ত্রিপুরা তৃণমূল ইনচার্জ রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়(ফাইল ছবি)।

ডেস্ক রিপোর্টার, ১৩আগষ্ট।।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল সরকারের রাজত্বে দুর্নীতির আখড়া হয়ে উঠছে পশ্চিম বাংলা। তৃণমূল নেতারা একের পর এক গ্রেপ্তার হচ্ছেন দুর্নীতির অভিযোগে। তাদের ঘর থেকে উদ্ধার হচ্ছে প্রচুর পরিমাণ কালো টাকা। কাউর বিরুদ্ধে আবার গরু পাচারের অভিযোগ।কোন কোন নেতার কালো ধন নিয়ে দলীয় কর্মীরাই কলকাতার রাজপথে সেটে দিয়েছে পোস্টারও। মমতার ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও তো কয়লা কেলেঙ্কারি অভিযোগ রয়েছে। সব মিলিয়ে দুর্নীতিবাজ নেতাদের নিয়ে অশান্তিতে কাটাচ্ছেন বাংলার দিদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে কখনো কখনো তিনি দুর্নীতিবাজ ভাইদের পক্ষ নিয়েও কথা বলতে দ্বিধা বোধ করেন না। দৃষ্টান্ত স্বরূপ সিবিআইয়ের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া অনুব্রত মণ্ডলের হয়ে শুক্রবার ব্যাটন ধরলেন মমতা। এবং এক হাত নিলেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুর্নীতিবাজ দূতদের মধ্যে পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও অনুব্রত মণ্ডল ইতিমধ্যেই ইডি ও সিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন। আরো কয়েকজন রয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার রাডারের মধ্যে। তাদের মধ্যে একজন এই মুহূর্তে ত্রিপুরার তৃণমূল কংগ্রেসের ইনচার্জের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি হলেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। এক সময়ে রাজীব ছিলেন বাংলার তৃণমূলের ডাক সাইটের নেতা ও মন্ত্রী। কিন্তু তিনি ১৯’র লোকসভা নির্বাচনের আগে দিদি মমতার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। ছেড়ে দিয়েছিলেন মন্ত্রীত্ব। অমিত শাহের পাঠানো বিশেষ চার্টার বিমানে উড়ে গিয়েছিলেন দিল্লিতে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় শেষ রক্ষা হয়নি। বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি’র টিকিটে লড়াই করেও হেরে যান। বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর দিদিকে ধরে রাজীব ফের ফিরে আসেন তৃণমূলের প্যাভিলিয়নে।

রাজীব বন্দোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতির পোস্টার।


তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় রাজীবকে দলে টেনে নিয়ে পুনর্বাসন দেন ত্রিপুরায়। বিজেপির চৌকাঠ ঘুরে ফের তৃণমূলে আসা রাজীবকে দলের ত্রিপুরা শাখার ইনচার্জের দায়িত্ব দেন অভিষেক। রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় তা লুফে নেন। কারণ এছাড়া রাজীবের কাছে বিকল্প কোন পথ খোলা ছিল না। রাজীব ভেবেছিলেন, ত্রিপুরার চার বিধানসভা কেন্দ্রের উপভোটে তৃণমূল চমক দেবে। এবং দল সাফল্য পেলে ফের বঙ্গে স্থায়ী জায়গা পাবেন তিনি। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাস।ত্রিপুরার উপভোটে সুপার ফ্লপ করেছে তৃণমূল। রাজীব টাকা-পয়সা খরচা করেও তৃণমূলের ভোট(২.৯) তিন শতাংশ পৌঁছাতে পারেননি। রাজনীতিকরা বলছেন,এক্ষেত্রে অবশ্যই রাজীব একা দায়ী নন, দলের প্রদেশ সভাপতি সুবল ভৌমিক গোটা দলটাকে উই পোকার মতো কেটে দিয়েছেন।তাই ভোট ময়দানে তৃণমূল মিশে যায় মাটিতে। তাতে অবশ্যই রাজীবের অনেক বড় ক্ষতি হয়েছে।
রাজনীতিকদের কথায়,বাংলায় নিজের ভীত মজবুত করতে ত্রিপুরাতে সাফল্য দরকার ছিল। কিন্তু তা হয় নি। যাই হোক, রাজীব ত্রিপুরাকে আকড়ে ধরে বসে আছেন। এবং ত্রিপুরার ২৩র বিধানসভা ভোটের জন্য দলকে প্রস্তুত করছেন।
রাজীব যখন ত্রিপুরাকে নিয়ে অলৌকিক স্বপ্ন দেখছেন!তখন এই খোদ কোলকাতাতে পড়লো তার দুর্নীতির উপাখ্যানের পোস্টার। হাওড়া জেলায় রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুর্নীতির পোস্টারে পোস্টারে ছয়লাপ। রাস্তা বিভিন্ন অলিগলিতে সেটে দেওয়া হয়েছে তৃণমূল নেতা রাজীরের দুর্নীতির পোস্টার। তবে এই পোস্টার বিরোধীরা সেটে দেয় নি। দিয়েছে দলের হাওড়া জেলার যুব ব্রিগেড। অন্তত পোস্টার দেখে এটাই আন্দাজ করা যায়।
ত্রিপুরা রাজ্যের তৃণমূল কংগ্রেসের ইনচার্জ রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সেটে দেওয়া দুর্নীতির পোস্টারে কি লেখা ছিলো? তাও দেখে নেওয়া যায় এক ঝলকে।
*১ ) রাজীব ব্যানার্জী গুজরাট নর্মদা অটোর ডিলার ফিরোজ আলমের ” ক্লাসিক” কোম্পানীতে ৬০০ টাকা মাইনেতে কাজ করতো , সে আজ হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক হলো কি করে ?

