*অভিজিৎ ঘোষ*
———————–

প্রয়াত হয়েছেন রাজ্য সিপিআইএম’র দুই বরিষ্ঠ নেতা গৌতম দাস ও বিজন ধর। বর্তমানে দলের ব্যাটন দেওয়া হয়েছে জিতেন্দ্র চৌধুরীর কাছে।তিনি বর্তমানে সিপিআইএম রাজ্য কমিটির সম্পাদক। সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়ে কিভাবে সাজাবেন দলকে? কতটা গুরুত্ব দেবেন যুবাদের? রাজ্য রাজনীতিতে সদ্য গজিয়ে ওঠা তৃণমূল কংগ্রেস নিয়ে কি ভাবছে বামেরা। শাসক জোট বিজেপি-আইপিএফটি বিরুদ্ধে কী রণ কৌশল নেবে বামেরা? সর্বপরি রাজ্য জুড়ে হিংসা নিয়ে “জনতার মশাল”কে একান্ত সাক্ষাৎকার দিলেন সিপিআইএম’র রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী।


*** ২০২৩-র বিধানসভা নির্বাচনে ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যাবে বিজেপি-আইপিএফটি জোট।

*** জোট সরকারের পতনের দেওয়াল লিখন শুরু। তা দেখতে পারছেন নীতি নির্ধারকরা।

*** তৃণমূল কংগ্রেস নীতিহীন,যুক্তিহীন একটি দল। ত্রিপুরার মাটিতে তাদের কোনো ভবিষ্যত নেই।

*** অচিরেই পাহাড় রাজনীতি থেকে হারিয়ে যাবে তিপ্রামথা। এখনই তিপ্রার উপর থেকে আস্থা হারিয়ে ফেলছে পাহাড়ের মানুষ।

*** রাজ্যের সংঘটিত হিংসায় লজ্জিত দেশের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।


প্রশ্ন–১
———–
*জনতার মশাল:
আপনি রাজ্য সম্পাদকের দায়িত্ব নেওয়ার পর দল অনেক বেশি চাঙ্গা হচ্ছে।দাবি সিপিআইএম কর্মী-সমর্থকদের।আপনার বক্তব্য কি?

*জিতেন্দ্র চৌধুরী:
এটা ঠিক বলতে পারবো না।তবে গৌতম দাসের অসুস্থতা ও তাঁর মৃত্যুর সব মিলিয়ে একটি গ্যাপ তৈরি হয়েছিলো।কারণ এর আগেই দলের গঠন তন্ত্র অনুযায়ী, দলের তৃণমূল স্তর থেকে সর্ব ভারতীয় স্তর পর্যন্ত সাংগঠনিক কাজকর্ম শুরু হয়।তাতে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক নানান বিষয়ের চুলচেরা বিশ্লেষণ হয়।এই সব কার্যকলাপের ফলে সমস্ত স্তরের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উদ্দীপনা শুরু হয়।তাই বলছি,পূর্বতন রাজ্য সম্পাদক গৌতম দাস থাকাকালীন রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য দলীয় নেতা-কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে প্রয়াস শুরু হয়েছে।

প্রশ্ন-২
———-
জনতার মশাল:
সিপিআইএম’র রাজ্য সম্পাদক হিসাবে আপনি কিভাবে দলকে সাজাতে চান?

জিতেন্দ্র চৌধুরী:
সিপিআইএম যৌথ নেতৃত্বের দ্বারা পরিচালিত হয়। গোটা রাজ্যে সংগঠনকে আরো মজবুত করা এবং তৃণমূল স্তরের সঙ্গে রাজ্য নেতৃত্বকে মধ্যে সমন্বয় আরো সুদৃঢ় করাই মূল লক্ষ্য।

প্রশ্ন-৩
———
জনতার মশাল:
রাজ্য সিপিআইএম’র নীতি নির্ধারকদের মধ্যে সর্বস্তরে সিংহ ভাগ প্রবীণ নেতারাই। যুব নেতাদের সংখ্যা অনেক কম। বর্তমানে দল যুবদের কতটা গুরুত্ব দেবে?

