ধর্মনগর ডেস্ক, ১১ফেব্রুয়ারি।।

“পূর্বতন সরকার দুই বছরে এসডিএম অফিস বানাতে পারেনি। এই সরকার একবছরে একসঙ্গে এক হাজার ফ্ল্যাট বানানোর কাজ করেছে। বাম জামানায় ২.৪ শতাংশ ঘরে জলের সংযোগ ছিল। কিন্তু বিজেপি সরকার আসার পর রাজ্যের ৪২ শতাংশ ঘরে জলের সংযোগ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।” —বক্তা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব। শুক্রবার উত্তর জেলা সফরে গিয়ে পানিসাগর এসডিএম অফিস উদ্বোধন করে একথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
২০১৬ সালে পানিসাগরের এসডিএম অফিস নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল। সম্পন্ন হলো ২০২২ সালে। মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন, কেন দুই বছরেও সম্পন্ন হল না এসডিএম অফিসের নির্মাণ কাজ?বাস্তব অর্থে নির্বাচন আসলেই শিলান্যাস করে দিতো কিন্তু কিভাবে সেই কাজ সম্পন্ন হবে তার খবর রাখতো না পূর্বতন বাম সরকার।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বিগত দিনের অপরিকল্পিত প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রবণতা ও নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনের স্লথতা কাটিয়ে, বর্তমানে সময়ের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বাস্তবায়নে এসেছে দ্রুততার সহিত।মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এক সময়ে রাজ্যের বাইরে কর্মক্ষেত্রে যোগ দেওয়া ত্রিপুরার চিকিৎসকগণ।তারা এখন বর্তমান সরকারের সম্মানজনক আহ্বানে সাড়া দিয়ে রাজ্যমুখী হচ্ছেন। রাজ্যে প্রথম ওপেন হার্ট সার্জারি থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিফলিত হচ্ছে তার প্রভাব।
উত্তর জেলা সফরে গিয়ে এদিন মুখ্যমন্ত্রী পানিসাগর মহকুমা শাসক অফিসের নবনির্মিত ভবন উদ্বোধনের পাশাপাশি পানিসাগর হাসপাতালের নতুন বাড়িও উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী।পানিসাগরের প্রতিটি জনপদকে সড়কের সাথে যুক্ত করার লক্ষ্যে গতি আনতে এদিন মুখ্যমন্ত্রী সূচনা করেন ১০১টি পেভার ব্লক দ্বারা তৈরী রাস্তার।
সমস্ত সংকীর্ণতার উর্দ্ধে উঠে স্বচ্ছতার সহিত নাগরিক পরিষেবা প্রদানে উপযুক্ত সুবিধাভোগী পর্যন্ত সুফল পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে রাজ্যব্যাপী গুচ্ছ পরিকল্পনা রূপায়িত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
পানিসাগর এসডিএম অফিসের নতুন বাড়ি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মানুষের সাথে ওতপ্রোতভাবে সম্পৃক্তকরণের মধ্যেই নেতৃত্বের অস্তিত্ব নির্ভরশীল । এটাই হউক অন্যতম পরিচায়ক ।” আমি ও আমার ” এই দুইয়ের উর্দ্ধে উঠে, সাংগঠনিক অনুশাসন ও শৃঙ্খলার প্রতি যথার্থ সম্মাননা প্রদর্শন ও মান্যতার মধ্য দিয়ে, সন্মিলিত ভাবে, নরেন্দ্র মোদী প্রদর্শীত লক্ষ্যে অবিচল থাকা অবশ্যক । মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, দেশের সার্বিক বিকাশ ও কর্যকর্তাদের প্রতি নিবেদিত প্রাণ, বিকাশ পুরুষ মোদীর আন্তরিক দৃষ্টির ফলশ্রুতিতে, ত্রিপুরা দেশের উন্নয়নের মূল স্রোতের সাথে শামিল হয়েছে । রূপরেখা তৈরী করে, আরও নিবিড় জন-সম্পর্ক স্থাপন দ্বারা অন্তিম ব্যক্তি পর্যন্ত বিভিন্ন প্রকল্পের সহায়তার সুফল সুনিশ্চিকরণ ও রাজ্যের প্রবাহমান ইতিবাচক কর্মকান্ড সম্পর্কে জন-চেতনার উন্মেষ ঘটানো সম্ভব ।
এদিন যুবরাজ নগর আরডি ব্লকের অন্তর্গত তিলথৈ-এ নির্মিত পেভার ব্লক সড়কটিরও জনগণের স্বার্থে উন্মুক্ত করা হয়েছে। উত্তর ত্রিপুরা জেলা সফরে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সাংগঠনিক ও উন্নয়নমূলক পর্যালোচনার বৈঠকও করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব ধর্মানগরে গিয়ে ছুটে যান স্থানীয় রাম ঠাকুর মন্দিরে।এদিন ছিলো মহাপুরুষ শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের ১৬২তম আবির্ভাব দিবস। মুখ্যমন্ত্রী রামঠাকুর সেবা মন্দিরে গিয়ে রাজ্যের মঙ্গলার্থে প্রার্থনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। উত্তর জেলা সফরে গিয়ে রাজনৈতিক সৌজন্যতাও দেখান মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব।এদিন ছিলো রাজ্য বিধানসভার প্রয়াত প্রাক্তন অধ্যক্ষ তথা যুবরাজ নগরের বিধায়ক রমেন্দ্র চন্দ্রা দেবনাথের পরলৌকিক ক্রিয়া। প্রয়াত রমেন্দ্র চন্দ্র দেবনাথের তিলথৈস্থিত বাড়িতে ছুটে যান মুখ্যমন্ত্রী। এবং প্রয়াতের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন খুদে শিল্পী তথা খোল বাদক সুহিত নাথ খোল বাজিয়ে পাওয়া তার প্রথম সাম্মানিক ২১০০টাকা তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে।খুদে শিল্পী সুহিত নাথের এই চিন্তাভাবনার প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী।

Leave a Reply

Your email address will not be published.