* ডা: সুকান্ত ঘোষ *
…………………………

এক সময় টিটেনাস,ডিপথেরিয়া হুপিং কাশিতে প্রচুর মানুষের মৃত্যু হতো।ছিলো না কোনো চিকিৎসা ব্যবস্থা। হালের কোভিড-১৯’র মতোই সংশ্লিষ্ট রোগ নিয়ে আতঙ্কগ্রস্থ থাকতো সাধারণ মানুষ। ব্যাতিব্যাস্ত ছিলেন চিকিৎসকরাও। শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর এই সমস্ত রোগের টিকা আবিষ্কার হয়েছে।করোনার আগমনের পরও একই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিলো। মানুষ দিশেহারা। এখনো নির্মূল হয়নি করোনা। তুলনামূলক ভাবে তার গতি কমলেও সংক্রমণ ও মৃত্যু ঘটছে নিয়মিত।এখন বিশ্ব জুড়ে চলছে করোনার থার্ড ওয়েবের হাত ছানি।তারপরও করোনার টিকা মানুষকে অনেকটা স্বস্তি দিয়েছে।গোটা বিশ্বে মানুষ টিকা নিয়ে করোনার চক্রবুহ্য থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা করছে। করোনা সহ নানার রোগের প্রতিষেধক নেওয়ার পরই তার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হয়।তারপরও রোগ মুক্তির জন্য টিকা নেওয়া প্রয়োজন।এই প্রতিবেদন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা তুলে ধরেছেন মানব দেহে টিকা নেওয়া কেন প্রয়োজন এবং কি তার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া।এই পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া কতটা ক্ষতিকারক?

১.টিকার প্রয়োজনীয়তা:
——————————-

টিটেনাস, ডিপথেরিয়া এবং ঘুংড়ি কাশি (পার্টুসিস) খুবই জটিল রোগ। Tdap টিকা আমাদের এই রোগগুলির থেকে সুরক্ষিত করতে পারে। আর Tdap টিকা গর্ভবতী মহিলাদের দিলে তা সদ্যজাত শিশুদের ঘুংড়ি কাশির থেকে সুরক্ষিত করতে পারে।
টিটেনাস (ধনুষ্টংকার) রোগটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আজ বিরল। এই রোগের কারণে সাধারণত সারা শরীরে, যন্ত্রনাদায়কভাবে পেশীগুলি শক্ত এবং অনমনীয় হয়ে যায়।
এটির কারণে মাথার এবং ঘাড়ের পেশীগুলি শক্ত হয়ে যেতে পারে ফলে আপনি মুখ খুলতে, কিছু গিলতে বা কখনও কখনও শ্বাস নিতে পারবেন না। সেরা চিকিৎসা পরিচর্যা পাওয়া সত্ত্বেও টিটেনাসের ফলে প্রায় ১০জন সংক্রামিত লোকের মধ্যে ১জনের মৃত্যু হয়।
ডিপথেরিয়া রোগটিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আজকাল খুব কম হয়। এই রোগের কারণে গলার ভিতরদিকে একটি মোটা আস্তরণ তৈরি হতে পারে। পরিণতিতে শ্বাসকষ্ট, পঙ্গুত্ব, হৃদযন্ত্র বিকল এবং শেষ পর্যন্ত মৃত্যু হতে পারে।
ঘুংড়ি কাশি (পার্টুসিস) (হুপিং কাশি) রোগের কারণে প্রচণ্ড কাশি হয়, যার ফলে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, বমি হয় এবং ঘুমের সমস্যা দেখা দেয়। এছাড়াও এটির ফলে ওজন কমে যেতে পারে, মল মূত্র ত্যাগের উপর নিয়ন্ত্রণের অভাব দেখা দিতে পারে এবং পাঁজরে চিড় ধরতে পারে। ঘুংড়ি কাশি থাকা ১০০জনের মধ্যে ২ জন কিশোর এবং ১০০জনের মধ্যে ৫জন পর্যন্ত প্রাপ্তবয়স্ককে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে অথবা জটিলতা দেখা দিয়েছে, যার মধ্যে নিউমোনিয়া অথবা মৃত্যুও রয়েছে।
এগুলি জীবাণুঘটিত রোগ। ডিপথেরিয়া এবং ঘুংড়ি কাশি (পার্টুসিস) কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে একজনের থেকে অন্য জনের শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। কেটে যাওয়া, আঁচড় বা আঘাতের মাধ্যমে টিটেনাসের জীবাণু শরীরে প্রবেশ করে।
টিকার পূর্বে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর হিসাবে ২০০,০০০ ডিপথেরিয়ার
কেস, ২০০,০০০ ঘুংড়ি কাশির কেস এবং হাজার হাজার টিটেনাসের কেসের রিপোর্ট পাওয়া যেত। টিকাকরণ শুরু হওয়ার সময় থেকে, টিটেনাস এবং ডিপথেরিয়া রোগের কেসের রিপোর্ট প্রায় ৯৯ শতাংশ কমেছে এবং ঘুংড়ি কাশি কমেছে প্রায় ৮০ শতাংশ।