জিতেন্দ্র চৌধুরী:
ঠিক বলেছেন।এই বিষয়টি নিয়ে দলের মধ্যেও আত্ম সমালোচনা আছে।নেতৃত্ব দানকারী বিভিন্ন কমিটির মধ্যে বয়স্কদের পাল্লা ভারী।বিগত পার্টি কংগ্রেস ও পার্টি প্লে-নামে এই সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।ব্রাঞ্চ থেকে কেন্দ্রীয় কমিটি পর্যন্ত নেতৃত্বের মধ্যে বয়সের ভারসাম্য আনার চেষ্টা চলছে।কেরল,পশ্চিমবঙ্গে অনেক তরুণ নেতাদের তুলে আনা হয়েছে।রাজ্যেও এর ব্যতিক্রম ঘটবে না।নতুন মুখ তুলে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে রাজ্যেও।

প্রশ্ন–৪
———
জনতার মশাল:
আপনি এই মুহূর্তে সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন।এটা অনেকটা দেরি হয়ে গেলো কিনা? প্রাক্তন রাজ্য সম্পাদক গৌতম দাস যদি প্রয়াত না হতেন তাহলে কি আপনি এই সন্মান পেতেন?

জিতেন্দ্র চৌধুরী:
এটা কোনো কথা নয়। একটা দুর্ঘটনা হয়ে তাই আমি রাজ্য সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছি এমনটা নয়।সামনে রাজ্য সম্মেলন হবে।তখনও দায়িত্ব পেতে পারতাম।

প্রশ্ন–৫
———–
জনতার মশাল:
বর্তমান পাহাড় রাজনীতি নিয়ে আপনার বক্তব্য কি? পাহাড়ে বামেদের ভীত কতটা শক্তিশালী?

জিতেন্দ্র চৌধুরী:
২০২১-র এডিসি নির্বাচনের ফলাফল নতুন কিছু নয়। রাজ্যের দুইটি সম্প্রদায়ের মধ্যে বিবাদ সৃষ্টি করে ভোটের ফায়দা এর আগেও তোলা হয়েছিলো।পঞ্চাশের দশকের থেকেই পাহাড়ে এই রাজনীতি চলে আসছে।এখনো চলছে।আগামী কিছু দিনও চলবে।১৯৮০-তে এই আবেগ তোলা হয়েছিলো।আদিবাসীদের বুঝানো হয়েছিলো তারা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আসবে না।তার একা লড়াই করবে অধিকার আদায়ের জন্য।১৯৯০,২০০০সালেও পাহাড় ভেসেছিল এই আবেগের উপর ভিত্তি করে।২০২১-এও সেই “অন্ধ আবেগ”। ত্রিপুরাতে এই ধরণের রাজনীতি স্থায়ী হয় না।পাহাড়-সমতল এক সঙ্গে চলতে হবে।যারা এই রীতির বাইরে গিয়েছে,তারা সাময়িক ভাবে সফল হলেও অচিরেই অস্তিত্বহীন হয়ে যায়।ইতিহাসও তাই বলে।

প্রশ্ন–৬
———–
জনতার মশাল:
২০২৩-র বিধানসভা নির্বাচনে পাহাড়ে সিপিআইএম কতটা লড়াই করতে পারবে? নাকি তিপ্রার দাপটে নিষ্প্রভ হয়ে যাবে?

জিতেন্দ্র চৌধুরী:
দেখুন তথ্য দিয়ে বলছি, ১৯৯০-সালে এডিসি নির্বাচনে বামফ্রন্ট হেরে গিয়েছিলো।কিন্তু ১৯৯৩-র বিধানসভা নির্বাচনে পাহাড়-সমতলে বামেদের জয়জয়কার হয়।রাজ্যে ক্ষমতায় সত্ত্বেও ২০০০ সালে এডিসিতে সিপিআইএম পরাজিত হয়।২০০৩-এর বিধানসভা নির্বাচনে পাহাড়ে ধুয়ে মুছে যায় বিরোধী শক্তি। ক্ষমতায় আসে বামেরা। সুতরাং পাহাড়ে এখনো বামেদের ভীত যথেষ্ট শক্ত। পাহাড়ে অস্বাভাবিক পরিস্থিতির কারণে কেউ কেউ ভাবছে পাহাড়ে বামেরা দুর্বল।পাহাড়ে মূল উন্নয়ন করছে বামেরা।বাকীরা তো লুঠ করেছে।এখনো তাই চলছে।তিপ্রামথা ক্ষমতায় আসার পর পাহাড়ে কি চলছে তা আচ করতে পারছে সাধারণ মানুষ।

প্রশ্ন–৭
————
জনতার মশাল:
রাজ্য সিপিআইএম’র সর্বোচ্চ নেতৃত্বের মধ্যে একটা সংঘাত চলছে।এই গুঞ্জন রাজনৈতিক মহলে। নেতৃত্বের সংঘাত নিয়ে কি বলবেন?

