আগরতলা ডেস্ক,১৬ জুলাই
একই বিমানে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবের সঙ্গে দিল্লি যাত্রা।আবার পাশাপাশি আসনে বসে।তিনি তিপ্রামথার সুপ্রিমো প্রদ্যুত কিশোর দেববর্মন। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে একই বিমানে প্রদ্যুতের সওয়ার হওয়ার ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় ফেলে দিয়েছে।প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে,তাহলে কি প্রদ্যুত কিশোর ও বিজেপি’র মধ্যে গোপন আতাত রয়েছে?
রাজনীতিকরা বলছেন,প্রদ্যুতের গ্রেটার তিপ্রাল্যান্ডের দাবি পূরণ করতে হলে যেকোন জাতীয় দলের সঙ্গে তাকে হাত মিলাতে হবে।এই কথা স্বীকার করেছেন প্রদ্যুতও।তিনি বলেছেন, যে জাতীয় রাজনৈতিক দল তাঁর গ্রেটার তিপ্রাল্যান্ডের দাবি পূরণ করবে,সেই দলের সঙ্গেই তিনি থাকবেন।এই মুহূর্তে বিজেপি যদি তাঁর দাবি মেনে নেয়,তাহলে তিপ্রামথা বিজেপি’র সঙ্গেই থাকবে।অন্তত প্রদ্যুতের কথা থেকে তা স্পস্ট। দিল্লিতে এখন ক্ষমতায় রয়েছে বিজেপি।
কিন্তু বিস্ময়ের বিষয় প্রদ্যুত কিশোর দিল্লিতে গিয়ে ছুটে যান কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর বাড়িতে।ছবি তোলেন প্রিয়াঙ্কার ছেলে রায়হান ভডরার সঙ্গে।অর্থাৎ প্রদ্যুত দিল্লিতে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর বাড়িতে গিয়ে কংগ্রেসের সঙ্গেও সম্পর্ক বজায় রাখলেন।তবে প্রদ্যুত বরাবর কংগ্রেস ঘরানার।তিনি এক সময় প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি ছিলেন।পরবর্তী সময়ে কংগ্রেসের হাই কমান্ডার কিছু সিদ্ধান্ত তিনি মেনে নিতে পারেননি।এই কারণেই কংগ্রেস ছেড়ে দেন।এবং সদ্য সমাপ্ত এডিসি নির্বাচনের আগে গঠন করেছিলেন রাজনৈতিক প্লেটফর্ম ” তিপ্রামথা।”প্রত্যাশিত ভাবে নির্বাচনে বিশাল জয় পান তিনি।এবং দখল করেন এডিসি।এই পরিস্থিতিতে রাজ্য রাজনীতিতে প্রদ্যুত অনেক বেশি “গুরুত্বপূর্ণ” হয়ে ওঠেন।২০২৩-র বিধানসভা নির্বাচনে পাহাড়ের ২০টি আসন নিয়ে প্রদ্যুতও যে রাজ্য রাজনীতিতে ছড়ি ঘোড়াবেন তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
রাজনীতিকরা বলছেন,প্রদ্যুতের সঙ্গে কংগ্রেসের গান্ধী পরিবারের সম্পর্ক বরাবর ভালো।হয় তো বা সম্পর্কের টানেই প্রদ্যুত গিয়েছেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর বাড়িতে। কিন্তু প্রদ্যুত যে কারণেই প্রিয়াঙ্কার বাড়িতে যান না কেন,তার পেছনে রাজনীতির গন্ধ পাচ্ছে সংশ্লিষ্ট মহল।কারণ ২০২৪-এ দেশের অষ্টাদশ জাতীয় নির্বাচন।এই নির্বাচনে কংগ্রেসের মুখ হতে পারেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী।অন্তত এমনটাই বলছেন সর্ব ভারতীয় কংগ্রেস নেতৃত্ব।যদি জাতীয় নির্বাচনে কেন্দ্রে মোদি সরকারের পতন ঘটে তাহলে দিল্লির ভর কেন্দ্রে কংগ্রেসই হবে মূল চালিকা শক্তি।এক্ষেত্রে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। প্রদ্যুতের গ্রেটার তিপ্রাল্যান্ডের দাবি পূরণ করতে হলে কংগ্রেসের সঙ্গেও তাঁর সখ্যতা বজায় রাখতে হবে।এই কারণেই কি প্রদ্যুত বিজেপি ও কংগ্রেস উভয় জাতীয় দলের সঙ্গেই বজায় রাখছেন সম্পর্ক? নাকি ২০২৩-র রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট গড়বে প্রদ্যুতের তিপ্রামথা?প্রিয়াঙ্কার বাড়িতে প্রদ্যুতের উপস্থিতি নানান প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে রাজনৈতিক মহলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.