ডেস্ক রিপোর্টার, আগরতলা।।
  অবশেষে খুব শীঘ্রই অবসান হতে  চলছে সমস্ত জল্পনা কল্পনার। খারিজ হবে বৃষকেতু  দেববর্মার বিধায়ক পদ। সোমবার একথা জানালেন রাজ্য বিধানসভার অধ্যক্ষ রতন চক্রবর্তী। আনুষ্ঠানিক ভাবে বিশ্বকেতু দেববর্মার বিধায়ক পদ খারিজ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফের আরো একটি বিধানসভা কেন্দ্র হবে বিধায়ক শূন্য। উপক্রম হবে উপনির্বাচনের। তাহলে আসন্ন ভিলেজ কমিটির নির্বাচনে  বৃষকেতু দেববর্মার সীমনা বিধানসভা কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হতে পারে উপভোট।এই কেন্দ্রে উপভোটের ফলাফলের প্রভাব পড়বে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনেও।এমনটাই আশঙ্কা করছে রাজনৈতিক মহল।
           ২০১৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রথম বারের মতো বৃষকেতু দেববর্মা সীমনা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে আইপিএফটির টিকিটে লড়াই করেছিলেন। নির্বাচনে জয়ীও হন। কিন্তু ২০২১ সালের জুন মাসে আচমকা বৃষকেতু দেববর্মা আইপিএফটি থেকে পদত্যাগ করেন। এবং একই সঙ্গে তিনি পদত্যাগ করেন বিধায়ক পদ থেকেও। বৃষকেতু তার পদত্যাগ সংক্রান্ত চিঠি পাঠিয়ে দেন রাজ্য বিধানসভার অধ্যক্ষ রতন চক্রবর্তীর কাছে।
কিন্তু অবাক করার মতো ঘটনা বৃষকেতুর পদত্যাগ নিয়ে একেবারেই নিশ্চুপ ছিলো রাজ্য বিধানসভা।
                 বৃষকেতুর মতোই বিজেপিকে আলবিদা জানিয়ে  আশীষ দাস,সুদীপ রায় বর্মন ও আশীষ কুমার সাহা বিধায়ক পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তাদের পদত্যাগ পত্র সরাসরি গ্রহণ করেন বিধানসভার অধ্যক্ষ রতন চক্রবর্তী। এবং নিয়ম মেনে তাদের বিধায়ক পদ খারিজ করে দেন। বৃষকেতু দেববর্মা আইপিএফটি ছেড়ে তিনি প্রকাশ্যে যোগ দিয়েছিলেন তিপ্রামথাতে। মথার হয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছেন বৃষকেতু দেববর্মা। তারপরও বৃষকেতুর ক্ষেত্রে অনেকটাই নরম মনোভাব দেখিয়েছিল রাজ্য বিধানসভা। এক্ষেত্রে বৃষকেতুর দল আইপিএফটির সুপ্রিমো এনসি দেববর্মাও চেয়েছিলেন বৃষকেতুর বিধায়ক পদ বাঁচিয়ে রাখতে। কিন্তু বৃষকেতুকে কোনো ভাবেই গ্রিপে  রাখতে পারেন নি এনসি। তাকে বগলদাবা করে নেন প্রদ্যুৎ কিশোর।
                 রাজ্য বিধানসভার অধ্যক্ষ রতন চক্রবর্তী জানিয়েছেন, বৃষকেতুর বিষয় নিয়ে বেশ কয়েকবার শুনানী হয়েছে। বৃষকেতু একবারও শুনানীতে হাজির হননি। তাকে অনেকটাই সময় দেওয়া হয়েছে। তারপরও বৃষকেতু নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন।রতন চক্রবর্তী জানিয়েছেন, বৃষকেতু তার দলের হুইপও মান্যতা দেন নি। রাজ্যসভার নির্বাচনে বিজেপি – আইপিএফটি জোটের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার জন্য বলা হয়েছিল বৃষকেতুকে। কিন্তু বৃষকেতু দলের নির্দেশ অমান্য করেন।
                 রতন চক্রবর্তী বলেছেন,এখন বৃষকেতুর সমস্ত রাস্তা বন্ধ। রাজ্য বিধানসভা বৃষকেতুকে আর সময় দিতে নারাজ। তার বিধায়ক পদ খারিজ করার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য বিধানসভা। কারণ, সোমবারেও শুনানী ছিলো।এদিনও আসেন নি বৃষকেতু। তবে আইপিএফটির সুপ্রিমো এন সি দেববর্মার পক্ষ থেকে তার আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন বিধানসভায়। সবকিছু বিচার বিবেচনা করেই  বৃষকেতু দেববর্মার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে রাজ্য বিধানসভা। সম্ভবত মঙ্গলবার সকালেই বিধানসভার পক্ষ থেকে বৃষকেতু দেববর্মার বিধায়ক পদ খারিজের চূড়ান্ত রায় জানিয়ে দেবেন বিধানসভার অধ্যক্ষ।
                

Leave a Reply

Your email address will not be published.