জিতেন্দ্র চৌধুরী:
এমন কিছুই নেই।বামেরা এখন আক্রান্ত,রক্তাক্ত।এই অবস্থায় নিজেদের মধ্যে ভাগ হওয়ার কোনো প্রশ্ন নেই।এখন সবাই সংঘবদ্ধ।নিজেরা নিজেদের সঙ্গে লড়াই করে দুর্বল হতে যাবো কেন? যদি বামেরা শাসন ক্ষমতায় থাকতো তাহলে একটা কথা ছিলো।এখন তো শাসক দল বিজেপিতে যদু বংশের লড়াই শুরু হয়েছে।

প্রশ্ন–৮
———
জনতার মশাল:
বামেরা যখন ক্ষমতায় ছিলো, তখন কি শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সংঘাত ছিলো?

জিতেন্দ্র চৌধুরী:
না। এমন কিছু নয়।তখন যদি এই প্রশ্নটা উঠতো তাহলে মানা যেতো।এখন নিজেদের মধ্যে সংঘাতের কোনো কারণ নেই।

প্রশ্ন-৯
———
জনতার মশাল:
রাজ্য রাজনীতির নতুন শক্তি তৃণমূল কংগ্রেস। এই দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে কি বলবেন।রাজনীতির ময়দানে তৃণমূল কি বামেদের বেগ দেবে?

জিতেন্দ্র চৌধুরী:
তৃণমূল কংগ্রেস অন্য রাজ্যে শাসন ক্ষমতায় থাকতে পারে।সেই রাজ্যে তৃণমূল মিহীরুহ।কিন্তু ত্রিপুরার মাটি আলাদা।তৃণমূল নতুন কিছু নয়।রাজ্যে যখন বিজেপি ছিলো না,তখন তৃণমূল ছিলো।আজকে যারা বিজেপি,তারা পুরানো তৃণমূল।হয়তো বা তারাও তৃণমূল কংগ্রেসে যেতে পারে।সুতরাং লড়াই হবে বিজেপি-তৃণমূল কংগ্রেসের।দুর্বল হবে দুইটি দলই।তাতে বামেদের কিছু আসে যায়না।

প্রশ্ন-১০
——–
জনতার মশাল:
২০২৩-র বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে যদি জোট করার প্রস্তাব আসে তাহলে কি সেই প্রস্তাব কমিউনিস্ট পার্টি গ্রহণ করবে?

জিতেন্দ্র চৌধুরী:
না। তবে কমিউনিস্টরা জোট করে না এমন নয়। যে দল গণতন্ত্র বাঁচানোর জন্য লড়াই করে, স্বৈরাচারী শাসকের বিরুদ্ধে লড়াই করে কমিউনিস্টরা তাদের সঙ্গে জোট করে।ত্রিপুরাতে তৃণমূল কংগ্রেসের আন্দোলন কই? ত্রিপুরাতে শাসক বিজেপি যা করছে, বাংলাতে তৃণমূলও তাই করছে।গত ৩অক্টোবর বাংলায় রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা পলিটব্যুরো সদস্য মানিক সরকারের জনসভা ছিলো।তৃণমূল কংগ্রেস জনসভার আগেই মঞ্চ ভেঙে দিলো। বিজেপি-তৃণমূল মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। শুধু মাত্র রাজ্যে বিজেপিকে হারানোর জন্য নীতিহীন, অযৌক্তিক দল তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে বামেদের জোটের কোনো প্রশ্ন নেই। অথচ ত্রিপুরাতে তৃণমূল বলছে ২৩-এ ক্ষমতায় আসছে তারা। বাস্তব অর্থে তাদের লড়াই কোথায়? কেন ভোট দেবে মানুষ?

