ডেস্ক রিপোর্টার,২২ সেপ্টেম্বর।।
ভারতভূমিতে গরু দেশীয় সংস্কৃতির অঙ্গ।রয়েছে অর্থনৈতিক গুরুত্ব। আর্থিক ভাবে গ্রামীণ অর্থিনীতিকে সুঠাম করে গরু। দেশের বিভিন্ন রাজ্যে গরুর দুধ, গোবরকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে শিল্প।কিন্তু এই রাজ্যের এই গবাদি পশুকে কেন্দ্র করে তেমন কোনো অর্থনৈতিক পরিমণ্ডল গড়ে উঠেনি সুদীর্ঘ বাম জামানায়।অথৈবচ অবস্থা ছিলো কংগ্রেস-টিইউজেএস জোট জামানাতেও।
রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পর মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব এই বিষয়টি অনুধাবন করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী বুঝতে পেরেছেন দুগ্ধজাত শিল্পের উন্নয়ন করতে পারলে রাজ্যের গ্রামীন অর্থনীতির বিকাশ ঘটবে।
দুগ্ধজাত শিল্পের প্রসার ঘটানোর জন্য প্রয়োজন গবাদি পশুর বংশ বিস্তার।দেশের বিভিন্ন জায়গাতে কৃত্রিম উপায়ে গবাদি পশুর উন্নত প্রজাতির বংশ বিস্তারে সাফল্য পেয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রীয় সরকারের এই প্রকল্পকে কাজে লাগিয়ে রাজ্যেও উন্নত প্রজাতির গবাদি পশুর বংশ বিস্তারের উদ্যোগ নেয় রাজ্য সরকার।তবে এটা সবটাই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবের মস্তিস্ক প্রসূত।
রাজ্যের দুগ্ধ শিল্পকে সুঠাম করতে রাজ্য সরকার চালু করে “মুখ্যমন্ত্রী উন্নত গোধন প্রকল্প”। প্রাণী সম্পদ বিকাশ দপ্তরের সচিব ড. নায়ার জানিয়েছেন,, রাজ্যে দুধ উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে সেক্স সর্টেড সিমেন প্রযুক্তির মাধ্যমে স্ত্রী বাছুরের সংখ্যা বৃদ্ধি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী উন্নত গোধন প্রকল্পের মাধ্যমে ২০২০-২১ অর্থবর্ষে ১৫ হাজার ৯১৬টি কৃত্রিম প্রজনন করা হয়েছে। এছাড়াও চলতি অর্থবর্ষের আগস্ট মাস পর্যন্ত এই প্রকল্পে ১০ হাজার ৮৫৩টি কৃত্রিম প্রজনন করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী উন্নত গোধন প্রকল্পের সফলতা মিলছে রাজ্যেও। তার জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত তেলিয়ামুড়ার কামিনী দেববর্মা । তিনি মুখ্যমন্ত্রী উন্নত গোধন প্রকল্পের বেনিফিশিয়ারী। তিনি ত্রিপুরা সরকারের ‘প্রধানমন্ত্রীর উন্নতো গোধন প্রকল্প’ -এর সুবিধাভোগী হিসেবে নিজেকে তালিকাভুক্ত করেন। এবং গত ১ সেপ্টেম্বর তার গাভী একটি স্ত্রী বাছুরের জন্ম দেয়। এর আগে তিনি বহু চেষ্টা করেও স্ত্রী বাছুরের প্রজনন করতে পারেননি। এখন স্ত্রী বাছুরের প্রজননের ফলে নিঃসন্দেহে আর্থিক স্বাবলম্বী হতে পারবেন কামিনী দেববর্মা। মুখ্যমন্ত্রী উন্নত গোধন প্রকল্প যে গ্রামীণ ত্রিপুরায় দুধভিত্তিক অর্থনীতির বিকাশের পথ সুগম করেছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। রাজ্যের দুধের চাহিদা মেটানোর জন্যই রাজ্য সরকার চালু করেছিলো মুখ্যমন্ত্রী উন্নত গোধন প্রকল্প। এখন আসছে তার সফলতা।
রাজ্য সরকারের প্রাণী সম্পদ দপ্তর গ্রামীণ অর্থনীতির জন্য ভালো দুধ উৎপাদন সহায়ক কৃষকদের ক্ষমতায়নের জন্য একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, গত এক মাসে মোট ১৬৩টি বাছুর জন্ম নিয়েছে।যার মধ্যে ১৫৮টি টি বাছুর স্ত্রী এবং বাকি পাঁচটি পুরুষ ছিল।১৬৩টি গরুকে কৃত্রিমভাবে গর্ভবতী হয়েছিল।অর্থে সাফল্যের হার এখন ৯৭ শতাংশ।
রাজ্য সরকারের এক পদস্থ আমলা বলছেন, এক সময় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রকল্প নিয়ে নানান মহলে হাসি-ঠাট্টা হয়েছিল।তখন শুধুমাত্রমুখ্যমন্ত্রীর পাশে ছিলো আমুল ইন্ডিয়ার কর্মকর্তারা।কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রমাণিত হলো মুখ্যমন্ত্রীর সিদ্ধান্তই সঠিক।

Leave a Reply

Your email address will not be published.