ডেস্ক রিপোর্টার,২১ আগস্ট।।
আতঙ্কের নাম গরু ধরা। মধুপুরের ধ্যান ফাউন্ডেশন এর বিরুদ্ধে অবৈধভাবে গৃহপালিত গরু তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ অনেকদিনের। এবার সিপাহী জলা জেলার জেলা ও দায়রা বিচারক সত্যব্রত দত্তর আদেশে ও প্রতিফলিত হল বিএসএফ অবৈধভাবে ধ্যান ফাউন্ডেশনকে গৃহপালিত গবাদিপশু হস্তান্তর করছে। নিজের আদেশে জেলা ও দায়রা বিচারক উল্লেখ করেছেন কিভাবে রাজ্য সরকারের সাথে হওয়া চুক্তির খেলাপ করছে ধ্যান ফাউন্ডেশন। বিচারক দেখিয়ে দিয়েছেন কিভাবে নিম্ন আদালতের আদেশ অবমাননা করেছে এই ধ্যান ফাউন্ডেশন। জেলা ও দায়রা বিচারকের কোন স্থগিতাদেশ না থাকা সত্ত্বেও গবাদিপশুর মালিক মোঃ শাহজাহান মিয়াকে গরু হস্তান্তর না করে অবৈধভাবে তার ছয়টি গরু ধ্যান ফাউন্ডেশন আটকে রেখেছে বলে ও উল্লেখ করা হয়েছে। অত্যন্ত সময়োপযোগী এই কড়া আদেশে ধ্যান ফাউন্ডেশন এবং বিএস এফ এর অত্যাচারের যুগলবন্দী থেকে সাধারণ মানুষ কিছুটা হলেও রেহাই পাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সোনামুড়া বার এসোসিয়েশনের বিশিষ্ট আইনজীবীরা। গত শনিবার দুপুরে জেলা ও দায়রা বিচারক সত্যব্রত দত্ত অনেকগুলো নির্দেশ সম্বলিত রায় প্রদান করে ধ্যান ফাউন্ডেশনের দায়ের করা রিভিশন পিটিশন করে দিয়েছেন।
গেল বছর ছয় সেপ্টেম্বর মাঝরাতে আচমকা কলম চারা থানাধীন এলাকার মোঃ শাহজাহান মিয়ার গোয়ালে হানা দেয় আশা বাড়ি বিওপির কয় কমান্ডার প্রবীর কুমার পান্ডে। গোয়াল থেকে টেনে-হিঁচড়ে ছয় টি গরুকে বের করে তুলে নিয়ে যায় প্রবীর কুমার পান্ডে নেতৃত্বাধীন বি এস এফ বাহিনী। রাতেই গ্রামের প্রধান কে সঙ্গে নিয়ে কলমচৌরা থানায় বিএসএফের অত্যাচারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জানান শাহজাহান।পরদিন পুলিশকে সাথে নিয়ে বিএসএফকে গরু ফিরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন তিনি।বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডার প্রবীর কুমার পাত্তা না দেওয়ায় গরুর মালিক শাহজাহান সোনামুড়ার মহকুমা শাসকের দ্বারস্ত হন।মহকুমা শাসক তদন্ত করে নিশ্চিত হন গরুগুলির মালিক শাহজাহানই।এরপর মহকুমা শাসক বিএস এফ’র কোম্পানী কমান্ডার প্রবীর কুমারকে চিঠি লিখে গরুগুলো শাহজাহান মিয়াকে দিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন।বিএসএফ মহকুমা শাসকের আদেশ পালন না করে, সোনামুড়া আদালতের কোন আদেশ ছাড়াই শাহজাহান মিয়ার ছয়টি গরুকে ধ্যান ফাউন্ডেশনের হাতে তুলে দেন।ধ্যান ফাউন্ডেশনের কর্নধার পি লতা দেবী ও আদালতের আদেশ ছাড়াই শাহজাহান মিয়ার গরু নিজের গোয়ালে ঢুকিয়ে নেন।সিপাহিজলা জেলার জেলা ও দায়রা বিচারক এই হস্তান্তর কে অবৈধ হস্তান্তর বলে উল্লেখ করেছেন।

মহকুমা শাসকের আদেশে গরু না পেয়ে, শাহজাহান জেলাশাসক,বিএস এফ’র আই জি সবার কাছে লিখিত আবেদন জানান।কোনো সুরাহা না হওয়ায় তিনি সোনামুড়া আদালতের প্রথম শ্রেনীর বিচারক ডি পি মিশ্রর আদালতে গরুর জামিনের আবেদন জানান।কলমচৌড়া থানার রিপোর্ট তলব করে এবং গরুর মালিকানা সংক্রান্ত প্রমানাদি খতিয়ে দেখে প্রথম শ্রেনীর বিচারক ২৭ নভেম্বর ২০১১গরু গুলোর জামিন মঞ্জুর করেন।এরপর আদালতের রায়কে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে গরুগুলোকে আটকে রেখে দুই মাস পর ২৭ জানুয়ারি ২০২১ নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে সিপাহিজলা জেলার জেলা ও দায়রা বিচারকের আদালতে রিভিশন পিটিশন ফাইল করেন ধ্যান ফাউন্ডেশনের কর্নধার পি লতা দেবী।সেই রিভিশনের শুনানী গ্রহন করে শনিবার জেলা ও দায়রা বিচারক আদালতের আদেশ ছাড়া ধ্যান ফাউন্ডেশনের হাতে গরু তুলে দেওয়াকে অবৈধ বলে উল্লেখ করেন।নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিশন ফাইল করার কোন ও এক্তিয়ার ধ্যান ফাউন্ডেশনের নেই বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।রাজ্য সরকারের সাথে চুক্তি অনুযায়ী ধ্যান ফাউন্ডেশন অবলা জীবদের স্বার্থে কোন কিছু করছে না বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।নিজের আদেশে নিম্ন আদালতকে নির্দেশ দিয়েছেন,ধ্যান ফাউন্ডেশনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননা মামলা গ্রহনের জন্য হাইকোর্টকে অনুরোধ করার জন্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published.