ডেস্ক রিপোর্টার,২১ মার্চ।।
ত্রিপুরা পিপলস ফ্রন্টের নেত্রী পাতাল কন্যা আনুষ্ঠানিক ভাবে যোগ দিয়েছেন বিজেপিতে।তার আগে পাতাল কন্যা সাক্ষাৎ করেছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব ও আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সঙ্গে। তিপ্রামথার গতিরোধ করতেই যে পাতাল কন্যাকে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করবে বিজেপি তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এই বিষয়টি রাজনীতিকদের কাছে স্পস্ট হয়ে গিয়েছে।
পাতালকন্যা বিজেপি’তে যোগ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই গেরুয়া শিবিরে উঁকি দিয়েছে নানান প্রশ্ন। তাহলে কি জনজাতি মোর্চার উপর ভরসা রাখতে পারছে না বিজেপি? গত চার বছরে পাহাড়ে জনজাতি মোর্চা কি বিজেপি’র সংগঠনকে মজবুত করতে পারেনি? জনজাতিদের মধ্যে বিজেপি’র বিধায়ক রয়েছেন।আছেন একজন সাংসদ। এডিসিতে বিরোধী দল বিজেপি।তারপরও পাতাল কন্যাকে কেন এতো গুরুত্ব দিতে হচ্ছে বিজেপিকে? তাহলে কি পাহাড়ে বিজেপি’র শক্তির তুলনায় পাতালকন্যার শক্তি বেশি?এরকম বহু প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন রাজনীতিকরা।
টিপিএফ নেত্রী পাতাল কন্যা বিভিন্ন সময়ে সাম্প্রদায়িক কথাবার্তা বলেছিলেন।রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে “বাংলাদেশি” বলে আখ্যায়িত করেছিলেন।সঙ্গে রাজ্যের অনুপজাতি লোকজনকে ‘অনুপ্রবেশকারী’ বলে দাবি করেছিলেন। টিপিএফের দাবির মধ্যেও রয়েছে পৃথক তিপ্রাল্যান্ড। আছে এনআরসি লাগু করার দাবি। ঘুরিয়ে বললে প্রদ্যুত কিশোরের তিপ্রামাথার দাবি ও পাতাল কন্যার দলের দাবির মধ্যে কোনো পার্থক্য ছিলো না এতদিন।পাতাল কন্যা বিজেপিতে যোগ দিয়ে উল্টা পুরান শুরু করে দিয়েছেন।তিনি আগের বক্তব্য থেকে ঘুরে গেলেন ৩৬০ ডিগ্রি। পাতাল বলছেন, মুখ্যমন্ত্রী বাংলাদেশি কিনা তা সাংবিধানিক বিষয়। তিনি এই বিষয়ে কিছু বলতে পারবেন না।

বিজেপি সূত্রের খবর, পাতাল কন্যার সঙ্গে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের দহরম মহরম মেনে নিতে পারছেন জনজাতি মোর্চার নেতৃত্ব। যদিও তারা পাতাল কন্যার যোগদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।জনজাতি মোর্চার বক্তব্য, পাতালের শক্তির তুলনায় পাহাড়ে অনেক বেশী শক্তিশালী বিজেপি।পাতাল কন্যাকে অধিক গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন নেই। এডিসি ভোটের আগে যখন আইপিএফটি পৃথকভাবে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছিল, তখন জনজাতি মোর্চার নেতারা বিজেপিকে একা লড়াই করার প্রস্তাব দিয়েছিল।কিন্তু দলের শীর্ষ নেতারা জনজাতি মোর্চার নেতাদের উপর ভরসা রাখতে পারেনি।পরে আইপিএফটি’র সঙ্গে আসন সমঝোতা করে প্রার্থী দিয়েছিলো। ভোটে হোয়াইটওয়াশ হয়ে গিয়েছিলো আইপিএফটি। এবারও পাতাল কন্যাকে অধিক গুরুত্ব দিতে নারাজ জনজাতি মোর্চা।কিন্তু জনজাতি মোর্চার নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রাখতে পারছে না প্রদেশ বিজেপি’র থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক। স্বাভাবিক ভাবেই পাতাল কন্যা বিজেপিতে যোগ দিতেই দলের জনজাতি মোর্চার নেতৃত্বের মধ্যে বইছে চোরা স্রোত।অসন্তুষ্টির ছায়াও পরিলক্ষিত হচ্ছে জনজাতি মোর্চার নেতাদের মধ্যে। এমন আভাস বিজেপি সূত্রে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.