ডেস্ক রিপোর্টার,১৮এপ্রিল।।
ত্রিপুরার সঙ্গে ফের প্রতারণা বঙ্গ তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বের! অন্তত সর্ব-ভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বের চলন-গমনে এটাই প্রকট হচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনীতিকরা।
ত্রিপুরার সঙ্গেই ২০২৩-এ মেঘালয়ের বিধানসভা নির্বাচন। কিন্তু ত্রিপুরাকে ব্রাত্য রেখে তৃণমূলের অভিমুখ এখন মেঘালয়ে। আগামী ৩ ও ৪ মে দুইদিনের জন্য মেঘালয় সফরে যাচ্ছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ইতিমধ্যেই এই ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। কিন্তু ত্রিপুরার নাম একবারও মুখে আনেন নি অভিষেক।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিভিন্ন সময়ে রাজ্যে এসে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের বার্তা দিয়েছিলেন, রাজ্য বিধানসভা ভোটের আগে বাড়ি ভাড়া করে তিনি থাকবেন আগরতলায়। করা হবে স্থায়ী অফিস। ২৩-এর মহাযুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবের সরকারকে উৎখাতের ডাক দিয়েছিলেন। অভিষেকের এই সমস্ত বক্তব্য এখন রূপকথার গল্পের মতো।
রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের কড়া নাড়লেও তৃণমূল এখনো ঘর গুছাতে ব্যর্থ। গঠন করতে পারেনি রাজ্য কমিটি। প্রদেশ তৃণমূল কংগ্রেসের কোনো নেতাকেই ‘মুখ’ করে তুলতে পারেনি দল। তার মধ্যে গোষ্ঠী কোন্দল। সুবল ভৌমিকের লবির সঙ্গে বনাবনা নেই দুই আশীষ লাল সিং ও আশীষ দাসের। সুবলের ডাকা কর্মসূচিতে তারা অংশও নিচ্ছেন না। অর্থাৎ দলের একটা অংশ বসে আছে হাত গুটিয়ে।
খুব শীঘ্রই রাজ্যে অনুষ্ঠিত হবে উপনির্বাচন।যেকোন সময় নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করবে কমিশন।উপ-নির্বাচন নিয়েও কোনো দৌড়ঝাঁপ নেই প্রদেশ তৃণমূল নেতৃত্বের মধ্যে।একই ভাবে নিশ্চুপ অভিষেক সহ বঙ্গ নেতৃত্ব। এক সময় রাজ্যের ক্ষমতা দখলের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো তৃণমূল। পুর ও নগর ভোটে পেয়েছিলো ২৩ শতাংশ ভোট। তখন বাংলা নেতা প্রায় প্রতিদিন নেতা-মন্ত্রীরা চলে আসতেন ত্রিপুরায়।এখন প্রদেশ তৃণমূলের এই দৃশ্য অতীত।
রাজনীতিকরা বলছেন, অভিষেক এখন ত্রিপুরার পরিবর্তে নজর দিয়েছেন মেঘালয়ে। সেই রাজ্যে তাদের ১২জন বিধায়ক রয়েছেন।তারা সবাই কংগ্রেস থেকে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন। তৃণমূল এখন মেঘালয়ে বিরোধী দল। আছে ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা। স্বাভাবিক ভাবেই গোয়াতে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর ত্রিপুরাকে ব্রাত্য রেখে মেঘালয়কে বুকে আঁকড়ে রেখে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ক্ষমতা দখলের স্বপ্ন দেখছেন মমতা-অভিষেক এন্ড কোং।

Leave a Reply

Your email address will not be published.