ডেস্ক রিপোর্টার,১৯ আগস্ট।।
মহারাজা বীরবিক্রমের জন্মদিন উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হল সভায় তিপ্রামথার উগ্র কর্মী-সমর্থকদের হামলা।জনজাতি সম্প্রদায়ের তিন সমাজের সমাজপতিদের উপস্থিতিতে হল সভার আয়োজন করা হয়েছিলো।ঘটনা বৃহস্পতিবার সকালে ধলাইয়ের ছামনু’র মানিকপুরে। তিপ্রামথার ছয় নেতার বিরুদ্ধে মানিকপুর থানার মামলা দায়ের করেছেন সমাজপতিরা।এই ঘটনা কেন্দ্র করে গোটা ছামনু এলাকায় বিরাজ করছে তীব্র উত্তেজনা।
মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী।

বৃহস্পতিবার গোটা রাজ্য জুড়ে পালিত হয় আধুনিক ত্রিপুরার রূপকার তথা মহারাজা বীর বিক্রম কিশোর মানিক্যের জন্মদিন। সরকারী-বেসরকারী স্তরেই মহারাজার বীর বিক্রম কিশোরের জন্মদিন পালিত হয়েছে।রাজনৈতিক ভাবেই বিভিন্ন দল পালন করেছে আধুনিক ত্রিপুরার রূপকারের জন্মদিন।

রাজ্যের প্রত্যন্ত অঞ্চল ছামানু বিধানসভার মানিকপুরেও এদিন মহারাজা বীরবিক্রম কিশোর মানিক্যের জন্মদিন পালনের আয়োজন করা হয়েছিলো। উদ্যোক্তা ছিলো জনজাতি সম্প্রদায়ের তিন সমাজের সমাজপতিরা। অনুষ্ঠানস্থল ছিলো মানিকপুরের কমিউনিটি হল।
মহারাজা বীরবিক্রম কিশোর মানিক্যের জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরী সম্প্রদায়ের সুবলা বুতু কুমাং—-নতুনদা ত্রিপুরা।ত্রিপুরী সম্প্রদায়ের তাইসাং—মনিরাই ত্রিপুরা। রোজাজ —গঙ্গা ত্রিপুরা।চাকমা সম্প্রদায়ের মানিকপুরের সাগালার কারবারী— রঞ্জিত চাকমা। আদাম কারবারী—- চন্দ্র জীবন চাকমা।রিয়াং সমাজের সমাজপতি সাংগ্র্যাংমা চৌধুরী খজেন্দ্র রিয়াং।
কোভিড বিধি মেনেই স্থানীয় ব্লক আধিকারিকদের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে তারা মহারাজা বীর বিক্রমের জন্মদিন পালনের আয়োজন করেছিল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা লোকজনের অভিযোগ আচমকা তিন থেকে চারশো লোকজন গাড়ি করে আসে মানিকপুর কমিউনিটি হলের সামনে।তারা এসেই হলের ভিতরে থাকা লোকজনকে মারধর শুরু করে.l
এই ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, হামলাকারীরা তিপ্রামথার কর্মী সমর্থক। অরাজনৈতিক মঞ্চ হওয়া সত্ত্বেও তিপ্রার উগ্র সমর্থকরা হামলা করে বীর বিক্রমের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে।.
খবর পেয়ে তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে ছুটে আসে পুলিশ,টিএসআর ও সিআরপিএফ।জনজাতি তিন সম্প্রদায়ের সমাজপতিরা এই ঘটনার প্রেক্ষিতে মানিকপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।অভিযুক্তদের তালিকায় নাম রয়েছে তিপ্রা মথার রাজ্য কমিটির সদস্য হলিউড চাকমা, নিবন রিয়াং, রঞ্জিত মোহন ত্রিপুরা, খগেন্দ্র ত্রিপুরা ,বিনজয় রিয়াং ও সঞ্জয় কান্তি চাকমা। ঘটনার তদন্ত করছে পুলিশ। মহারাজা বীর বিক্রম কিশোর মানিক্যের জন্মদিনে হল সভায় তিপ্রামথার আক্রমণের ঘটনায় তীব্র নিন্দা করেছেন ছামনুর বিধায়ক শম্ভু লাল চাকমা।
এদিনের ঘটনায় মুখে চুন কালি লেগেছে খোদ তিপ্রামথার সুপ্রিমো প্রদ্যুত কিশোরের।কারণ মহারাজা বীরবিক্রম কিশোর মানিক্য প্রদ্যুত কিশোরের দাদু। আক্ষরিক অর্থে তিনি ছিলেন আধুনিক ত্রিপুরার রূপকার।আর এই প্রদ্যুত কিশোরের দলের কর্মী সামর্থকরাই তাঁর দাদুর জন্মদিনের অনুষ্ঠান ভণ্ডুল করে দিয়েছে।এতে প্রদ্যুত কিশোর যে কালিমালিপ্ত হবেন তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published.