বিলোনিয়া ডেস্ক,২০ সেপ্টেম্বর।।

দক্ষিণজেলা সফরে গিয়ে বিলোনিয়ার রাজনগরে বিবেকানন্দ ক্রাফ্ট এন্ড কালচারেল সেন্টারের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব l রাজনগরের অনুষ্ঠান শেষে বিলোনিয়ার সোনারপুর উচ্চ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত ভারতীয় জনতা পার্টির প্রকাশ্য সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন তিনি।

বিরোধীদের বুকে কাঁপন ধরিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরে রবিবার সিপিআইএম সহ অন্যান্য দল থেকে ৬৯৮ পরিবারের ২১৩৩ জন ভারতীয় জনতা পার্টির পতাকা তলে শামিল হন l এদিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে অনুন্নয়ন ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার প্রশ্নে তৃণমূল ও সিপিআইএমকে এক হাত নেন মুখ্যমন্ত্রী l বিপ্লব কুমার দেব বলেন, বাম যা। বাম জামানায় পর গাছার মত, রাজ্যের মানুষদের পর নির্ভরশীল হয়ে একটি দলের পিছনে ছুটতে বাধ্য করা হতো l কিন্তু বর্তমান বিজেপি লিড সরকার, পর-নির্ভরশীলতা নয়, স্বচ্ছ নীতিতে সমস্ত রাজ্যবাসীকে উদ্ভাবনী সম্ভাবনার বিকাশের অনুকূল সুযোগ ও স্বনির্ভরতার মাধ্যমে ঘরের পিলারের মত একটি মজবুত ও সুদৃঢ় ভবিষ্যত ভিত তৈরীর সুযোগ করে দিয়েছে। জনতাকে কিভাবে যোগ্য সন্মান করতে হয় তা শিখিয়ে দিয়েছে বিজেপি সরকার।”প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় ২০২৩-র মধ্যে সমস্ত যোগ্য ব্যক্তিদের দল মত নির্বিশেষে পাকা ঘর প্রদান করা হবে l সমস্ত বিরোধী দলের সদস্যরাও এর সমান সুযোগ পাবেন।”বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

বর্তমান সরকারের সচ্ছ নীতি সম্পর্কে মানুষকে অবহিত করে, রাজ্যের মুল উন্নয়নের স্রোতের সঙ্গে যুক্ত করতে কর্মীদের প্রতি আহ্বান রাখেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, “রাজ্যে আগে, এক ব্যক্তি ও একদলীয় প্রচার করা হত l কিন্তু আজ ব্যক্তি প্রচারের উর্দ্ধে উঠে উন্নয়নের মাপকাঠিতে, সাফল্যের নিরিখে, ত্রিপুরা বর্তমানে সর্বত্র সমাদৃত।”
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, স্বচ্ছতাই বিজেপি সরকারের মূল মন্ত্র l এই লক্ষ্যেই দল-মত নির্বিশেষে রাজ্যের সমস্ত অংশের মানুষের কাছে, বিভিন্ন সুযোগ সমান ভাবে পৌঁছে দিচ্ছে সরকার। ত্রিপুরার মানুষ দুরদৃষ্টি সম্পন্ন, তারা সঠিক সময়ে সঠিক সিধান্ত নিতে জানেন l

মুখ্যমন্ত্রী নিজের প্রসঙ্গ টেনে এনে বলেন, “রাজ্যের মানুষের অকৃত্রিম আশীর্বাদই আমাকে আবিষ্কার করে এই জায়গায় পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছে l রাজ্যের রাজনৈতিক বিচক্ষণ নাগরিকরা মোদীজির উন্নয়নের ধারায় ত্রিপুরাকে যুক্ত করতে আমাকে এই জায়গায় বসিয়েছে।সঠিক ব্যবস্থাপনায় রোজগারের বিভিন্ন দ্বার উন্মোচিত হচ্ছে রাজ্যে।”

তৃণমূল কংগ্রেসের নাম উল্লেখ না করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আধা রুটির স্বপ্ন দেখানো, রাজনৈতিক পরিযায়ীদের উদ্দেশ্য ত্রিপুরার মানুষ জানেন l এ রাজ্যের পরিশ্রমী মানুষ সম্মানের সঙ্গে রোজগারের মাধ্যমে, আধা নয় আস্ত রুটির বন্দোবস্ত করে মাথা উঁচু করে বাঁচতে জানে l রাজ্যে, টাকার বিনিময়ে আর চাকরির টোকেন নয়, এখন স্বচ্ছ নিয়ম নীতির মাধ্যমে যোগ্য ব্যক্তিরা রাজনৈতিক রং ছাড়াই চাকরির সমান সুযোগ পাচ্ছেন l স্বনির্ভরতার মানসিকতা তৈরী হয়েছে রাজ্যে l রাবারের মাধ্যমে বড় মাত্রায় অর্থনীতি তৈরী লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে l এর সাথে যুক্ত রাজ্যের প্রায় দুই লক্ষ মানুষের রোজগার বেড়েছে l বেড়েছে রাবারের দামও l রাবার ভিত্তিক শিল্প স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে l জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সুফল পাচ্ছেন রাজ্যের মানুষ l সোনারপুর উচ্চ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এদিনের দলীয় কর্মসূচিতে প্রচুর সংখ্যায় মানুষ উপস্থিত ছিলোl
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এত বড় মাত্রায় সমস্ত অংশের মানুষের উপস্থিতি আশীর্বাদস্বরূপ। মানুষের এই উপস্থিতি আরও বেশী করে কাজ করতে দৃঢ়তা প্রদান করে l এদিনের কর্মসূচিতে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক অরুন চন্দ্র ভৌমিক, বিধায়ক শঙ্কর রায় সহ বিজেপি’র অন্যান্য সাংগঠনিক পদাধিকারীরা l

Leave a Reply

Your email address will not be published.