২.Tdap টিকা
………………….
Tdap টিকা কিশোর এবং প্রাপ্তবয়স্ক উভয়কেই টিটেনাস, ডিপথেরিয়া এবং ঘুংড়ি কাশির থেকে সুরক্ষিত করতে পারে। ১১ বা ১২ বছর বয়সে Tdap-এর একটি ডোজ নিয়মিতভাবে দেওয়া হয়। যে ব্যক্তিরা সেই বয়সে Tdap নেয় নি তাদের যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এটি নেওয়া উচিত।
Tdap স্বাস্থ্যসেবার পেশাদারী ব্যক্তি এবং ১২ বছরের কমবয়সী শিশুদের কাছাকাছি যেকোনো ব্যক্তির জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
গর্ভবতী মহিলাদের ঘুংড়ি কাশির থেকে সদ্যজাত শিশুকে সুরক্ষিত করার জন্য প্রতিবার গর্ভাবস্থায়, Tdap-এর একটি ডোজ নেওয়া উচিত। ঘুংড়ি কাশি থেকে গুরুতর, প্রাণঘাতী জটিলতার হওয়ার ঝুঁকি ছোট শিশুদের সবথেকে বেশি থাকে।

৩. Td টিকা
…………………
Td নামক আরেকটি টিকা টিটেনাস এবং ডিপথেরিয়া রোগের বিরুদ্ধে সুরক্ষিত করে, তবে ঘুংড়ি কাশির থেকে নয়। প্রতি ১০ বছর অন্তত একটি Td বুস্টার দেওয়া উচিত। যদি আপনি আগে কখন Tdap না নিয়ে থাকেন সেক্ষেত্রে এই বুস্টারগুলির মধ্যে একটি হিসাবে Tdap দেওয়া যেতে পারে। গুরুতরভাবে কেটে যাওয়া বা পুড়ে যাওয়ার পরে টিটেনাসের সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্যও Tdap দেওয়া হতে পারে।
আপনার চিকিৎসক বা যে ব্যক্তি আপনাকে টিকা দিচ্ছেন তিনি আপনাকে আরও বেশি তথ্য দিতে পারবেন। অন্যান্য টিকার সঙ্গে Tdap নিরাপদ ভাবে দেওয়া যেতে পারে।

৪.টিকার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া
————————————-
**কিছু লোকের এই টিকা নেওয়া উচিত নয়।টিটেনাস অথবা ডিপথেরিয়া বা ঘুংড়ি কাশি ধারণকারী টিকার পূর্ববর্তী ডোজের পরে কোনো ব্যক্তির প্রাণঘাতী অ্যালার্জি জনিত প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়ে থাকলে বা এই টিকার আংশিক প্রয়োগের ফলে গুরুতর অ্যালার্জি দেখা দিয়ে পারে।তাদের পক্ষে Tdap টিকা নেওয়া উচিত নয়।

** DTP বা DTaP-এর ছোটোবেলার ডোজ নেওয়ার ৭ দিনের মধ্যে, অথবা Tdap-এর আগের ডোজ নেওয়ার পরে কারোর কোমা বা দীর্ঘক্ষণ ধরে বারবার খিঁচুনি হয়ে থাকলে, তার আর Tdap নেওয়া উচিত নয়।যদি না টিকা ছাড়া অন্য কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া যায়। তারা তবুও Td নিতে পারবেন।

