ডেস্ক রিপোর্টার, ১০আগষ্ট।।
উপভোটের পর অশান্তি পিছু ছাড়ছে না প্রদেশ তৃণমূল কংগ্রেসকে। ইতিমধ্যেই দলের রাজ্য সভাপতি সুবল ভৌমিক নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন। শুরু হয়েছে দল ছাড়া হিড়িক। নেতৃত্বের কথা মানতে চাইছে না কর্মী – সমর্থকরা। হতাশা গ্রাস করছে তাদেরকে।এই পরিস্থিতিতে বুধবার তৃণমূল কংগ্রেসের সদর দপ্তরে ঘটে যায় ধুন্ধুমার কান্ড। প্রদেশ মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রী পান্না দেবকে মারধরের চেস্টা করেন এক মহিলা কর্মী। সঙ্গে ছিলো অন্যান্যরাও।এই ঘটনা কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেসে সংসারে আগুন আরো ধাউ ধাউ করে জ্বলে উঠে। শহরের চিত্তরঞ্জন রোডে কান পাতলেই শোনা যায় এই খবর।
তৃণমূল কংগ্রেসের মহিলা কর্মীদেরকে বক্তব্য, সদ্য সমাপ্ত উপভোটে পান্না দেব কোনো খরচাপাতি করেন নি।অথচ দল তাকে দুই ধাপে ১৫লক্ষ্ টাকা দিয়েছে। উপভোটে দলীয় কর্মীরা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছে পান্না দেবের সঙ্গে। কিন্তু তাদেরকে নাকি সামান্য টিফিনের টাকাও দেন নি পান্না দেব। উপরন্তু পান্না দেব নানান ভাবে কর্মীদের কটূক্তি করেছেন। ভোটের বাজারে তারা চুপ ছিলেন দলের স্বার্থে। খোলেন নি মুখ। ভোট শেষে ফল হয়েছে অশ্ব ডিম্ব। স্বাভাবিক ভাবেই দলের কর্মীরা বুঝে গেছেন বর্তমান রাজনীতিতে পান্না দেবের দৌঁড়।তার মধ্যে কর্মীদের “ছাপার অযোগ্য ভাষায় সমাদর” করে থাকেন পান্না। তা অবশ্যই সহ্য করতে পারছেন না মহিলা কর্মীরা। তারা স্পষ্ট ভাবে বলেছেন, পান্না উপ ভোটের টাকা পেয়ে নিজের রাজনৈতিক বাণিজ্য সেরে ফেলেছেন। থোক টাকা পেয়ে নিজেকে সাংঘাতিক নেত্রী ভাবতে শুরু করেছেন। বাস্তবে তার কোনো জনভিত্তি নেই।শহরের রাজনীতিতে পান্না অনেক আগে থেকেই জনবর্জিত। মহিলা কর্মীরা পান্না দেবের মতো জনবর্জিত নেত্রীর নির্দেশ মানতে চাইছে না।অথচ দল মহিলা সংগঠনের মাথায় বসিয়ে দিয়েছে পান্না দেবকে।
তৃণমূল কংগ্রেসের মহিলা সংগঠনের খবর, অনেক মহিলা কর্মী দলের এই সিধান্তকে মানতে নারাজ। তাদের বক্তব্য,দলের মধ্যে আরো নেত্রী রয়েছে।যারা মহিলা সংগঠনকে পরিচালনা করার ক্ষমতা রাখে।এমনকি দীর্ঘদিন ধরে তারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদর্শকে পাথেয় করে তৃণমূল কংগ্রেসে ঝান্ডা ধরে রেখেছেন। তারা আবার উচ্চ শিক্ষিতও বটে। তারপরও তাদেরকে ব্রাত্য রেখে পান্না দেবের মতো ঢাল তরোয়ালহীন নেত্রীকে মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রী করা হয়েছে। দলের এই সিদ্ধান্তে মহিলারা ক্ষুব্ধ।
বুধবার তৃণমূল কংগ্রেসের সদর কার্যালয়ে এরই বহি:প্রকাশ ঘটে। মহিলারা কর্মীরা চড়াও হয় পান্না দেবের উপর।প্রায় হাতাহাতির উপক্রম হয়ে গিয়েছিলো। শেষ পর্যন্ত উপস্থিত অন্যান্য কর্মীরা ঘটনা সামাল দেয়। তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরে চলতে থাকা নানান অশান্তি আগামী দিনে দাবানলের রূপ নেবে বলেই মনে করছেন রাজনীতিকরা। এই ঘটনাকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তৃণমূল নেত্রী পান্না দেব। তিনি বলেন,এমন কোনো ঘটনা ঘটে নি।তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে দাগ লাগানোর জন্য ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।নির্বাচনের টাকা সংক্রান্ত কোনো বিষয় নিয়ে ঝামেলা হয়নি।দলের মহিলারা কাজ করছেন খোস মেজাজে। পান্না দেবের দাবি,তিনি দীর্ঘদিন ধরেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। রাজধানীতে একজন পরিচিত মুখ।কখনোই তিনি দুর্নীতির সঙ্গে আপোষ করেন না। তার বিরুদ্ধে কখনো কেউ দুর্নীতির অভিযোগ তুলতে পারিনি। তাছাড়া উপভোটে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তাকে দেওয়া হয়নি ১৫ লক্ষ টাকা। এর চাইতে অনেক কম টাকা দেওয়া হয়েছে। এবং এই টাকা তিনি খরচ করেছেন ভোটের কাজেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published.