ডেস্ক রিপোর্টার,২২জুন।।
রাত পোহালেই রাজ্যের চারটি বিধানসভা কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে উপ নির্বাচন। নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের তাদের সরব প্রচার শেষ করেছে মঙ্গলবার বিকালে। প্রচারে টেক্কা দিচ্ছে একে,অপরকে। উপভোটে লড়াই হবে বহুমুখী।
মঙ্গলবার সরব প্রচার শেষ হতেই ভোট সমীক্ষা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু করেছেন রাজনীতিকরা। কি হতে পারে ভোটের ফল? এই লক্ষ্ টাকার প্রশ্নে বাজি ধরছে বুকিরাও।ভোট সমীক্ষা করেছে রাজ্যের গোয়েন্দাও। ভোট সমীক্ষা নিয়ে রাজনীতির বাতাসে উড়ছে নানান সমীকরণ।

রাজধানীর টাউন বড়দোয়ালী ও আগরতলা কেন্দ্রে লড়াইয়ের মূল অলিন্দে বিজেপি- কংগ্রেস। সুরমা কেন্দ্রে বিজেপি ও তিপ্রামথা। এবং যুবরাজ নগর কেন্দ্রে বিজেপি- সিপিআইএম থাকবে লড়াইয়ের মূল বৃত্তে।
ভোট ময়দান যখন উত্তেজনায় টগবগ করছে,তখন জয়- পরাজয় নিয়েও অঙ্ক কষা শুরু হয়েছে। চায়ের দোকান থেকে রান্না ঘর,সবেতেই চর্চার বিষয় ভোটার ফলাফল। অবশ্যই পিছিয়ে নেই রাজ্যের গোয়েন্দারা।বরাবরের মত গোয়েন্দার বিচার- বিশ্লেষণের পর চার কেন্দ্রের ভোট সমীক্ষা করে রিপোর্ট জমা করেছে সম্প্রতি। খবর রাজ্য আরক্ষা দপ্তর সূত্রের। উপভোটের ফলাফল নিয়ে মতামত পোষণ করছেন রাজনীতিক বিশারদরাও।
গোয়েন্দার রিপোর্ট অনুযায়ী, উপভোটের ফলাফল হবে ৪-০। অর্থাৎ রাজ্যের ভোটের সেমিফাইনালে বিরোধীরা হবে ক্লিন স্যুইপ। অন্যদিকে রাজনীতিক বিশারদ সহ তামাম সোশ্যাল মিডিয়ার হিসেবে কিছুটা অন্য রকম।তারা শাসককে দিয়েছে তিনটি আসন।একটি অবশ্যই বিরোধীদের। অর্থাৎ তাদের সমীক্ষা অনুযায়ী, সম্ভাব্য রেজাল্ট হবে ৩- ১।

* ৮- টাউন বড়দোয়ালী
————————————-

” টাউন বড়দোয়ালি কেন্দ্রে মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহার জয় প্রায় নিশ্চিত!জয়ের ব্যবধান হবে অনেক বেশি। ২০০৯-এ উপভোট দিয়েই আশীষ সাহা তার জয়ের অভিযান শুরু করেছিলেন। ২০১৩ও ২০১৮- র বিধানসভা নির্বাচনে আশীষ সাহাকে ভোটা দিয়ে জয়যুক্ত করেছিলে বড়দোয়ালির ভোটাররা। কিন্তু তাতে কোন কাজ হয়নি। এ কারণে আসন্ন উপনির্বাচনে আশীষের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে ভোটাররা।” এমন তথ্য উঠে এসেছে গোয়েন্দা রিপোর্টে।
গোয়েন্দা রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, আশীষ সাহার তুলনায় বিজেপির প্রার্থী ডা: মানিক সাহাকে অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য বলে মনে করছেন ভোটাররা। মানিক সাহা পাশ করলে বড়দোয়ালি কেন্দ্রের মানুষ পাবে তাদের দ্বিতীয় মুখ্যমন্ত্রীকে। স্বাভাবিক ভাবেই দ্বিতীয় মুখ্যমন্ত্রীকে পাওয়ার সুযোগ নষ্ট করবে না এই কেন্দ্রের মানুষ।এই কারণেই বড়দোয়ালীর ভোটারদের বড় অংশই ঝুঁকে পড়েছে বিজেপির দিকে। আর তাতেই ডা: মানিক সাহা জয় প্রায় নিশ্চিত। রাজনৈতিক বিশারদরাও বড়দোয়ালি কেন্দ্র ডা: মানিক সাহার দিকেই বাজি ধরেছেন। সোশ্যাল মিডিয়াতেও নানান সমীক্ষার গ্রাফের উর্ধ্বে মুখ্যমন্ত্রী ডা: মানিক সাহা। কিছুটা দূরে কংগ্রেস প্রার্থী আশীষ সাহা।