প্রশ্ন-১১
———–
জনতার মশাল:
তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী সুস্মিতা দেব।তারা বাবা প্রয়াত সন্তোষ মোহন দেব ছিলেন রাজ্যের সাংসদ। বামেদের অভিযোগ, সেই সময় রাজ্যের জন্য একটি পেপার মিল মঞ্জুর হয়েছিলো।কিন্তু তৎকালীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সন্তোষ মোহন দেব নিজ ক্ষমতা বলে পেপার মিলটিকে শিলচরে স্থানান্তরিত করেছিলেন।বামেদের এই অভিযোগের যুক্তিকতা কতটা?

জিতেন্দ্র চৌধুরী:
অভিযোগ একশ শতাংশ ঠিক।যদি এই পেপার মিল রাজ্যে হতো, তাহলে এই রাজ্যের অর্থনৈতিক অবস্থা আরও ভালো হতো।উন্নয়নের ক্ষেত্রে রাজ্য এগিয়ে যেতো আরো কয়েক ধাপ।


প্রশ্ন-১২
————-
জনতার মশাল:
তৃণমূল নেত্রী সুস্মিতা দেব বলেছিলেন,যখন তাঁর বাবা এই রাজ্যে এসেছিলেন তখন বোমের রাজনীতি চলতো।সুস্মিতা দেবের বক্তব্যের বাস্তবতা কতটা?

জিতেন্দ্র চৌধুরী:
সুস্মিতা দেব একজন উচ্চ শিক্ষিতা মহিলা।দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।ছিলেন কংগ্রেসের মত বড় দলে।কিন্তু তিনি কেন তৃণমূল কংগ্রেসে এলেন?এটা অবশ্যই তাঁর বিষয়। কিন্তু সুস্মিতা ত্রিপুরাতে তাঁর বাবার কীর্তির কথা যত কম বলবেন,ততই তাঁর জন্য মঙ্গল হবে।সন্তোষ মোহন দেব রাজ্য রাজনীতিতে সন্ত্রাস মোহন দেব হিসাবে পরিচিত ছিলেন। কারণ ত্রিপুরাতে সন্তোষ মোহন দেবের কু-কীর্তির অভাব নেই।তবে সুস্মিতার মধ্যে কখনো তার বাবার ছায়া দেখা যায়নি। সুস্মিতা একজন ভালো বক্তা।ভাল মানুষ।ত্রিপুরাতে বাবার কীর্তির কথা বেশি বললে তাঁর জনপ্রিয়তা কমবে।

প্রশ্ন-১৩
———–
জনতার মশাল:
রাজ্যের বর্তমান শাসক জোট সম্পর্কে আপনার বক্তব্য কি?

জিতেন্দ্র চৌধুরী:
বিজেপি-আইপিএফটি জোট সরকারের জামানায় মানুষ ভালো নেই। আইপিএফটি এখন পুরোপুরি ভাবে দেউলিয়া হয়ে গেছে।গত বিধানসভা নির্বাচনে ৭ শতাংশ ভোট পেয়েছিলো।এখন এক শতাংশ ভোটও পাবে না। শাসক জোটের বড় শরিক বিজেপিকে ২০১৮-র বিধানসভা নির্বাচনে যারা ভোট দিয়েছিলো এখন তারা প্রায়শ্চিত্ত করতে চাইছেন।তার জন্য অপেক্ষা করছে তারা।২৩-র বিধান সভা নির্বাচনে করবেন প্রায়শ্চিত্ত।অনেকে আবার ভুলের জন্য কিছু বলতে পারছে না।কিন্তু তারা নীরবে কাঁদছে।মানুষ এখন মুক্তির পথ খুঁজছে। গত ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর শাসক দল গোটা রাজ্যে হিংসা করে বুঝিয়ে দিয়েছে তাদের পায়ের তলায় জমি নেই। কমিউনিস্ট পার্টি অফিসে আক্রমণ,এই ঘটনা বিশ্বে বিরল।এই ঘটনায় লজ্জায় পড়েছে বিজেপি’র শীর্ষ নেতৃত্ব। রাজ্যের হিংসার ঘটনার প্রেক্ষিতে বামেদের পক্ষ থেকে দেশের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ ডেপুটেশন দেওয়ার কথা ছিলো।কিন্তু লজ্জায় তারা ডেপুটেশন রাখেন নি। কারণ তারা জানেন এই বিষয়ে তাদের বলার কিছু নেই।

প্রশ্ন-১৪
————
জনতার মশাল:
বামেদের অভিযোগ বিজেপি’র বাইক বাহিনী গোটা রাজ্যে আস্ফালন শুরু করেছে।তাদের আটকাতে বামেরা কি রণকৌশল নিয়েছে?

