ডেস্ক রিপোর্টার,২২ জানুয়ারি।।

          ত্রিপুরার পূর্ন রাজ্য দিবসের মূল অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় রাজধানীর রবীন্দ্র ভবনে। অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি দিল্লি থেকে বক্তব্য রাখেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
         অনুষ্ঠান মঞ্চে দাঁড়িয়ে রাজ্যের বিপ্লব কুমার দেব বলেন , এই ভবিষ্যৎ রূপরেখা যুবকদের রোজগারের নয়া দিশা দেখাবে। ২০১৪ থেকে প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আন্তরিক দৃষ্টিভঙ্গির ফলশ্রুতিতে উত্তর পূর্বের রাজ্যগুলি ‘নিউ ইঞ্জিন’ রূপে মূল উন্নয়নের স্রোতের সাথে সম্পৃক্ত হয়েছে। অতি সম্প্রতি অত্যাধুনিক মানের বিমানবন্দর চালু হয়েছে রাজ্যে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, আত্মনির্ভর মহিলারাই আত্মনির্ভর রাজ্য নির্মাণ করতে পারেন। অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে মহিলা ক্ষমতায়ন ও স্বশক্তিকরণ ও রোজগার সৃজনের লক্ষ্যে গুচ্ছ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে রাজ্যে। আগে রাজ্যে স্বসহায়ক দলের সংখ্যা ছিলো ৪ হাজার। এই স্বসহায়ক দল নির্ভর অর্থনীতি ছিলো প্রায় ১০০ কোটি টাকার। কিন্তু বর্তমান কোভিড পরিস্থিতির পরেও প্রায় ২৬ হাজার স্বসহায়ক দল গঠিত হয়েছে। এরসাথে প্রায় পৌনে তিন লক্ষ গ্রামীণ এলাকার মহিলারা যুক্ত রয়েছেন। এই স্বসহায়ক দল নির্ভর ১ হাজার কোটি অর্থনীতি তৈরি হয়েছে। মহিলা ক্ষমতায়নের ফলশ্রুতিতে ৫০০ মহিলা কনস্টেবল নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। অন্যান্য নিয়োগের ক্ষেত্রেও মহিলাদের সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। টিএসআর বাহিনীতে মহিলা নিয়োগের মতো উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ গৃহীত হয়েছে। কমেছে মহিলাদের উপর অত্যাচার। বেড়েছে মামলা নিষ্পত্তির হার।
         মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ২০১৭-১৮তে রাজ্যের মানুষের মাথাপিছু রোজগার ছিলো ১ লক্ষ ২৫ হাজার ৬৭৪ টাকা। ২০২০-২১ সালে তা এসে দাঁড়িয়েছে ১ লক্ষ ২৯ হাজার ৯৯৫ টাকা। ২০১৭-১৮-তে কৃষকদের রোজগার ছিলো ৬,৫৮০ টাকা। বর্তমানে ত্রিপুরার স্বনির্ভর কৃষকদের রোজগার ১১ হাজার ৯৩ টাকা পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। প্রধানমন্ত্রীর হীরা প্লাস মডেলের ফলশ্রুতিতে বর্তমানে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকার সড়ক পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলছে। কোভিড পরিস্থিতিতে সমগ্র দেশের পাশাপাশি রাজ্যেও স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর উন্নয়ন ও বিকেন্দ্রীকরণ হয়েছে। ত্রিপুরা থেকে রোগী বহির্রাজ্যে রেফারের সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। বর্তমান সরকারের সময়ে ঘরে ঘরে তৈরি হয়েছে আত্মনির্ভরতার মানসিকতা। কোভিড পরিস্থিতিতে প্রায় দুই বছর অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও বর্তমান সরকারের সময়ে প্রায় ১ লক্ষ ২৫ হাজার কর্ম সৃজন হয়েছে। তার মধ্যে প্রায় ১০ হাজার সরকারি চাকরি হয়েছে। আরও নিয়োগ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
        পূর্ণরাজ্য দিবসের রাজ্যভিত্তিক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে উপমুখ্যমন্ত্রী যীষ্ণু দেববর্মা আজকের দিনটিকে ঐতিহাসিক বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, ত্রিপুরা পূর্ণরাজ্য হিসেবে ৫০ বছর পূর্ণ করলো। সি ক্যাটাগরি রাজ্য, কেন্দ্রশাসিত রাজ্য হিসেবে চলার পর পূর্ণরাজ্যের মর্যাদা পেয়েছে ত্রিপুরা।
