দিল্লি ডেস্ক, ১৯ নভেম্বর।।
অবশেষে জয় হলো দেশের আন্দোলনরত কৃষকদের।গুরু নানকের জন্মদিনে তিনটি কৃষি আইন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।শুক্রবার সকালে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আন্দোলনরত কৃষকদের ঘরে ফেরার বার্তা দেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কৃষি আইন নিয়ে দেশের কৃষকদের বুঝতে সরকারের কোনো খামতি ছিলো। কেন্দ্রীয় সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কৃষি আইন প্রত্যাহার করার।সংসদে শীতকালীন অধিবেশন শুরু হলে আইন প্রত্যাহারের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।”কৃষি আইন ইস্যুতে দেশবাসীর কাছে ক্ষমাও চেয়ে নেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।আন্দোলনরত কৃষকদের ঘরে ফেরার জন্য অনুরোধ করেন প্রধানমন্ত্রী।
গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে তিনটি কৃষি আইন সংসদে পাশ করিয়ে ছিলো বিজেপি সরকার। কৃষি আইনের তীব্র বিরোধিতা করে দেশের কৃষকরা গত বছরের ২৬নভেম্বর থেকে শুরু করে আন্দোলন।কেন্দ্রীয় সরকার নরমে-গরমে কৃষকদের আন্দোলন দমাতে চেয়েছিলো।তাতে কিছুই হয় নি।বরং ক্ষতি হয় কেন্দ্রীয় সরকারের।মোদী সরকারের বিরুদ্ধে কৃষি আইন প্রত্যাহারের জন্য জেহাদ ঘোষণা করে কৃষকরা।তারা নানান প্রতিকূল অবস্থাতেও আন্দোলন চালিয়ে যায়। তাতে চাপ বেড়ে মোদী সরকারের উপর।
রাজনীতিকরা বলছেন, আগামী বছর পাঞ্জাব,উত্তর প্রদেশ সহ পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন। এই নির্বাচনে কৃষি আইন বিজেপি’র কাছে বিষ ফোঁড়ার মত হয়ে উঠেছে।কারণ পাঞ্জাব-উত্তর প্রদেশের মতো রাজ্য গুলির আর্থিক বুনিয়াদ নির্ভর করে কৃষির উপর।স্বাভাবিক ভাবেই ভোট বাজারে কৃষি আইনের ব্যাপক প্রভাব যে পড়বে তা বলাই বাহুল্য। কৃষি আইনের জেরে পাঞ্জাবে বিজেপি সঙ্গীন হয়ে গেছে।দীর্ঘ দিনের মিত্রশক্তি আকালী দল বিজেপি’র সঙ্গ ছেড়ে দিয়েছে। কৃষি আইনের কারণে উত্তরপ্রদেশে জমি খুঁজে পাচ্ছে অখিলেশ যাদবের দল। যা যোগী সরকারের বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াবে বলেই মনে করছে রাজনীতির বিশারদরা।
সম্প্রতি বিভিন্ন রাজ্যের উপ নির্বাচনে বিজেপি’র ভরাডুবি হয়েছে।এর পেছনে কাজ করছে কৃষি আইন।এই সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা পড়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর টেবিলে।সবকিছু বিচার বিবেচনা করেই ২৪-র লোকসভা নির্বাচনকে লক্ষ্য রেখেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর এই সিদ্ধান্ত।বলছেন রাজনীতির বিশ্লেষকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.