ডেস্ক রিপোর্টার,২৫মে।।
নেই সরকারী আবাসন,নেই প্রটোকলের অনুযায়ী নিরাপত্তা। অর্থাৎ ব্রাত্য প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা থেকে। অথচ তিনি একজন সাংসদ।
নাম রেবতী ত্রিপুরা।রাজ্যের পূর্ব ত্রিপুরার লোকসভা আসনের সাংসদ। অভিযোগ, তাঁর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে রাজ্য প্রশাসন বিমাতৃ সুলভ আচরণ করে চলছে।তাঁকে দেওয়া হয়নি সরকারী আবাস, তাঁর নেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
আমজনতার প্রশ্ন, সাংসদ রেবতী ত্রিপুরা কেন পাবেন না তাঁর ন্যায় সরকারী সুযোগ-সুবিধা? তিনি একজন সাংসদ।নিয়ম অনুযায়ী আগরতলাতে তাঁর সরকারী আবাস থাকা দরকার।কিন্তু এখনো তিনি ভাড়া বাড়িতে থাকেন শহরের কৃষ্ণনগরে। সরকারী আবাসের জন্য রেবতী ত্রিপুরা রাজ্য পূর্ত দপ্তরকে বেশ কয়েকবার চিঠি দিয়েছিলেন।কিন্তু দপ্তর থেকে কোনো সদুত্তর পাননি।তখন পূর্ত দপ্তরের দায়িত্বে ছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব। সাংসদ রেবতী ত্রিপুরার সরকারী আবাস না থাকার বিষয় নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন কংগ্রেস নেতা আশীষ কুমার সাহাও।
সরকারী আবাস সংক্রান্ত বিষয়ে সাংসদ রেবতী ত্রিপুরা বলেন, তিনি কয়েকবার পূর্ত দপ্তরের কাছে আবেদন করেছিলেন।কিন্তু দপ্তর থেকে কোনো উত্তর পাননি।তিনি আশা করেন এখন মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসেছেন ডা:মানিক সাহা। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য এই সমস্যার সমাধান করবেন।
সাংসদ জানিয়েছেন তিনি এখন ভাড়া বাড়িতে থাকেন।এই বাড়িতেই অফিস করার জন্য একটি ঘর ভাড়া নিয়েছেন।এই পরিস্থিতিতে একটি আবাসন তাঁর জন্য আবশ্যক।
সাংসদ রেবতী ত্রিপুরাকে বৈরীরা হত্যার হুমকি দিয়েছিলো।কারণ তিনি ক্যাবের(সিএবি) পক্ষে সংসদে ভোট দিয়েছিলেন।এরপরই রাজ্যের নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন এনএলএফটি সাংসদকে হুমকি দিয়েছিলো। স্বাভাবিক ভাবে সাংসদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা দরকার ছিলো।কিন্তু প্রটোকল অনুযায়ী তা করা হয়নি। প্রথা অনুযায়ী, একজন সাংসদ তাঁর বাড়ির নিরাপত্তার ছয়জন রক্ষী(একজন মেজর রেঙ্কের, অন্য পাঁচজন হোমগার্ড) পেতে পারেন।
জানা যায়, জঙ্গি হুমকির পরও তাঁকে ছয়জন রক্ষী দেওয়া হয়নি, বাড়ির নিরাপত্তার জন্য।পরবর্তী সময়ে তিনি রাজ্য স্বরাষ্ট্র দপ্তরের উপর আস্থা হারিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে চিঠি লিখেন।এরপর স্বরাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে তাকে ছয়জন রক্ষী দেওয়া হয়। সাংসদ রেবতী ত্রিপুরা এই প্রসঙ্গে বলেন, আচমকা তাঁকে না জানিয়ে স্বরাষ্ট্র দপ্তর তাঁর বাড়ি থেকে রক্ষীদের তুলে নেওয়া হয়।এরপর তিনি রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশকের সঙ্গেও যোগাযোগ করেন।কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। সাংসদের আশা, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডা:মানিক সাহা সমস্যার সমাধান করবেন।
রাজ্যের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে সাংসদকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন,”গত দুই বছর আগে তাঁর গন্ডাছড়া এলাকার বাড়িতে দুস্কৃতিরা হামলা করেছিলো।পুড়িয়ে দিয়েছিলো গাড়ি,মোটর বাইক।করেছিলো ভাঙচুর।কিন্তু আজ পর্যন্ত পুলিশ দুস্কৃতিদের গ্রেফতার করে নি। একজন সাংসদের সঙ্গে পুলিশের এই আচরণ কেন? এই প্রশ্নের উত্তরে সাংসদ রেবতী ত্রিপুরা অবশ্যই কিছু বলেন নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.