ডেস্ক রিপোর্টার, আগরতলা।।
             মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরে আসার পরেও বিপ্লব কুমার দেবের জনপ্রিয়তায় চিড় ধরেনি বিন্দুমাত্রও । উপরন্তু সাধারন নাগরিক এবং কার্যকর্তাদের মধ্যে জনপ্রিয়তা বেড়েছে বেশ কয়েকগুন । শনিবার বড়পাথরী থেকে ফেরার পথে মির্জা দলীয় কার্যালয় পরিদর্শনে যান বিপ্লব কুমার দেব ।পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচী না হওয়া সত্ত্বেও মাত্র অল্প সময়ের ব্যবধানে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর আসার খবরে প্রায় ছয়শত অধিক সাধারণ মানুষ জড়ো হয় মির্জায় ।দলীয় কার্যালয়ের সামনে স্থান সঙ্কুলান না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত পার্শ্ববর্তী মির্জা কমিউনিটি হলে, সাক্ষাৎ উৎসুক সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব। সাধারণের মধ্যে একজন ব্যক্তির জনপ্রিয়তা কতটুকু হলে, ঘণ্টাখানেকের মধ্যে এত শত মানুষ জড়ো হতে পারেন তা রাজ্যে একপ্রকার বিরল দৃশ্য। কর্মীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও দলীয় কার্যালয় পরিদর্শন, এত মানুষের ভিড়ে অপ্রস্তুত পরিবেশে পরোক্ষে রূপ নেয় হল সভায়।

            বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব বলেন একটা সময়ে, রাজনৈতিক ক্ষমতার বলে সাধারণ মানুষের কণ্ঠরোধ করা হয়েছে দক্ষিণ জেলায়। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে মানুষের প্রাণ পর্যন্ত গেছে । নাম না করে প্রাক্তন পূর্তমন্ত্রী বাদল চৌধুরী দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, যার নেতৃত্বে দক্ষিণ জেলায় এই রাজনৈতিক পরিবেশ কায়েম করা হয়েছিল দুর্নীতির অভিযোগে তিনি জেল খেটেছেন ।এমন আরও দুর্নীতি গ্রস্থদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়া চলছে ।রাজ্যের মানুষের সামনে তাদের প্রকৃত চেহারা বেড়িয়ে এসেছে। গণতন্ত্রকে সম্পূর্ণ বিপন্ন করে রাখা হয়েছিল এই অঞ্চলগুলোতে। কিন্তু বর্তমান সরকার দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর রাজনৈতিক প্রতিহিংসার দৃষ্টান্ত নেই। সমস্ত রাজনৈতিক সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে সকল স্তরের নাগরিকদের মধ্যে, কেন্দ্র-রাজ্য সমস্ত প্রকল্পের সুফল পৌঁছে যাচ্ছে। নিয়োগ নীতি থেকে শুরু করে প্রকল্পের সুবিধা বণ্টনে স্বচ্ছতাই এই সরকারের অন্যতম প্রাধান্য। কিন্তু বিগত দিনে যারাই রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন তাদের কাউকে ছাড়া হবে না।


        এদিন বিপ্লব কুমার দেব বলেন, তৎকালীন একাংশ কংগ্রেস নেতার সংকীর্ণ স্বার্থসিদ্ধির জন্য বিরোধী সমর্থকদের স্বপ্ন বিক্রি হয়েছে খুব সস্তায়। সামনে বিরোধের নাটক মঞ্চস্থ করলেও পেছনের দরজায় তৎকালীন শাসকের সঙ্গে ছিল তাদের গোপন বোঝাপড়া। কিন্তু সর্বশেষ বিধানসভা নির্বাচনে বাম কংগ্রেস এর গোপন মিতালী প্রায় জনসমক্ষে উঠে এসেছে । তথাকথিত বাম বিরোধীদের মুখোশও খসে পড়েছে । তারা কখনোই রাজ্যের মানুষের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আগ্রহী ছিল না। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদি এবং তৎকালীন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ এর নেতৃত্বে ত্রিপুরায় পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে। যারা রাতের আধারে ত্রিপুরার মানুষের স্বপ্নকে সস্তা দরে বিক্রি করেছে, তারাই ভারতীয় জনতা পার্টির ভেতরে এসে দল বিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত হয়েছিল । তাদের নিকৃষ্ট কর্মকাণ্ড যখন জনসম্মুখে উন্মোচিত তখন তারা বিভিন্ন কৌশলে পুনরায় লোক ঠকানোর জন্য উদগ্রীব হচ্ছে। বিপ্লব কুমার দেব বলেন কার্যকর্তা এবং পৃষ্ঠা প্রমুখ করাই সংগঠনের প্রাণশক্তি মূল সম্পদ। তাদের ঐকান্তিক ও নিরলস নিঃস্বার্থ প্রচেষ্টার ফলেই ভারতীয় জনতা পার্টির ত্রিপুরার ক্ষমতার মসনদে আসীন হয়েছে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের জন্যে ঝাঁপিয়ে পড়তে, কর্মীদের বার্তাদেন তিনি।


এর আগে, বড়পাথরী সফরের মাঝে রাজনগর মন্ডল কার্যালয়ে ভারতীয় জনতা পার্টির কার্যালয় পরিদর্শন করেন ।কথা বলেন বিভিন্ন পদাধিকারী ও কর্যকর্তাদের সাথে । সব শেষে নির্ময়মান কাঁকড়াবন -শালগড়া মন্ডল কার্যালয় পরিদর্শন করেন  সেখানেও কার্যকর্তাদের সাথে কথা বলেন । বিপ্লব কুমার দেবের উপস্থিতি ঘিরে সব জায়গাতেই ছিল উপচে পড়া ভীড় স্লোগান উঠে, ইচ্ছে সবার, বিপ্লব আবার।

Leave a Reply

Your email address will not be published.