ডেস্ক রিপোর্টার,১১জানুয়ারি।।
“করোনার প্রথম ঢেউ ও দ্বিতীয় ঢেউ যেভাবে মোকাবিলা করা হয়েছে,তৃতীয় ঢেউও মোকাবিলা করা হবে শক্ত হাতে।তার জন্য সরকারকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে হবে রাজ্যের আমজনতার।” করোনার তৃতীয় ঢেউয়ে রাজ্যবাসীর উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে গিয়ে একথা বলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, করোনার প্রথম ঢেউ ও দ্বিতীয় ঢেউয়ে রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অনেক উন্নতি হয়েছে। দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্যই তা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে রাজ্যের করোনা পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তৃতীয় ঢেউয়ে করোনার সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে যাচ্ছে।রাজ্যে সংক্রমণের শতকরা হার ৭.০৯ শতাংশ।সংক্রামন প্রতিরোধ করতেই রাজ্য প্রশাসন প্রথম ধাপে নাইট কার্ফুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের মানুষের উদ্দেশ্যে বলেন, করোনার সমস্ত বিধি নিষেধকে মান্যতা দিতে হবে।চলাফেরা করতে হবে সতর্ক ভাবে।পরিধান করতে হবে মাস্ক, বজায় রাখতে হবে দৈহিক দূরত্ব, ব্যবহার করতে হবে স্যানিটাইজার।মুখ্যমন্ত্রী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ” করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের ক্ষেত্রে মাস্ক খুব গুরুত্বপূর্ণ।মাস্ক ব্যবহার করলে অনেকাংশেই রক্ষা পাওয়া যাবে সংক্রমণের হাত থেকে।
মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের করোনা চিকিৎসার পরিকাঠামোর চিত্র তুলে ধরে বলেন, এই মুহূর্তে রাজ্য স্বাস্থ্য প্রশাসনের কাছে রয়েছে ২২টি অক্সিজেন প্ল্যান্ট(এডিসির প্ল্যান্ট সহকারে)।অক্সিজেন কনসেন্টেটর আছে ১৭২৯টি।অক্সিজেন সিলিন্ডার রয়েছে ২২৬৩টি।অক্সিমিটার রয়েছে ২০,৩৯১টি।এবং ১৯৩টি রয়েছে ভেন্টিলেটর।
মুখ্যমন্ত্রী করোনার সংক্রমণের পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, তৃতীয় ঢেউয়ে মারাত্মক অবস্থানে রয়েছে আগরতলা পুর নিগম এলাকা।নিগমে সংক্রমণের হার ১৭.২২শতাংশ। মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া জেলা ভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিম জেলাতে সংক্রমণের হার১০.২৯ শতাংশ,খোয়াইয়ে ৫.০২ শতাংশ,সিপাহিজলায় ৫.৪২ শতাংশ,গোমতী জেলায় সংক্রমণের হার ৫.২১।দক্ষিণ জেলায় সংক্রমণ ৭.১২,উত্তর জেলায় সংক্রমণ ১.৪৯ শতাংশ, ঊনকোটিতে সংক্রমণের হার ৫.২৫ ও ধলাই জেলায় ৪.২৫ শতাংশ।
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বার্তায় জানিয়েছেন, গোটা রাজ্যে করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য ৩৬১৯টি বেড রয়েছে।অতিরিক্ত আরো ২০হাজার শয্যার ব্যবস্থা করবে রাজ্য সরকার। সংক্রমিত রোগীদের হোম আইসলেশনে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে প্রতি মুহূর্তে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও প্রশাসনের লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
” বিমানে,রেলে বা সড়ক পথে বহিঃ রাজ্য থেকে আসা যাত্রী ও চালকদের করোনা টেস্ট বাধ্যতামূলক।কিন্তু অনেকেই করতে চান না।তবে এটা কাম্য নয়।”—বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। টিকা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, গত ৩রা জানুয়ারি থেকে ১৫-১৮ বছর বয়সীদের টিকাকরণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে রাজ্যে। রাজ্যে এই বয়সের লোকজন রয়েছে ২লক্ষ ১৩হাজার।তারমধ্যে ৭৭হাজারের টিকাকরণ করা হয়েছে। টিকাকরণের শতকরা হার ৩৬.১৮ শতাংশ। অথচ জাতীয় স্তরে এই বয়সের টিকাকরণের গড় ২৮ শতাংশ।
সর্বোপরি মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, ভয়ের কোনো কারণ নেই।তবে সতর্ক থেকে করোনার বিধি নিষেধকে মান্যতা দিয়ে হবে। তবেই করোনার তৃতীয় ঢেউ মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।এবং জনতার পাশে সর্বক্ষণ থাকবে রাজ্য সরকারও।

Leave a Reply

Your email address will not be published.