** আপনার চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন, যদি আপনার:

– খিঁচুনি বা অন্য কোনো স্নায়ুবিক সমস্যা থাকে,

– ডিপথেরিয়া, টিটেনাস বা ঘুংড়ি কাশি ধারণকারী কোনো টিকার পরে – গুরুতর ব্যথা হয় বা ফুলে যায়।

-গুইলেন বারে সিন্ড্রোম (Guillain – Barré Syndrome, GBS) নামক কোনো পরিস্থিতি থাকে।

– শট দেওয়ার সূচিত তারিখে সুস্থ বোধ না করলে ঝুঁকি থাকার সম্ভাবনা থাকবে।

– সাধারণত টিকা সহ যে কোনো ওষুধের ক্ষেত্রে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা থাকে। সাধারণত এগুলি হালকাভাবে দেখা দেয় এবং নিজে থেকেই কমে যায়। মারাত্মক প্রতিক্রিয়া হওয়ারও সম্ভাবনা থাকে,তবে তা বিরল।
Tdap টিকা নেওয়া বেশিরভাগ লোকেদের কোনো সমস্যা হয়নি।

** Tdap টিকা নেওয়ার পরে হওয়া সামান্য সমস্যা হয়ে থাকে যেমন…

. শট দেওয়া জায়গাটিতে ব্যথা (প্রায় ৪জনের মধ্যে ৩জন কিশোর বা ৩ জনের মধ্যে ২ জন প্রাপ্তবয়স্ক)শট দেওয়া জায়গাটিতে লালচে ভাব বা ফুলে যাওয়া (প্রায় ৫জনের মধ্যে ১ জন ব্যক্তির)

• অন্তত ১০৪ ডিগ্রী ফারেনহাইট’র মত হালকা জ্বর (প্রায় ২৫জনের মধ্যে ১ জন কিশোর বা ১০০ জনের মধ্যে। জন প্রাপ্তবয়স্ক পর্যন্ত)
• মাথা ব্যথা (প্রায় ১০ জনের মধ্যে ৩ বা ৪ জন ব্যক্তি) ক্লান্তিভাব (প্রায় ৩ বা ৪জনের মধ্যে ১ জন ব্যক্তির)
বমি ভাব, বমি করা, ডায়রিয়া, পেটে ব্যথা (৪ জনের মধ্যে ১জন
কিশোর বা ১০ জনের মধ্যে ১ জন প্রাপ্তবয়স্ক পর্যন্ত) ঠান্ডা লাগা, জয়েন্টে ব্যথা (প্রায় ১০ জনের মধ্যে ১জন ব্যক্তির) শরীরে ব্যথা (প্রায় ৩ বা ৪জনের মধ্যে ১ জন ব্যক্তির)
ফুসকুড়ি, গ্ল্যান্ড ফুলে যাওয়া (অপ্রচলিত)
Tdap টিকা নেওয়ার পরে হওয়া মাঝারি সমস্যার মধ্যে (ক্রিয়াকলাপে হস্তক্ষেপ করে, তবে চিকিৎসা করার প্রয়োজন হয় না)

** অন্তর্ভুক্ত:
শট দেওয়া জায়গাটিতে ব্যথা (প্রায় ৫ বা ৬ জনের মধ্যে ১জন পর্যন্ত) শট দেওয়া জায়গাটিতে লালচে ভাব বা ফুলে যাওয়া (প্রায় ১৬ জনের মধ্যে ১ জন কিশোর বা ১২ জনের মধ্যে ১জন প্রাপ্তবয়স্ক পর্যন্ত) ১০২ ডিগ্রী ফারেনহাইট’র বেশি জ্বর (প্রায় ১০০ জনের মধ্যে ১ জন কিশোর)

* মাথা ব্যথা (প্রায় ৭জনের মধ্যে ১ জন কিশোর বা ১জন প্রাপ্তবয়স্ক)
১০ জনের মধ্যে

* বমি ভাব, বমি করা, ডায়রিয়া, পেটে ব্যথা (১০০ জনের মধ্যে। বা জন ব্যক্তি পর্যন্ত)

*শট দেওয়া জায়গাটিতে ফুলে যাওয়া (৫০০ জনের মধ্যে ১ জন পর্যন্ত) ।

**Tdap টিকা নেওয়ার পরে হওয়া গুরুতর সমস্যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত: (স্বাভাবিক ক্রিয়াকলাপ করতে পারে না; চিকিৎসার প্রয়োজন হয়)

