আমবাসা ডেস্ক,১১মার্চ।।
“গ্রাম নির্ভর অর্থনীতিই হচ্ছে নগরোন্নয়নের অন্যতম শর্ত। এই ভাবনা থেকে রাজ্যের প্রান্তিক এলাকা পর্যন্ত অর্থসামাজিক জীবনমান উন্নয়ন সহ রাজ্যের সর্বাঙ্গীন বিকাশে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কাজ করছে রাজ্য সরকার।” শুক্রবার আমবাসা ব্লকের জগন্নাথপুরে নবনির্মিত সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক কার্যালয়ের উদ্বোধন করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব৷ এই কার্যালয় নির্মাণের জন্য ভূমিদানকারী সুমিতা চাকমাকেও সম্মাননা জ্ঞাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নাগরিক অধিকার সুনিশ্চিতকরণ ও অন্তিম ব্যক্তি পর্যন্ত সমস্ত পরিষেবার সুফল বন্টন সরকারের প্রাধান্যের ক্ষেত্র। এই লক্ষাপ্রাপ্তির পথে আরও গতি আনতে নাগরিক পরিষেবা প্রদানকারী পরিকাঠামো উন্নয়নে এসেছে অগ্রগতি। বিগত দিনে জনজাতি অধ্যুষিত অঞ্চল সহ রাজ্যের সর্বাঙ্গীন বিকাশে অনীহা উন্নয়ন কর্মযজ্ঞের বাস্তবিক প্রতিফলন ও বিকাশের অসমবন্টনের অন্যতম কারণ। দাবি আদায়ের লক্ষ্যে নাগরিকদের আন্দোলনে ব্যস্ত করে রাখার বদলে বর্তমান সরকারের সময়ে বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে যথার্থ অনুধাবন দ্বারা তার সমাধান করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। কেন্দ্র ও রাজ্য উভয় সরকারের আন্তরিকতায় রাজ্যের প্রাপ্তির তালিকা ক্রমশ স্ফীত হচ্ছে। বিগত দিনের সংকীর্ণতার উর্ধ্বে উঠে সমস্ত পরিষেবা ও প্রকল্পের সুফল বন্টনে এসেছে স্বচ্ছতা।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আন্তরিক দৃষ্টিভঙ্গির ফলশ্রুতিতে উত্তর পূর্বের পাশাপাশি রাজ্যের সর্বাঙ্গীন উন্নয়নে এসেছে গতি। ত্রিপুরাকে দেশের একটি অন্যতম প্রদেশ গড়ে তুলতে গুচ্ছ পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে। বিগত দিনের অসম উন্নয়নে সমতা আনতে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কাজ চলছে রাজ্যব্যাপী। কর্মক্ষেত্রের নিয়োগে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ সহ মহিলাদের কর্মসৃজনে গৃহীত বিভিন্ন পরিকল্পনার সুফল হিসেবে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথ খুঁজে পেয়েছেন মহিলারা। উন্নত সড়ক, গ্রামীণ স্তর পর্যন্ত নাগরিক পরিষেবা প্রদানকারী পরিকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিশ্রুত পানীয়জল সহ উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ রাজ্যব্যাপী সফলভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে। রাজ্যের জনজাতিদের আর্থসামাজিক জীবনমান উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা নিচ্ছে ১৩০০ কোটির আর্থিক প্যাকেজ। এক সময়ে উন্নয়নের প্রশ্নে উপেক্ষিত বিভিন্ন অঞ্চলগুলিতে বর্তমানে উন্নয়নের সমবন্টনের ফলশ্রুতিতে সাফল্য পরিলক্ষিত হচ্ছে। তার পাশাপাশি ডুম্বুর পর্যটন কেন্দ্র নির্ভর অত্যাধুনিকীকরণ ও নব পরিষেবার সংযোজন পর্যটক আগমন প্রবণতা বৃদ্ধির পাশাপাশি রাজ্যের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথকে সুগম করছে। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিধায়ক পরিমল দেববর্মা। এদিনের অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপমুখ্যমন্ত্রী যীষ্ণু দেববর্মা, জনজাতি কল্যাণ মন্ত্রী মেবার কুমার জমাতিয়া, বিধায়ক পরিমল দেববর্মা, ধলাই জেলার জেলাশাসক গোভেকার ময়ূর রতিলাল প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.