* ৬- আগরতলা
————————–
গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, ৬- আগরতলা বিধানসভা কেন্দ্রেও এগিয়ে বিজেপি প্রার্থী অশোক সিনহা। গোয়েন্দা রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে ,এই কেন্দ্রে হেভিওয়েট কংগ্রেস প্রার্থী সুদীপ রায় বর্মনের সঙ্গে জোর লড়াই হবে বিজেপি প্রার্থী অশোক সিনহার। তবে খুব অল্প ভোটের ব্যবধানে শেষ হাসি হাসবেন অশোক সিনহাই। অর্থাৎ গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী রাজধানীর দুই হেভিওয়েট কেন্দ্রে দুই কংগ্রেস প্রার্থী আশীষ সাহা ও সুদীপ রায় বর্মন ভোট ময়দানে ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন না। আগরতলা কেন্দ্রে গোয়েন্দার রিপোর্ট বিজেপির পক্ষে গেলেও রাজনীতিক থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়ার নানান সমীক্ষার গতিপথ কিছুটা বাঁকা।তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই কেন্দ্রে টক্কর লড়াই হবে কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে। সবটাই অবাম ভোটের লড়াই।বামেরা এই কেন্দ্রটিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে। কংগ্রেস – বিজেপি’র লড়াইয়ে ভোটের মারপ্যাঁচের ফাঁক গলে বামেদের বেরিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবার কংগ্রেস প্রার্থীর সুদীপ রায় বর্মন বাম ভোটারদের সহানুভূতি পেয়ে গেলে এক্ষেত্রে হয়ে যাবে ভোটের নতুন সমীকরণ। তাছাড়া এই বিধানসভা কেন্দ্রের সংখ্যালঘু ভোটারদের সংখ্যা ৭ হাজার।এটা একটা বড় ফ্যাক্টর।এই অংশের ভোটারদের মধ্যে সুদীপের আধিপত্য রয়েছে।এই সমস্ত কারণ বিবেচনা করে রাজনীতিকরা বলছেন, এই হেভিওয়েট আসন কংগ্রেস বা সিপিআইএম ছিনিয়ে নিলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।তবে ভোটাররা যদি ভাবেন তাদের “শাসক বিধায়কে”র সুখ দরকার তাহলে ভোট সমীক্ষার কম্পাস ঘুরবে পদ্ম বনের দিকেই।

* ৪৬ সুরমা
——————–
ধলাই জেলা ৪৬ – সুরমা কেন্দ্রে উপভোটে হবে মূলত ত্রিমুখী লড়াই। লড়াইয়ের অলিন্দে থাকবে বিজেপি, তিপ্রামথা ও সিপিআইএম। তবে মূল লড়াই হবে বিজেপি ও মাথার মধ্যেই। তিন নম্বরে থাকবে সিপিআইএম। কিন্তু এই কেন্দ্রে গত পক্ষ কাল আগেও স্রোত ছিল মাথার দিকে। মথার সুপ্রিমো প্রদ্যুৎ সুরমাতে শেষ সময়ের জন্য গিয়েছিলেন।কিন্তু তিনি কোনো সভা করেননি।মাথার নেতৃত্বে কিছুটা নিষ্ক্রিয়তার জন্য ভোটারা হতাশাগ্রস্থ হয়ে যায়। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিজেপি নেতৃত্ব রাজনৈতিক আগ্রাসন বাড়িয়ে দেয়। এবং ঘুরিয়ে দেন ভোটের বাঁক। এই কারণে আসনটি গেরুয়া শিবিরের দিকে ঝুঁকে পড়েছে । সিপিএম এই কেন্দ্রে লড়াই করলেও বিশেষ সুবিধা করতে পারবে না। রাজ্য গোয়েন্দার সমীক্ষার রিপোর্ট স্পষ্ট ভাবে উঠে এসেছে এই তথ্য। এবং রাজনৈতিক বিশারদ থেকে শুরু সোশ্যাল মিডিয়ার নানান সমীক্ষাও বিজেপির দিকেই।এই বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী স্বপ্না দাস পালের জয় প্রায় নিশ্চিত বলে দাবি এলাকার সাধারণ ভোটারদেরও।

* ৫৭- যুবরাজ নগর
———————————-
রাজ্য গোয়েন্দার সমীক্ষা অনুযায়ী, যুবরাজ নগরকেন্দ্রটি উপভোটে ধরে রাখতে পারবে না সিপিআইএম। এই কেন্দ্রেও প্রবল হাওয়া বইছে গেরুয়া শিবিরের দিকে।বিজেপির প্রার্থী ঘোষণার পর কিছুটা চাপা ক্ষোভ তৈরি হয়েছিলো। কিন্তু দলীয় নেতৃত্ব তা ড্যামেজ কন্ট্রোল করে নিয়েছে। এই কেন্দ্রে কংগ্রেস এবং তৃণমূল কোনো ফ্যাক্টর নয়। এই বিধানসভা কেন্দ্রের বাম প্রার্থী শৈলেন্দ্র নাথের তুলনায় বিজেপি প্রার্থী মলিনা নাথের জনপ্রিয়তা বেশি।দাবি করছে ভোট বিশারদদের সমীক্ষা। সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমেও জনপ্রিয়তার নিরিখে এগিয়ে বিজেপি প্রার্থী। তাই সমস্ত সমীক্ষার বাজি বিজেপির দিকেই। বিজেপি প্রার্থী সাধারণ গৃহবধূ। উঠে এসেছে সাধারণ ঘর থেকে।অন্য দিকে বাম প্রার্থী শৈলেন্দ্র নাথ স্থানীয় তিলথৈয়ের বাসিন্দা হলেও তার ব্যবসা – বানিজ্য মূলত দিল্লিতে। অধিক সময় তিনি কাটান দেশের রাজধানীতে।তবে তিনি স্বজ্জন ভদ্রলোক হিসাবেই পরিচিত। তাসত্ত্বেও নানান ফ্যাক্টরের কারণে যুবরাজ নগর কেন্দ্রের বাজি বিজেপির দিকেই।
ভোট সমীক্ষা অনুযায়ী, তিনটি কেন্দ্রে চতুর্থ স্থান দখল করবে মমতার তৃণমূল কংগ্রেস। তবে যুবরাজ নগরে কংগ্রেসকে পেছনে ফেলে তৃতীয় স্থানে আসতে পারে তৃণমূল কংগ্রেস। তারা এর বেশি এগোতে পারবে না। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যে প্রচার করলেও বাস্তবে তার দলের ভীত একেবারেই নড়বড়ে। এই নিধান দিয়েছেন ভোট বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.