ডেস্ক রিপোর্টার,১৫নভেম্বর।।
তৃণমূল নেতা আশীষ লাল সিংহের অভিযোগ কৈলাশহরে প্রচারে বেরিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন তিনি।ঘটনা রবিবার রাতে।আশীষ লাল সিংহের অভিযোগের তির বিজেপি’র দিকে।বিজেপি’র লোকজন তাঁর গাড়ি ভাঙচুর করেছে।তাঁর চালক ভয়ে জঙ্গলে পালিয়ে গিয়ে আত্মরক্ষা করেন।ঘটনার সময় গাড়িতে ছিলেন না তিনি।কর্মীর বাড়িতে মিটিংয়ে ব্যস্ত ছিলেন।
আশীষ লাল সিংহ জানিয়েছেন, তিনি যখন মিটিং করছিলেন,তখন আচমকা গাড়ি ভাঙার আওয়াজ পান।লোকজন নিয়ে বেরিয়ে আসে বাড়ি থেকে।ততক্ষনে বিজেপি’র লোকজন পালিয়ে যায়। খোঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না তাঁর গাড়ির চালককে।কিছুক্ষণ পর চালক জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসে।সে পালিয়ে গিয়েছিলো ভয়ে।
তারপরই এক নতুন ক্লাইমেক্সের সৃষ্টি হয়।তৃণমূল নেতা আশীষ লাল সিংহ আক্রান্ত হয়েছেন।এই খবর ছড়িয়ে পড়ে গোটা কৈলাশহরে।খবর যায় প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বীরজিৎ সিংহের কানে।সঙ্গে সঙ্গে তিনি ছুটে আসেন আশীষ লাল সিংহের কাছে। কংগ্রেস সভাপতি বীরজিৎ সিংহ বলেন,” কোনো রাজনৈতিক কারণ নয়,তিনি আশীষ লাল সিংহের কাছে এসেছেন পারিবারিক সম্পর্কের কারণে।”
আশীষ লাল সিংহের পাল্টা বক্তব্য, বীরজিৎ সিংহের আগমন “রাজনৈতিক সৌজন্যতা।আর পারিবারিক সম্পর্ক তো আছেই।” প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বীরজিৎ সিংহ ও তৃণমূল নেতা আশীষ লাল সিংহের এই সাক্ষাতকারকে রাজনৈতিক দৃষ্টি ভঙ্গিতে দেখছে শাসক দল বিজেপি।কৈলাশহরে কংগ্রেস ও তৃণমূল নেতার সাক্ষাৎ পর্ব নিয়ে শাসক দলের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে এসেছে শারদ উৎসবের আমেজ।তাদের বক্তব্য, কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে গোপন সমঝোতা রয়েছে।তাতে অবশ্যই লাভ হবে বিজেপি’র।
ঘটনার রাতে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বীরজিৎ সিংহ প্রকারন্তে শাসক দল বিজেপিকে হুমকি দিয়ে বলেন, “তাদের সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে।তবে আমার সঙ্গে আসে না ঝামেলা করতে।আসলে উচিত শিক্ষা দিয়ে দেবো।” রাজনীতিকরা বলছেন, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বীরজিৎ সিংহের এই বক্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।অর্থাৎ প্রয়োজনে বিজেপি’র বিরুদ্ধে পাল্টা হামলার নীতি নিয়ে পারে কংগ্রেস।
এদিকে তৃণমূল নেতা আশীষ লাল সিংহের অনুগামীদের দাবি, তিনি এখন পর্যন্ত চারবার আক্রান্ত হয়েছেন। এর আগেও তাঁর গাড়িতে হয়েছে হামলা।শারীরিক ভাবেও আঘাত করা হয়েছে আশীষ সিংহকে।রাজধানীর বাইরে তৃণমূল কংগ্রেসের সংগঠনকে ধরে রেখেছেন তিনি।অনুগামীদের কথায়, আশীষ আপাদ মস্তক সংগঠক।যখনই দলের কর্মীরা আক্রান্ত হন,ছুটে যান তিনি।কিন্তু দলের একাংশ নেতা রাজধানীতে বসেই স্বপ্ন দেখছে যুদ্ধ জয়ের।তবে এটা বাস্তব যুদ্ধ জয় করতে হলে রাজধানীর চক্রবুহ্যে আবদ্ধ থাকলে কিছুই হবে না। আশীষ লাল সিংহের অনুগামীদের বক্তব্য থেকে স্পস্ট, প্রদেশ তৃণমূল কংগ্রেসের ধীরে ধীরে মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে প্রবল গোষ্ঠি কোন্দলের নোংরা গন্ধ।এক নেতা,অপর নেতাকে দাপিয়ে রাখার কৌশলে মেতে উঠেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.