তেলিয়ামুড়া ডেস্ক, ২০আগষ্ট।।
               জীবন সায়াহ্নে এসেও জঙ্গল থেকে লতা-পাতা কুড়িয়ে বিক্রি করে নিজের সংসারের দিনাতিপাত করে আসছে এক উপজাতি দম্পত্তি। এমনই এক ঘটনা পরিলক্ষিত হল তেলিয়ামুড়া মহকুমার মুঙ্গিয়াকামী আর.ডি ব্লকের অধীনস্থ ৩৫ মাইল এলাকায় আসাম আগরতলা জাতীয় সড়কের পাশে।
উল্লেখ্য থাকে, পাহাড়ের ক্ষমতার মসনদে বুবাগ্ৰার তিপ্রা মথার সরকার। এই সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়ে গিরি বাসীদের উন্নতিকল্পে এখন পর্যন্ত কি কার্য সাধিত করেছে তা নিয়ে হাজারো প্রশ্ন রয়েছে। কেননা তেলিয়ামুড়া মহকুমার মুঙ্গিয়াকামী আর.ডি ব্লকের অধীনস্থ ৩৫ মাইল এলাকায় আসাম আগরতলা জাতীয় সড়কের পাশে দীর্ঘ বছর ধরে সুদন্ন দেববর্মা ও সবিতা দেববর্মা নামের এক উপজাতি বৃদ্ধ দম্পতি জীবন সায়াহ্নে এসেও বনের লতা পাতা কুড়িয়ে বিক্রি করে নিজেদের সংসার প্রতিপালন করে আসছে। তাদের পরিবারে সদস্য সংখ্যা ৪ জন। বিগত বাম আমলে ওই পরিবারটির ভাগ্যে জুটে ছিল নামে মাত্র একটি সরকারি ঘর,বর্তমানে ওই ঘরটি দৈন্যদশা গ্রস্থ। সুদন্ন দেববর্মা ও সবিতা দেববর্মার ভাগ্যে জোটেনি সরকারি ভাতা কিংবা অন্য কোন সুযোগ সুবিধা। তাদের সঙ্গেই তাদের নাতনি, কিন্তু করুণা মহামারীর কারণে তাদের নাতনির ও বর্তমানে পড়াশুনা বন্ধ। কেননা অসহায় হতদরিদ্র পরিবারটি অনলাইনে যে নাতনির পড়াশুনা করাবে তা তাদের সাধ্যের বাইরে। অনলাইনে পড়াশোনা করতে দরকার একটি স্মার্টফোন অথচ এই পরিবারটির নুন আনতে পান্তা ফুরানোর উপক্রম,তাই সাধ থাকলেও উপায় নেই। তাই বর্তমানে পড়াশুনা বন্ধ রেখে বাড়িতেই রয়েছে তাদের নাতনি।
তবে পরিবারটির অন্তোদয় রেশন কার্ড থাকার ফলে কিছুটা হলেও সুবিধা হয়।
কথা প্রসঙ্গে ৬০ বছর বয়সী বৃদ্ধা সবিতা দেববর্মা জানিয়েছেন, যদি গ্রাহকদের উপর জুলুম করে লতা-পাতা; শাক-সব্জি বিক্রি করি তবে দৈনিক ২০০ থেকে ২৫০ টাকা রোজগার করা সম্ভব হয়। আর নতুবা ১০০ -১৫০ টাকা নিয়েই বাড়ি ফিরতে হয়।
বিগত বাম আমলে নেতাদের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে বর্তমানে হতাশাগ্রস্থ হয়ে আসাম আগরতলা জাতীয় সড়কের পাশে বসেই লতা-পাতা,শাক-সব্জি বিক্রি করে চলেছেন জীবন সায়াহ্নে এসেও এই উপজাতি দম্পতি। যদি তাদের কোন প্রকার সরকারি সুযোগ সুবিধা কিংবা ভাতা তাদের কপালে জোটে তবে হয়তোবা জীবনের শেষ সময়টুকুতে একটু আরামে কাটাতে পারবে তারা। এখন দেখার বিষয় স্বশাসিত জেলা পরিষদের নেতা বাবুদের কৃপা দৃষ্টি কবে নাগাদ বর্ষিত হয় এই উপজাতি দম্পতির উপর।

Leave a Reply

Your email address will not be published.