*যেখানে শট দেওয়া হয়েছে সেই হাতে ফোলা, তীব্র ব্যথা, রক্তক্ষরণ এবং লালচে ভাব (কদাচিৎ)।

** কোনো টিকা নেওয়ার পরে যেসব সমস্যা দেখা দিতে পারে:

টিকা সহ চিকিৎসা সংক্রান্ত পদ্ধতির পর মানুষ অনেক সময় অজ্ঞান হয়ে যায়। প্রায় ১৫মিনিট ধরে বসে বা শুয়ে থাকলে অজ্ঞান হওয়া এবং পড়ে যাওয়ার ফলে হওয়া আঘাত প্রতিরোধ করা যেতে পারে। আপনার মাথা ঘুরলে অথবা চোখে অন্ধকার দেখলে বা কান বাজলে চিকিৎসককে বলুন।
কিছু ব্যক্তির কাঁধে প্রচন্ড ব্যাখা হয় এবং টিকা দেওয়া জায়গাটির কাছে হাত নাড়ানো কষ্টকর হয়। এইরকম খুবই কম হয়।

* যে কোনো ওষুধ থেকে তীব্র অ্যালার্জি জনিত প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। টিকা থেকে এই ধরনের প্রতিক্রিয়া খুব বিরল ঘটনা, প্রায় এক মিলিয়ন ডোজের মধ্যে ১ জনের এবং সেটিও টিকা দেওয়ার কয়েক মিনিট থেকে কয়েক ঘন্টার মধ্যে হবে।যেকোনো ওষুধের মতো, টিকা নেওয়ার ফলে গুরুতর আহত হওয়া বা মৃত্যু হওয়ার বিরল সম্ভাবনা থেকে।

পরিশেষে বলা যায় টিকা নেওয়ার পর যদি গুরুতর সমস্যা দেখা দেয় তাহলে সতর্ক থাকা উচিত।সঙ্গে সঙ্গে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। শরীরে অস্বাভাবিক আচরণ করলেই বুঝতে হবে টিকার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে।

* ডা: সুকান্ত ঘোষ *
…………………………..

এক সময় টিটেনাস,ডিপথেরিয়া হুপিং কাশিতে প্রচুর মানুষের মৃত্যু হতো।ছিলো না কোনো চিকিৎসা ব্যবস্থা। হালের কোভিড-১৯’র মতোই সংশ্লিষ্ট রোগ নিয়ে আতঙ্কগ্রস্থ থাকতো সাধারণ মানুষ। ব্যাতিব্যাস্ত ছিলেন চিকিৎসকরাও। শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর এই সমস্ত রোগের টিকা আবিষ্কার হয়েছে।করোনার আগমনের পরও একই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিলো। মানুষ দিশেহারা। এখনো নির্মূল হয়নি করোনা। তুলনামূলক ভাবে তার গতি কমলেও সংক্রমণ ও মৃত্যু ঘটছে নিয়মিত।এখন বিশ্ব জুড়ে চলছে করোনার থার্ড ওয়েবের হাত ছানি।তারপরও করোনার টিকা মানুষকে অনেকটা স্বস্তি দিয়েছে।গোটা বিশ্বে মানুষ টিকা নিয়ে করোনার চক্রবুহ্য থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা করছে। করোনা সহ নানার রোগের প্রতিষেধক নেওয়ার পরই তার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হয়।তারপরও রোগ মুক্তির জন্য টিকা নেওয়া প্রয়োজন।এই প্রতিবেদন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা তুলে ধরেছেন মানব দেহে টিকা নেওয়া কেন প্রয়োজন এবং কি তার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া।এই পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া কতটা ক্ষতিকারক?