       আর এই ৫০ বছরের সুদীর্ঘ সময়ে অনেক বদলেছে রাজ্য। রেল পরিষেবা সম্প্রসারণ থেকে শুরু করে নানাদিক দিয়ে উন্নতি ঘটেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় দীর্ঘ প্রায় ২৩ বছরের পুরনো রিয়াং শরণার্থী সমস্যা সমাধান হয়েছে। এজন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে বিশেষ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন উপমুখ্যমন্ত্রী। এর পাশাপাশি রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নে মিশন মুডে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
         অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় সামাজিক ন্যায় বিচার ও ক্ষমতায়ন মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী প্রতিমা ভৌমিক ত্রিপুরা পূর্ণরাজ্য হিসেবে পথ চলার প্রেক্ষাপটে মহারাণী কাঞ্চনপ্রভা দেবীর বিশেষ ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন। এজন্য মহারাণী কাঞ্চনপ্রভা দেবীকে ত্রিপুরার গণতন্ত্রের মাতা হিসেবে অভিহিত করেন। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করার জন্য রাজ্য সরকার কৃষকদের কাছ থেকে সহায়কমূল্যে ধান ক্রয় করছে। রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে গত ৪ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে সূচিত হয়েছে মিশন ১০০ বিদ্যাজ্যোতি প্রকল্প। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে ৬টি জাতীয় সড়ক প্রকল্প পেয়েছে রাজ্য। বর্তমান সময়ে ত্রিপুরা গুটি গুটি পায়ে উন্নয়নের লক্ষ্যে এগিয়ে চলছে। এখন আগরতলা থেকে দিল্লি পর্যন্ত সরাসরি বিমান চলাচল করছে।
অনুষ্ঠানে তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী বলেন, ত্রিপুরা একটা সময় রাজন্য শাসিত ছিলো। ১৮৪ জন মহারাজা শাসন করে গিয়েছেন। তাদের পরাক্রমের জন্য ব্রিটিশরা এই রাজ্যে ঘাঁটি গাড়তে পারেনি। আজকের দিনে ত্রিপুরার সমস্ত মহারাজা এবং রাজ পরিবারের সদস্যদের শ্রদ্ধা জানান রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী। এর পাশাপাশি এই দীর্ঘ ৫০ বছর সময়ে ত্রিপুরার উন্নয়নে এবং জাতি জনজাতিদের মধ্যে শান্তি, সম্প্রীতি ও সৌভ্রাতৃত্ব রক্ষায় যারা নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়েছেন তাদেরকেও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, গত ৫০ বছরে রাজ্যবাসীকে অনেক ঘাত প্রতিঘাত পার করতে হয়েছে। আমাদের আরও অনেক অনেক দূর এগিয়ে যেতে হবে।
        অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে মুখ্যসচিব কুমার অলক ত্রিপুরা পূর্ণরাজ্য দিবসের প্রেক্ষাপট নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন। তিনি বলেন, ১৯৭২ সালের ২১ জানুয়ারি ত্রিপুরার জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন। ওইদিনই উত্তর পূর্বের মেঘালয় ও মণিপুরের সাথে ত্রিপুরাও পূর্ণরাজ্যের মর্যাদা পেয়েছে। আর এই দার্ঘ ৫০ বছরে অনেক ঘটলাবলির সাক্ষী থেকেছে ত্রিপুরা। আগামীতে রাজ্য কোন দিকে এগিয়ে যাবে এজন্য লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
          এদিন অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিধিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিধানসভার অধ্যক্ষ রতন চক্রবর্তী, শিক্ষামন্ত্রী রতনলাল নাথ, পরিবহণ মন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহরায়, খাদ্যমন্ত্রী মনোজ কান্তি দেব, শ্রমমন্ত্রী ভগবান চন্দ্র দাস, কারামন্ত্রী রামপ্রসাদ পাল, জনজাতি কল্যাণমন্ত্রী মেবার কুমার জমাতিয়া, পুর নিগমের মেয়র দীপক মজুমদার সহ রাজ্য প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকগণ। অনুষ্ঠানে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে পূর্ণ রাজ্য দিবসের পোস্টেজ স্ট্যাম্প, ইন্ডিয়া পারফিউম আগর উডের সূচনা করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এর পাশাপাশি ‘লক্ষ্য ২০৪৭’ ডকুমেন্টের সূচনা করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

Leave a Reply

Your email address will not be published.