ডেস্ক রিপোর্টার, ২১সেপ্টেম্বর।।
        ফের কি অশান্তির বাতাবরণ প্রদেশ কংগ্রেসের সংসারে? কংগ্রেসের অন্দর মহল থেকে ভেসে আসছে এমনই বুদবুদ গন্ধ। আর এই অশান্তির জন্য কর্মীরা কাঠ গড়ায় তুলছে খোদ প্রদেশ সভাপতি বীরজিত সিংহকে। অর্থাৎ কংগ্রেস চেষ্টা করলেও ল্যাং মারামারির সংস্কৃতি থেকে বের হতে পড়ছে না।এই পরিস্থিতিতে সুদীপ নির্ভর কংগ্রেস ২৩-র মহাযুদ্ধে কতটা সফল হবে, তা নিয়ে সন্দিহান দলের কর্মী -সমর্থকরা।
        কংগ্রেসের অন্দর মহলের খবর অনুযায়ী, সম্প্রতি ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি  ঘোষনা করা হয়।কংগ্রেসের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, পিসিসি কমিটি গঠিত হবে নির্বাচনের মাধ্যমে। কিন্তু নির্বাচন না করেই সভাপতি বীরজিত সিংহ তার পছন্দের লোকদের(মনোনীত) নিয়ে পিসিসি কমিটি গঠন করেন। এবং কমিটির সদস্যদের নামের তালিকা পাঠিয়ে দেন দিল্লিতে এআইসিসির দপ্তরে। এআইসিসিও তাতে সিলমোহর দেয়।
         কংগ্রেস কর্মীদের বক্তব্য,এক্ষেত্রে বীরজিত সিংহ এআইসিসির সঙ্গেও জালিয়াতি করেছেন। কারণ বীরজিত এআইসিসিকে জানিয়ে দিয়েছেন, ঘরোয়া নির্বাচন করেই তিনি পিসিসি গঠন করেছেন। বাস্তব আর্থে কোনো নির্বাচনই হয়নি। বীরজিত নাকি তার ঘনিষ্ঠ লোকজনকে প্রদেশ কংগ্রেস কমিটিতে জায়গা করে দিয়েছেন।


Notification As approved by the Chairman Election Authority , AICC New Delhi , I am happy to announce the list of elected PCC members of Tripura.

All the Newly elected members are cordially requested to attend meeting  at  Congress Bhavan, Agartala at 4 pm on 19.09.2022.

Sri Abdul Hannan APRO ,AICC,New Delhi will grace the meeting.

S/d illegible
BIRAJIT SINHA
President
TPCC
18.09.2022


পিসিসির সদস্যদের নামের তালিকা প্রকাশ্যে আসার পর কংগ্রেসের একাংশ কর্মী -সমর্থকদের ফের গ্রাস করে হতাশা।ভেঙ্গে পড়েন তারা। দলের সভাপতি বীরজিত সিংহের এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেনি। কংগ্রেসের অনেক পুরনো কর্মীই ফের সরে যেতে শুরু করেছে মূল স্রোত থেকে।বলছেন বঞ্চিত কর্মীরা। পোস্ট অফিস চৌমুহনীর সাদা বাড়ীর খবর, সীমনা বিধানসভা থেকে পিসিসি সদস্য মনোনীত হয়েছেন অসিত সেন। তিনি নাকি বীরজিত সিংহের বাড়ীর দীর্ঘ দিনের বাজারের ব্যাগ বহনকারী। গোটা বিধানসভাতে তার জনপ্রিয়তা নেই বললেই চলে। তেলিয়ামুড়া থেকে পিসিসি সদস্য হয়েছেন নিত্য গোপাল রুদ্র পাল।তিনিও বীরজিত পন্থী। তার জনপ্রিয়তাও এলাকাতে তলানিতে ঠেকেছে। শেষ বিধানসভা নির্বাচনে করেছিলেন কংগ্রেসের টিকিটে।জব্দ হয়েছে জামানত। আগরতলা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে পিসিসি সদস্য হয়েছেন ডা:প্রদীপ কুমার বর্ধন। তার জনপ্রিয়তাও প্রশ্ন চিহ্নের মুখে।খয়েরপুর থেকে পিসিসি সদস্য হয়েছেন প্রশান্ত সেন চৌধুরী। বিশালগড় থেকে জয়দুল হোসেন। কিন্তু পুর নির্বাচনে জয়দুল হোসেনের স্ত্রী প্রার্থী হয়েছিলেন।তিনি ভোট পেয়েছিলেন মাত্র একটি। বাধারঘাটে পার্থ সরকার। তিনিও বাম জামানায় পুর ভোটে কংগ্রেসের টিকিটে লড়াই করেছিলেন। বাধারঘাটের মতো অতীতের কংগ্রেস দুর্গে তিনি ব্যর্থ। সূর্যমনি নগর থেকে পিসিসি সদস্য হয়েছেন সুশান্ত চক্রবর্তী। কংগ্রেস রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘ দিন ধরে থাকলেও নিজেকে তৈরী করতে পারেন নি।তিনিও বীরজিতের ঘরের লোক বলেই পরিচিত। একই ভাবে সিংহ ভাগ বিধানসভা থেকেই বীরজিত ঘনিষ্ঠরা পিসিসিতে জায়গা পেয়েছেন।
              বছর ঘুরলেই বিধানসভা নির্বাচন। কংগ্রেসের রীতি অনুযায়ী পিসিসি সদস্যদের মধ্যে একটা বড় অংশই টিকিট পাবেন নির্বাচনে। স্বাভাবিক ভাবেই নব গঠিত এই কমিট কংগ্রেস রাজনীতির জন্য যথেষ্ট গুরুত্ব পূর্ন। প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির ভোটের জন্যও মার্চ মাস থেকে সভ্য পদ গ্রহণ অভিযান শুরু করেছিল কংগ্রেস। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিনা ভোটেই প্রদেশ সভাপতি প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি গঠন করে নিয়েছেন। তাও আবার এআইসিসিকে ভুল তথ্য দিয়ে।এই কারণেই দলের অন্দরে বাড়ছে ক্ষোভ।
              রাজনৈতিক বিশারদদের বক্তব্য, আসন্ন বিধনসভা নির্বাচনে যদি পিসিসি সদস্যদের অধিকাংশকে কংগ্রেস প্রার্থী করে তাহলে খুব একটা লাভবান হবে না। কেমন অধিকাংশ পিসিসি সদস্যদের জনপ্রিয়তার গ্রাফ একেবারেই নিম্নমুখী। এলাকার লোকজনের সঙ্গে তাদের যোগসূত্রও কম।এই পরিস্থিতিতে ভোট বাজারে তারা কতটা ভোট পাবেন? নাকি সিপিআইএম – বিজেপি উভয় রাজনৈতিক দলের যাতাকলে খেই হারিয়ে ফেলে কংগ্রেস।?উঠছে প্রশ্ন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.