১.টিকার প্রয়োজনীয়তা:
——————————-

টিটেনাস, ডিপথেরিয়া এবং ঘুংড়ি কাশি (পার্টুসিস) খুবই জটিল রোগ। Tdap টিকা আমাদের এই রোগগুলির থেকে সুরক্ষিত করতে পারে। আর Tdap টিকা গর্ভবতী মহিলাদের দিলে তা সদ্যজাত শিশুদের ঘুংড়ি কাশির থেকে সুরক্ষিত করতে পারে।
টিটেনাস (ধনুষ্টংকার) রোগটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আজ বিরল। এই রোগের কারণে সাধারণত সারা শরীরে, যন্ত্রনাদায়কভাবে পেশীগুলি শক্ত এবং অনমনীয় হয়ে যায়।
এটির কারণে মাথার এবং ঘাড়ের পেশীগুলি শক্ত হয়ে যেতে পারে ফলে আপনি মুখ খুলতে, কিছু গিলতে বা কখনও কখনও শ্বাস নিতে পারবেন না। সেরা চিকিৎসা পরিচর্যা পাওয়া সত্ত্বেও টিটেনাসের ফলে প্রায় ১০জন সংক্রামিত লোকের মধ্যে ১জনের মৃত্যু হয়।
ডিপথেরিয়া রোগটিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আজকাল খুব কম হয়। এই রোগের কারণে গলার ভিতরদিকে একটি মোটা আস্তরণ তৈরি হতে পারে। পরিণতিতে শ্বাসকষ্ট, পঙ্গুত্ব, হৃদযন্ত্র বিকল এবং শেষ পর্যন্ত মৃত্যু হতে পারে।
ঘুংড়ি কাশি (পার্টুসিস) (হুপিং কাশি) রোগের কারণে প্রচণ্ড কাশি হয়, যার ফলে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, বমি হয় এবং ঘুমের সমস্যা দেখা দেয়। এছাড়াও এটির ফলে ওজন কমে যেতে পারে, মল মূত্র ত্যাগের উপর নিয়ন্ত্রণের অভাব দেখা দিতে পারে এবং পাঁজরে চিড় ধরতে পারে। ঘুংড়ি কাশি থাকা ১০০জনের মধ্যে ২ জন কিশোর এবং ১০০জনের মধ্যে ৫জন পর্যন্ত প্রাপ্তবয়স্ককে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে অথবা জটিলতা দেখা দিয়েছে, যার মধ্যে নিউমোনিয়া অথবা মৃত্যুও রয়েছে।
এগুলি জীবাণুঘটিত রোগ। ডিপথেরিয়া এবং ঘুংড়ি কাশি (পার্টুসিস) কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে একজনের থেকে অন্য জনের শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। কেটে যাওয়া, আঁচড় বা আঘাতের মাধ্যমে টিটেনাসের জীবাণু শরীরে প্রবেশ করে।
টিকার পূর্বে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর হিসাবে ২০০,০০০ ডিপথেরিয়ার
কেস, ২০০,০০০ ঘুংড়ি কাশির কেস এবং হাজার হাজার টিটেনাসের কেসের রিপোর্ট পাওয়া যেত। টিকাকরণ শুরু হওয়ার সময় থেকে, টিটেনাস এবং ডিপথেরিয়া রোগের কেসের রিপোর্ট প্রায় ৯৯ শতাংশ কমেছে এবং ঘুংড়ি কাশি কমেছে প্রায় ৮০ শতাংশ।

২.Tdap টিকা
………………….
Tdap টিকা কিশোর এবং প্রাপ্তবয়স্ক উভয়কেই টিটেনাস, ডিপথেরিয়া এবং ঘুংড়ি কাশির থেকে সুরক্ষিত করতে পারে। ১১ বা ১২ বছর বয়সে Tdap-এর একটি ডোজ নিয়মিতভাবে দেওয়া হয়। যে ব্যক্তিরা সেই বয়সে Tdap নেয় নি তাদের যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এটি নেওয়া উচিত।
Tdap স্বাস্থ্যসেবার পেশাদারী ব্যক্তি এবং ১২ বছরের কমবয়সী শিশুদের কাছাকাছি যেকোনো ব্যক্তির জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
গর্ভবতী মহিলাদের ঘুংড়ি কাশির থেকে সদ্যজাত শিশুকে সুরক্ষিত করার জন্য প্রতিবার গর্ভাবস্থায়, Tdap-এর একটি ডোজ নেওয়া উচিত। ঘুংড়ি কাশি থেকে গুরুতর, প্রাণঘাতী জটিলতার হওয়ার ঝুঁকি ছোট শিশুদের সবথেকে বেশি থাকে।