জিতেন্দ্র চৌধুরী:
এই অভিযোগ এখন বামেদের না।অভিযোগ সাধারণ মানুষের। গত ৮, ঘটনায় রাজ্য সরকারকে আদালত ভৎসনা করেছে। ধারাবাহিক ভাবে হিংসার ঘটনা ঘটলেও পুলিশ ছিলো ঠুঁটো জগন্নাথ। কমিউনিস্ট পার্টির অফিস,সংবাদ পত্র অফিসে আগুন লাগলেও দেড় মিনিটের পথ আসতে ফায়ার সার্ভিসের সময় লেগেছে দেড় ঘন্টা। সমস্ত পুলিশ নয়,কিন্তু কতিপয় পুলিশ কর্মীদের কারণেই এমন ঘটনা ঘটেছে।তারা রাজ্য সরকার ও শাসক দলের এজেন্ট হয়ে কাজ করছে। পরিষ্কার ভাবে বললে এই সমস্ত পুলিশ অফিসাররা হলো “ব্ল্যাকশিপ”। এই সমস্ত ঘটনা থেকে বিরত থাকার জন্য রাজ্য সরকার ও শাসক দলকে সময় বেঁধে দিয়েছি।নয়তো বাইক বাহিনী কেন,কোনো বাহিনীই কাজ হবে না।উপযুক্ত জবাব দেবে মানুষ। আমজনতা বিজেপির পতনের দেওয়াল লিখন শুরু করে দিয়েছে। তা দেখতে পাচ্ছেন বিজেপি নেতারাও।

প্রশ্ন-১৫
————
জনতার মশাল:
পুজোর পর আগরতলা পুর নিগম ভোট।এই নিগম ভোটে ফেভারিট কে? বিজেপি না সিপিআইএম?

জিতেন্দ্র চৌধুরী:
এই মুহূর্তে এখন কোনো মন্তব্য করতে চাই না।কারণ সরকার ভোট করতে চাইছে না। আগে নিগম ভোটের নোটিফিকেশন বের হোক। তারপর মন্তব্য করবো।আদালতে মামলা দায়ের করার পর এডিসি ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে।এখন পুর ভোট হবে কিনা তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে।

প্রশ্ন-১৬
————-
জনতার মশাল:
২০২৩-এ রাজ্যে ক্ষমতা কোন দল দখল করতে পারে? আপনার মতামত।

জিতেন্দ্র চৌধুরী:
বিধানসভা নির্বাচন এখনো অনেক দেরি।এই মুহূর্তে কোন দল ক্ষমতায় আসবে তা বলার জন্য বলা। এটার কোনো বাস্তব ভিত্তি থাকবে না।তবে এটা নিশ্চিত বিজেপি-আইপিএফটি জোট ধুয়ে মুছে ছাপ হয়ে যাবে। শুরু হয়ে গিয়েছে বিজেপি’র পতনের দেওয়াল লিখন।

প্রশ্ন–১৭
————–
জনতার মশাল:
২০২৩-এ বামেরা ফের ক্ষমতায় এলে কে হবেন মুখ্যমন্ত্রী? মানিক সরকার থাকবেন,নাকি নতুন মুখ?

জিতেন্দ্র চৌধুরী:
বামেদের মধ্যে মুখের অভাব নেই।আমি একজনের নাম বলে দেবো, অন্য কেউ আরো একজনের নাম বলবে,বামেদের মধ্যে তা হয়না।বামেদের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার জন্য এক ডজন মুখ আছে।বাইরে থেকে কাউকে আনতে হয়না।কারণ দলে যোগ্য নেতৃত্বের অভাব নেই।

পরিশেষে বলা যায় ২৩-র মহারণকে সামনে রেখে সাংগঠনিক নীল নকশা তৈরি করছে বামেরা। শহর থেকে সমতল,গ্রাম থেকে পাহাড়,সব জায়গাতেই বিস্তার করছে সংগঠন।দলের বিভিন্ন স্তরে নতুন ভাবে যুবাদের তুলে আনার চেষ্টা শুরু করে দিয়েছে বামেরা।ধীরে ধীরে তারা হয়ে উঠছে আত্মবিশ্বাসী।বদল ঘটছে দলের নেতা-কর্মী-সমর্থকদের শরীরী ভাষায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.