চুয়াল বৈঠকে বিদেশি শিল্পপতিরা আলোচনা সেরে নিয়েছেন।
লাউসের শিল্পপতিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জাইকা প্রজেক্টের কর্ডিনেটর রাজেশ সাহা, এনসিই মার্কেট প্রমোশন অফিসার আনন্দ ভট্টাচার্য, জেলা বন আধিকারিক এইচ ভিগনেশ, মহকুমা বন আধিকারিক অক্ষয় ডি বর্দি, কদমতলা পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান সুব্রত দেব, অল ত্রিপুরা আগর এসোসিয়েশনের সভাপতি শৈলেন্দ্র নাথ ও সম্পাদক আনফর আলি।

লাউসের শিল্পপতিদের সঙ্গে আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে বলেই দাবি রাজ্যের আগর ব্যবসায়ী সংগঠনের। তার জন্য অবশ্যই তারা ধন্যবাদ জানিয়েছেন,রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবকে। সম্প্রতি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব রাজ্যের আগর বিদেশে রপ্তানি করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কেন্দ্রীয় সরকার ত্রিপুরাকে বছরে ২৫হাজার মেট্রিক টন আগর রপ্তানির ছাড়পত্র দিয়েছিলো। এরপরই গোটা বিশ্বের নজর পরে ত্রিপুরায়। রাজ্যের আগর বিশ্ব বাজার দখল নেওয়ার ক্ষেত্রে তৈরি হয় এক নতুন “ক্ষেত্র”।
এই সংক্রান্ত বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব সোশ্যাল মিডিয়ায় বলেছিলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নির্দেশনায়, ত্রিপুরার আগর শিল্প বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি পেয়েছে। তার প্রমান লাউস থেকে রাজ্যে আসা শিল্পপতিরা।” লাউসের শিল্পপতিরা সোমবার রাজ্যে এসে প্রথমে সাক্ষাৎ করেছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে।
আগর ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, যদি রাজ্যের আগর বাণিজ্যে বিদেশি বিনিয়োগ ঘটে তাহলে শুধু উত্তর জেলা নয়, রাজ্যের অর্থনৈতিক বুনিয়াদ আরো সুঠাম হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.