৩. Td টিকা
…………………
Td নামক আরেকটি টিকা টিটেনাস এবং ডিপথেরিয়া রোগের বিরুদ্ধে সুরক্ষিত করে, তবে ঘুংড়ি কাশির থেকে নয়। প্রতি ১০ বছর অন্তত একটি Td বুস্টার দেওয়া উচিত। যদি আপনি আগে কখন Tdap না নিয়ে থাকেন সেক্ষেত্রে এই বুস্টারগুলির মধ্যে একটি হিসাবে Tdap দেওয়া যেতে পারে। গুরুতরভাবে কেটে যাওয়া বা পুড়ে যাওয়ার পরে টিটেনাসের সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্যও Tdap দেওয়া হতে পারে।
আপনার চিকিৎসক বা যে ব্যক্তি আপনাকে টিকা দিচ্ছেন তিনি আপনাকে আরও বেশি তথ্য দিতে পারবেন। অন্যান্য টিকার সঙ্গে Tdap নিরাপদ ভাবে দেওয়া যেতে পারে।

৪.টিকার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া
————————————-
**কিছু লোকের এই টিকা নেওয়া উচিত নয়।টিটেনাস অথবা ডিপথেরিয়া বা ঘুংড়ি কাশি ধারণকারী টিকার পূর্ববর্তী ডোজের পরে কোনো ব্যক্তির প্রাণঘাতী অ্যালার্জি জনিত প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়ে থাকলে বা এই টিকার আংশিক প্রয়োগের ফলে গুরুতর অ্যালার্জি দেখা দিয়ে পারে।তাদের পক্ষে Tdap টিকা নেওয়া উচিত নয়।

** DTP বা DTaP-এর ছোটোবেলার ডোজ নেওয়ার ৭ দিনের মধ্যে, অথবা Tdap-এর আগের ডোজ নেওয়ার পরে কারোর কোমা বা দীর্ঘক্ষণ ধরে বারবার খিঁচুনি হয়ে থাকলে, তার আর Tdap নেওয়া উচিত নয়।যদি না টিকা ছাড়া অন্য কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া যায়। তারা তবুও Td নিতে পারবেন।

** আপনার চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন, যদি আপনার:

– খিঁচুনি বা অন্য কোনো স্নায়ুবিক সমস্যা থাকে,

– ডিপথেরিয়া, টিটেনাস বা ঘুংড়ি কাশি ধারণকারী কোনো টিকার পরে – গুরুতর ব্যথা হয় বা ফুলে যায়।

-গুইলেন বারে সিন্ড্রোম (Guillain – Barré Syndrome, GBS) নামক কোনো পরিস্থিতি থাকে।

– শট দেওয়ার সূচিত তারিখে সুস্থ বোধ না করলে ঝুঁকি থাকার সম্ভাবনা থাকবে।

– সাধারণত টিকা সহ যে কোনো ওষুধের ক্ষেত্রে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা থাকে। সাধারণত এগুলি হালকাভাবে দেখা দেয় এবং নিজে থেকেই কমে যায়। মারাত্মক প্রতিক্রিয়া হওয়ারও সম্ভাবনা থাকে,তবে তা বিরল।
Tdap টিকা নেওয়া বেশিরভাগ লোকেদের কোনো সমস্যা হয়নি।

** Tdap টিকা নেওয়ার পরে হওয়া সামান্য সমস্যা হয়ে থাকে যেমন…

. শট দেওয়া জায়গাটিতে ব্যথা (প্রায় ৪জনের মধ্যে ৩জন কিশোর বা ৩ জনের মধ্যে ২ জন প্রাপ্তবয়স্ক)শট দেওয়া জায়গাটিতে লালচে ভাব বা ফুলে যাওয়া (প্রায় ৫জনের মধ্যে ১ জন ব্যক্তির)

