ডেস্ক রিপোর্টার,২৪ মার্চ।
রাজ্যের শাসক দল বিজেপি’র অন্দরে নতুন ক্লাইমেক্স। পাহাড়ে দলের শক্তি বাড়ানোর জন্য পাতাল কন্যাকে পদ্মবনে শামিল করেছে শীর্ষ নেতৃত্ব। উদ্দেশ্য প্রদ্যুত কিশোরের তিপ্রামথার সঙ্গে জোরদার রাজনৈতিক ফাইট দেওয়া। স্বাভাবিক ভাবেই বিজেপি এই রণকৌশলকে প্রতিষ্ঠা দিতে গিয়ে পাতলা কন্যাকে অধিক গুরুত্ব দিতে চাইছে।আর তাতেই রাজনীতির ফুটবল মাঠের সাইড লাইনে চলে যাচ্ছেন বিজেপি’র জনজাতি মোর্চার সভাপতি রেবতী ত্রিপুরা।
খবর অনুযায়ী, আগামী কিছুদিনের মধ্যেই বিজেপি’র জনজাতি মোর্চার মধ্যে বেশ কিছু রদবদল হবে। সংগঠনের মাথায় আসতে পারেন সদ্য বিজেপিতে যোগ দেওয়া পাতাল কন্যা। জনজাতি মোর্চার সভাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে সাংসদ রেবতী ত্রিপুরাকে। তার জন্যই রেবতী ত্রিপুরাকে নিয়ে আসা হয়েছে দলের রাজ্য কমিটিতে। তাঁকে করা হয়েছে দলের সহ-সভাপতি।বিজেপি’র সদর দপ্তরে কান পাতলেই শুনা যায় এই সংক্রান্ত খবর।
বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, রেবতী ত্রিপুরার নেতৃত্বে জনজাতি মোর্চার সংগঠন তেমন কোনো শক্তিশালী হয়নি। নিরাপত্তার কারণে তিনি যান নি বহু প্রত্যন্ত অঞ্চলে।স্বাভাবিক ভাবেই শাসক দল হিসেবে বিজেপি’র শক্তি পাহাড়ে যে মাত্রায় যাওয়ার কথা ছিলো সেটা হয়নি।আগামী বছর রাজ্য বিধানসভা নির্বাচন।তার আগে পাহাড়ে দলের সংগঠনকে আরো মজবুত করে তিপ্রামথাকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ জানানোর পরিকল্পনা নিয়েছে বিজেপি।এটা নিশ্চিত এই মুহূর্তে পাহাড়ে বিজেপি’র তুলনায় মথার সংগঠন অনেক বেশি আঁটোসাঁটো।এটা বিলক্ষণ বুঝতে পেরেছেন বিজেপি’র থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক। এই কারণেই তারা সরাসরি পাতাল কন্যাকে দলে সামিল করে শক্তি বৃদ্ধি করেছে।
বিজেপি’র রান্না ঘরের খবর, তিপ্রামথার সঙ্গে টক্কর দেওয়ার জন্য পাতাল কন্যাকেই “শান” দেওয়া হচ্ছে। পাতাল নামক সুতাতে গিত্যরঞ্জন দিয়ে কড়া মাঞ্জা দেওয়া হচ্ছে প্রদ্যুতকে কাটার জন্য।এই কারণেই আগামী কিছু দিনের মধ্যে পাতালকে নিয়ে আসা হবে সামনের সারিতে। তার হাতেই তুলে দেওয়া হবে পাহাড়ের ব্যাটন।
ইতিমধ্যে পাতালকন্যা বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর পরই পৃথক জায়গাতে বিজেপি-মথার সংঘর্ষ হয়েছে। এই রাজনৈতিক সংঘর্ষে তিপ্রাকে টক্কর দিয়েছে বিজেপি। এই ঘটনাগুলির পেছনে পাতালকন্যার লোকজন অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে বলে জানিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। এই কারণেই পাতাল কন্যার উপর আস্থা বেড়েছে গেরুয়া শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্বের। তাই জনজাতি মোর্চার দায়িত্ব থেকে সাংসদ রেবতীকে অব্যাহতি দিয়ে পাতালকেই সামনের সারিতে নিয়ে আসার পরিকল্পনা নিয়েছে বিজেপি। ২৩-র নির্বাচনে পাতাল কন্যাকে বিজেপি থেকে দেওয়া হবে টিকিট। এবং জয়ী হলে বসানো হবে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর পদেও।
সম্প্রতি পাতাল কন্যার যোগদান অনুষ্ঠানে মঞ্চে দেখা যায় নি সাংসদ তথা জনজাতি মোর্চার রাজ্য সভাপতি রেবতী ত্রিপুরাকে।তিনি ছিলেন মঞ্চের নীচে। এটা রেবতী ত্রিপুরার সঙ্গে দল অন্যায় করেছে বলেই মনে করছেন বিজেপি’র একাংশ নেতৃত্ব। পাতাল কন্যার যোগদান সভার মধ্য দিয়ে পাতাল-রেবতীর আগামী দিনে দলের মধ্যে রাজনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার করে দিয়েছে বিজেপি’র থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক। এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.