ডেস্ক রিপোর্টার,১১ডিসেম্বর।।
কোনাবনের ওএনজিসি’র প্রজেক্টে সহকর্মীর গুলিতে দুই টিএস আর জওয়ানের মৃত্যু কেন্দ্র করে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা অবনতির প্রয়াস শুরু করেছে কুচক্রীরা। এই ঘটনাকে ইস্যু করে রাজ্য জুড়ে সাম্প্রদায়িক সুড়সুড়ি দেওয়ার ব্লু প্রিন্ট রচনা করছে বিশেষ মহল। গ্রাম-পাহাড়ে সহজ সরল জনজাতিদের মধ্যে বপন করছে বিদ্বেষের বীজ। কুচক্রীরা সাধারণ জনজাতিদের বুঝানোর চেষ্টা করেছে টিএসআর ক্যাম্পে সংঘটিত এই গুলি কাণ্ডের পেছনে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে।নিহত দুই টিএসআর কর্মী জনজাতি সম্প্রদায়ের হওয়াতেই তাদেরকে খুন করা হয়েছে।অর্থাৎ সাধারণ উপজাতিদের ভাবাবেগকে কাজে লাগিয়ে রাজ্যের পরিস্থিতি বিগড়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে চক্রের চাইরা।নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্যই এই ঘটনাকে রং দেওয়ার চেষ্টা করছে কৌশলে।
খুনি টিএসআর জওয়ান সুকান্ত দাস ঘটনার পর সরাসরি চলে যায় মধুপুর থানায়।জমা করে আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলা বারুদ।পুলিশ তার বিরুদ্ধে মামলা গ্রেফতার করে।এবং শুরু করে তদন্ত। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব, ঘটনার পর পরই জানিয়ে দিয়েছেন ধৃত সুকান্ত দাসের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অনুপুঙ্খ ভাবে তদন্ত করবে পুলিশ।মুখ্যমন্ত্রী নিহত দুই টিএসআর মার্কা সিং জমতিয়া ও কিরণ জমতিয়ার পরিবারকে এক কালীন পাঁচ লক্ষ টাকা দেওয়ার ঘোষণা দেন।একই সঙ্গে নিহতদের পরিবারের একজন সদস্যকে সরকারি চাকরি দেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন। দুই জওয়ানের মৃত্যুর পর সরকারি ভাবে যা যা করার দরকার ছিলো সবটাই করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।তারপরও কেন গোপনে চলছে ষড়যন্ত্র?
খবর অনুযায়ী, একটি স্বার্থনেশি মহল উপজাতি মহল্লাতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে জাতি বিদ্বেষী কথা বলে গোটা পরিস্থিতি উস্কে দেওয়ার চেষ্টা করছে।তাদেরকে বুঝানোর চেষ্টা করছে পুলিশ-টিএসআরে কাজ করা জনজাতি সম্প্রদায়ের লোকজন নিরাপদ নয়।তাদের উপর যে কোনো সময় আঘাত আসতে পারে।তারজন্য সাধারণ জনজাতিদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে।অর্থাৎ সাধারণ মানুষকে দিয়ে ঝামেলা পাকিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক ফায়দা তুলার চেষ্টা করছে।
এর রকম ঘটনা ত্রিপুরাতে নতুন নয়।গত বছর পানিসাগর কাণ্ডে জনজাতি সম্প্রদায়ের এক দমকল কর্মী মৃত্যু হয়েছিলো আন্দোলনকারীদের রোষানলে পড়ে। এই ঘটনার পর একেই ভাবে একটা স্বার্থনেশি মহল পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করেছিল। দোষীদের গ্রেফতারের দাবি তুলে দিয়েছিল সাম্প্রদায়িক সুড়সুড়ি। গ্রাম পাহাড়ে জনজাতি সম্প্রদায়ের লোকজন নেমে গিয়েছিলো রাস্তায়। বিভিন্ন উপজাতি মহল্লাতে করেছিলো মিছিল,মিটিং। ২০১৩-সালে জিরানিয়াতে রবি-লিটনের মৃত্যু কেন্দ্র করে একই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল রাজ্যে।গ্রামে বাঙালি সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে বিরাজ করছিল আতঙ্ক।এই ঘটনার পর কিছু কিছু অঞ্চলের বাজার-হাটে বাঙালিদের যাওয়ার উপর জারি করেছিলো নিষেধাজ্ঞা। তখনই একাংশ উপজাতি সম্প্রদায়ের লোকজন রবি-লিটনের মৃত্যু কেন্দ্র করে বিষিয়ে তুলেছিল গোটা রাজ্যের পরিস্থিতি।এবারও ঘটছে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি।দুই টিএসআর জওয়ানের মৃত্যুর ঘটনার পেছনে “অদৃশ্যে” কিছুই নেই।সব সামনে চলে এসেছে।তারপরও কেন বিশেষ অংশের মানুষের ফিসফিস চলছে রাজ্য জুড়ে।তারাই রাজ্যের আকাশে ফের ডেকে আনছে এক অশনি সংকেত।

Leave a Reply

Your email address will not be published.