*  অভিজিৎ ঘোষ *
                   _________________
              
   ২৩-শে রাজ্য বিধানসভা নির্বাচন। নির্দিষ্ট সময়ে ভোট অনুষ্ঠিত হলে,সময় মাত্র আর সাড়ে পাঁচ মাস। এরপরই স্পষ্ট হয়ে যাবে আগামী পাঁচ বছরের জন্য কার দখলে থাকবে “ত্রিপুরা”?
                 ২৩-র মহাযুদ্ধ নিয়ে প্রতিদিন নানান সমীকরণ করছে রাজনৈতিক মহল। শাসক দল বিজেপির কি প্রত্যাবর্তন হবে? নাকি ক্ষমতায় আসবে বামেরা? কমিউনিস্টদের সাহায্যার্থে কংগ্রেস – তিপ্রামথার নতুন রসায়ন কি পাল্টে দেবে সমস্ত হিসেব – নিকেশ? নাকি শেষ মুহূর্তে রাজনীতির লগারিদমের নতুন সূত্র নিয়ে আসবে বিজেপি – তিপ্রামথা? সংশ্লিষ্ট জটিল প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন রাজনীতি করা।
             বর্তমান পরিস্থিতি থেকে স্পষ্ট,ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতির ভরকেন্দ্রে চলে এসেছে প্রদ্যুৎ কিশোরের তিপ্রামাথা। প্রদ্যুৎ কিশোর যেদিকেই ঝুকবেন,সেদিকেই ভারী হবে দাড়ি- পাল্লা। রাজনীতির অলিন্দে থাকা প্রদ্যুৎ বিলক্ষণ বুঝতে পেরেছেন নিজের ওজন। তাই বিজেপি – কংগ্রেসের মতো রাজনৈতিক দলগুলিকে লেজে নিয়ে খেলতে শুরু করে দিয়েছেন। বলছেন রাজনৈতিক বিশারদরা।


যদিও প্রদ্যুৎ কিশোর প্রকাশ্যে বলছেন, তিপ্রাসাদের স্বার্থ সম্বলিত (গ্রেটার তিপ্রাল্যান্ড) দাবি পূরণ না হলে  বিধানসভা নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গেই  তিপ্রামথা জোট করবে না। প্রদ্যুৎ কিশোরের এই দৃঢ় প্রত্যয়ের উপর বিশ্বাস করেই জনজাতিরা সম্মিলিত ভাবে দাড়িয়েছে তিপ্রামথার পতাকার তলে। এবং প্রদ্যুৎ কিশোরও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন দলকে।
               রাজ্য রাজনীতির এই নতুন হিসেব – নিকেশের মধ্যেই নতুন সমীকরণের আবহ তৈরী হচ্ছে দেশের রাজধানীর অলিন্দে। তাও প্রায় লোকচক্ষুর অন্তরালে! দিল্লির রাজনীতির আকাশে – বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে এমনই গন্ধ। এবং দিল্লির নর্থ  ব্লক থেকে কৌটিল্য মার্গ ও তালকাটুরায় কান পাতলেই শোনা যায় রাজ্য রাজনীতির সম্ভাব্য নয়া রোডম্যাপের কথা।
              দিল্লি সূত্রের প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, গত ৬ সেপ্টেম্বর  রাজ্য রাজনীতির গুরুত্ব পূর্ণ দিন ছিলো।এই সময় দিল্লিতে ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ডা: মানিক সাহা,প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব এবং তিপ্রামথার চেয়ারম্যান প্রদ্যুৎ কিশোর দেববর্মন। এক সঙ্গে রাজ্য রাজনীতির তিন হেভিওয়েট নেতৃত্বের অবস্থান দিল্লিতে। এটাও এক রাজনৈতিক রহস্য।
              দিল্লির কৌটিল্য মার্গস্থিত ত্রিপুরা ভবনের খবর,এদিন ভবনে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী ডা: মানিক সাহা। দুপুর নাগাদ ত্রিপুরা ভবনে আসেন তিপ্রামাথার সর্বাধিনায়ক প্রদ্যুৎ কিশোর দেববর্মন।তিনি সরাসরি চলে যান মুখ্যমন্ত্রী ডা: মানিক সাহার রুমে। দীর্ঘ সময়  ক্লোজডোরে চলে  মুখ্যমন্ত্রী ও প্রদ্যুৎ কিশোর দেববর্মনের  বৈঠক। এই ম্যারাথন বৈঠক নাকি চলে দিনভর।