*২ ) গুজরাট নর্মদা অটোর টাকা মেরে “সর্বরী অটো”-র মালিক রাজীব ব্যানার্জীকে কেন ঐ কোম্পানী বন্ধ করতে হয়েছিল ?

*৩ ) কোথা থেকে রোজগার করা রাজীবের ৮০০ কোটি টাকা দুবাইতে ধরা পড়ল ?

*8 ) ডি বি (DEE BEE) নামে যে ভুয়ো কোম্পানীকে দিয়ে কোটি কোটি টাকা লুঠ করা হয়েছে তা কোথায় গেছে ?

*৫ ) দক্ষিণ ভারতে ও কালিকাপুৱে যে ১৪০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে সেই টাকার উৎস কী ? সেচ দপ্তর, নাকি বালি খাদান, নাকি ন্যাশানাল হাইওয়ে ?

* ৬ ) শ্যালিকা সুরঞ্জনা ও ভাগ্নেদেরকে ওয়েস্ট বেঙ্গল এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশনে চাকুরী দিয়ে ও বন দপ্তরে নিয়োগে কেলেঙ্কারী করে ফেসবুকে বেকারদের মাসিহা হওয়া যায় কী ?

* ৭ ) বালির সরকারী রাজস্ব আদায় কি কারণে কমে যাওয়ার ফলে সেচ দপ্তর থেকে ভূমি রাজস্ব দপ্তরের স্থানান্তরিত হল ?

*৮) কী ভাবে ভাইরা সামান্য কেরানী থেকে রাজ্যের অন্যতম বিজ্ঞাপন সংস্থার’র মালিক হল ?

*৯ ) হাওড়ায় এত জায়গা কিভাবে শতশত কোটি টাকার বেনামী সম্পত্তির মালিক হল ?

*১০ ) ডোমজুড়ে উন্নয়নে এলাকার মানুষকে বঞ্চিত করে মমতা ব্যানার্জীর পাঠানো কোটি কোটি টাকার কার্টমানি পকেটে ঢোকানো হল কার স্বার্থে ?

এই পোস্টার ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়।

তৃণমূল কংগ্রেস নেতা রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সাঁটানো পোস্টার থেকেই স্পষ্ট তার সঙ্গে দুর্নীতির সম্পর্ক কতটা মধুর। দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত এই তৃণমূল নেতা এখন ত্রিপুরার ঘাসফুল শিবিরের পর্যবেক্ষক। দুর্নীতির অভিযোগ থাকা এরকম একজন নেতাকে দিয়ে ত্রিপুরার তৃণমূল কংগ্রেস কতটা আলো জ্বালাতে পারবে তা নিয়ে সন্ধিহান রাজ্যের মানুষ। তাছাড়া এই ধরনের দুর্নীতিবাজ নেতা কোনোভাবেই রাজ্যের শাসক দলের দুর্নীতি নিয়ে সরব হতে পারবেন না । কেননা, নিজেই দুর্নীতির আষ্টেপিষ্ঠে জড়িত।তাহলে শাসকের দুর্নীতি নিয়ে কথা বলতে গেলে থু থু যে তার উপরেই পড়বে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published.