• অন্তত ১০৪ ডিগ্রী ফারেনহাইট’র মত হালকা জ্বর (প্রায় ২৫জনের মধ্যে ১ জন কিশোর বা ১০০ জনের মধ্যে। জন প্রাপ্তবয়স্ক পর্যন্ত)
• মাথা ব্যথা (প্রায় ১০ জনের মধ্যে ৩ বা ৪ জন ব্যক্তি) ক্লান্তিভাব (প্রায় ৩ বা ৪জনের মধ্যে ১ জন ব্যক্তির)
বমি ভাব, বমি করা, ডায়রিয়া, পেটে ব্যথা (৪ জনের মধ্যে ১জন
কিশোর বা ১০ জনের মধ্যে ১ জন প্রাপ্তবয়স্ক পর্যন্ত) ঠান্ডা লাগা, জয়েন্টে ব্যথা (প্রায় ১০ জনের মধ্যে ১জন ব্যক্তির) শরীরে ব্যথা (প্রায় ৩ বা ৪জনের মধ্যে ১ জন ব্যক্তির)
ফুসকুড়ি, গ্ল্যান্ড ফুলে যাওয়া (অপ্রচলিত)
Tdap টিকা নেওয়ার পরে হওয়া মাঝারি সমস্যার মধ্যে (ক্রিয়াকলাপে হস্তক্ষেপ করে, তবে চিকিৎসা করার প্রয়োজন হয় না)

** অন্তর্ভুক্ত:
শট দেওয়া জায়গাটিতে ব্যথা (প্রায় ৫ বা ৬ জনের মধ্যে ১জন পর্যন্ত) শট দেওয়া জায়গাটিতে লালচে ভাব বা ফুলে যাওয়া (প্রায় ১৬ জনের মধ্যে ১ জন কিশোর বা ১২ জনের মধ্যে ১জন প্রাপ্তবয়স্ক পর্যন্ত) ১০২ ডিগ্রী ফারেনহাইট’র বেশি জ্বর (প্রায় ১০০ জনের মধ্যে ১ জন কিশোর)

* মাথা ব্যথা (প্রায় ৭জনের মধ্যে ১ জন কিশোর বা ১জন প্রাপ্তবয়স্ক)
১০ জনের মধ্যে

* বমি ভাব, বমি করা, ডায়রিয়া, পেটে ব্যথা (১০০ জনের মধ্যে। বা জন ব্যক্তি পর্যন্ত)

*শট দেওয়া জায়গাটিতে ফুলে যাওয়া (৫০০ জনের মধ্যে ১ জন পর্যন্ত) ।

**Tdap টিকা নেওয়ার পরে হওয়া গুরুতর সমস্যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত: (স্বাভাবিক ক্রিয়াকলাপ করতে পারে না; চিকিৎসার প্রয়োজন হয়)

*যেখানে শট দেওয়া হয়েছে সেই হাতে ফোলা, তীব্র ব্যথা, রক্তক্ষরণ এবং লালচে ভাব (কদাচিৎ)।

** কোনো টিকা নেওয়ার পরে যেসব সমস্যা দেখা দিতে পারে:

টিকা সহ চিকিৎসা সংক্রান্ত পদ্ধতির পর মানুষ অনেক সময় অজ্ঞান হয়ে যায়। প্রায় ১৫মিনিট ধরে বসে বা শুয়ে থাকলে অজ্ঞান হওয়া এবং পড়ে যাওয়ার ফলে হওয়া আঘাত প্রতিরোধ করা যেতে পারে। আপনার মাথা ঘুরলে অথবা চোখে অন্ধকার দেখলে বা কান বাজলে চিকিৎসককে বলুন।
কিছু ব্যক্তির কাঁধে প্রচন্ড ব্যাখা হয় এবং টিকা দেওয়া জায়গাটির কাছে হাত নাড়ানো কষ্টকর হয়। এইরকম খুবই কম হয়।

* যে কোনো ওষুধ থেকে তীব্র অ্যালার্জি জনিত প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। টিকা থেকে এই ধরনের প্রতিক্রিয়া খুব বিরল ঘটনা, প্রায় এক মিলিয়ন ডোজের মধ্যে ১ জনের এবং সেটিও টিকা দেওয়ার কয়েক মিনিট থেকে কয়েক ঘন্টার মধ্যে হবে।যেকোনো ওষুধের মতো, টিকা নেওয়ার ফলে গুরুতর আহত হওয়া বা মৃত্যু হওয়ার বিরল সম্ভাবনা থেকে।

পরিশেষে বলা যায় টিকা নেওয়ার পর যদি গুরুতর সমস্যা দেখা দেয় তাহলে সতর্ক থাকা উচিত।সঙ্গে সঙ্গে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। শরীরে অস্বাভাবিক আচরণ করলেই বুঝতে হবে টিকার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.