দিল্লির ত্রিপুরা ভবনের সূত্রটির দাবি, গোধূলি বেলায় মুখ্যমন্ত্রী ও প্রদ্যুৎ কিশোর দেববর্মন বেরিয়ে যান কৌটিল্যমার্গ থেকে। তারা সরাসরি চলে যান নর্থ ব্লকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে। অমিত শাহের দরবারে রাত আটটা পর্যন্ত চলে রুদ্ধদার বৈঠক। শাহের বৈঠক খানায় বৈঠক সেরে বেড়িয়ে যান মুখ্যমন্ত্রী ডা: মানিক সাহা ও প্রদ্যুৎ কিশোর দেববর্মন। মুখ্যমন্ত্রী সোজা চলে আসেন কৌটিল্য মার্গস্থিত  ত্রিপুরা ভবনে। এবং প্রদ্যুৎ কিশোর চলে যান তার নির্দিষ্ট গন্তব্যস্থলে।
                  এখানেই নাকি শেষ নয়। স্ক্রিপ্ট গড়িয়েছে আরো বহু দূর। দিল্লির তালকাটুরা রোডের বাসিন্দা রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব। এদিন রাতে মথার চেয়ারম্যান প্রদ্যুৎ কিশোর দেববর্মন  তালকাটুরা অবস্থিত বিপ্লব কুমার দেবের সরকারি বাংলোতে চলে যান। তখন রাত প্রায় সাড়ে এগারোটা। অর্থাৎ বলা চলে, লোকচক্ষুর অন্তরালেই প্রদ্যুৎ কিশোর গিয়েছিলেন বিপ্লব কুমার দেবের বাংলোতে। দিল্লির তালকাটুরা এলাকায় কান পাতলেই শোনা যায় রাজ্য রাজনীতির এই  “হট স্ক্রিপ্টে”র কথা।
                  দেশের রাজধানীর কৌটিল্য মার্গ থেকে নর্থ ব্লক এবং তালকাটুরার হাই সিকিউরিটি জোনের চার দেওয়ালের মধ্যে  আলোচনার উপপাদ্য কি ছিলো? এটা অবশ্যই জানা যায়নি। তবে অমিত শাহ থেকে প্রদ্যুৎ কিশোর, মুখ্যমন্ত্রী থেকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কি বিষয়ে আলোচনা করতে পারেন তা আঁচ করতে কোনো অসুবিধা হয় নি রাজনীতিকদের।


রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ব্যাখ্যা, ২৩- র ভোটকে সামনে রেখেই  বিজেপির কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিপ্রামথার সুপ্রিমো প্রদ্যুৎ কিশোর দেববর্মন।হয় তো, বিজেপির পক্ষ থেকে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে প্রদ্যুতকে দেওয়া হয়েছে জোটের প্রস্তাব। গ্রেটার তিপ্রাল্যান্ড ব্যতীত প্রদ্যুৎ কিশোরের অন্যান্য দাবি মানতে  কোনো সমস্যা নেই গেরুয়া শিবিরের।এখন গলার কাঁটা  “গ্রেটার তিপ্রাল্যান্ড”।এটাও বাস্তব, প্রদ্যুৎ কিশোর কখনো পাবেন না গ্রেটার তিপ্রাল্যাণ্ড।  প্রদ্যুৎ তা বিলক্ষণ জানেন।কিন্তু রাজনৈতিক মঞ্চে শক্তিশালী আবহাও তৈরি করার জন্য গ্রেটার তিপ্রাল্যাণ্ড ব্যতীত অন্য কোনো যুতসই বিষয় নেই প্রদ্যুতের কাছে। তাই পরবর্তী সময়ে জাতির স্বার্থকে কুলুঙ্গিতে রেখে প্রদ্যুৎ রাজনীতির স্বার্থকেই প্রাধান্য দিলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতির এই সমীকরণেরই কি আগাম আভাস স্পস্ট হচ্ছে দেশের রাজধানীর রাজনীতির গর্ভগৃহে। বলছেন রাজনীতির প্রাজ্ঞরা।
                 
                 

Leave a Reply

Your email address will not be published.