ডেস্ক রিপোর্টার, আগরতলা।।
শেষ রক্ষা হলো না। সদ্য সমাপ্ত উপভোটের খারাপ ফলাফলের খেসারত দিতে হলো সুবল ভৌমিককে! প্রদেশ তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি পদ থেকে সুবলকে অব্যাহতি দিল দলের হাইকমান্ড। এটাই তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বের বক্তব্য।তবে পর্দার আড়ালে অন্য খবর। সুবল ভৌমিক যোগ দিতে চলছেন বিজেপিতে। সম্ভবত বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার রাজ্য সফরেই সুবল ফের নাম লেখাবেন গেরুয়া শিবিরে। সুবল ভৌমিকের এই সিদ্ধান্তের কথা পৌঁছে যায় তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দরবারে। ফলস্বরূপ সুবল ভৌমিককে প্রাথমিকভাবে সভাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন অভিষেক। আগামী দিনে সুবলকে করা হবে তৃণমূল থেকে বহিষ্কার। খবর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দর মহলের।
“সুবল ভৌমিক তৃণমূল কংগ্রেসকে আলবিদা জানিয়ে বিজেপিতে যোগ দেবেন”। রাজ্যের জনপ্রিয় নিউজ পোর্টাল “জনতার মশাল” সর্ব প্রথম এই সংক্রান্ত খবরের আগাম আভাস দিয়েছিলো। তাও উপভোটের পরেই।শেষপর্যন্ত এই খবর এই সত্যি হতে চলছে “জনতার মশাল”র আগাম খবর।কেন না, সুবল ভৌমিক আগামী দিনে বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন এটা নিশ্চিত। সুবল ভৌমিকের সঙ্গে এই সংক্রান্ত বিষয়ে বিজেপির হাইকমান্ডের সঙ্গে আলোচনাও চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। সুবল ভৌমিকের এই নতুন পদক্ষেপের কথা পৌঁছে গেছে তৃণমূল কংগ্রেসের গর্ভগৃহে।আর তাতেই বাঁধে বিপত্তি। সঙ্গে অবশ্যই সদ্য সমাপ্ত উপ ভোটের হিসেব নিকেশ।
সুবল ভৌমিকের এই রাজনৈতিক চলন গমন দেখে তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব বুঝে যান তাকে দলে আর ধরে রেখে লাভ নেই।এই কারণেই তড়িঘড়ি তৃণমূলের বঙ্গ নেতৃত্ব সুবলকে প্রদেশ সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি দেয়।
বুধবার বিকেলে প্রদেশ তৃণমূল কংগ্রেসের ইনচার্জ রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিক সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিকভাবে সুবল ভৌমিকের সভাপতি পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন,যত দিন পর্যন্ত নতুন প্রদেশ তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি নিযুক্ত করা হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত ত্রিপুরা প্রদেশ তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বরা দৈনন্দিন তৃণমূল কংগ্রেসের কাজকর্ম চালিয়ে যাবে।রাজীব ব্যানার্জীর কথায়, খুব শীঘ্রই একজন যোগ্য দক্ষ প্রতিশ্রুতিবান নেতাকে সভাপতি বেছে নেবে দল। কে হচ্ছে নতুন সভাপতি? তা অবশ্যই বলেন নি তিনি।
এদিকে রাজ্য সভাপতি পদ থেকে সুবল ভৌমিককে অপসারণের খবর পেয়ে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় পুরনো তৃণমূল কর্মীরা ফেটে পড়েছেন আনন্দে। তারা সুবল ভৌমিকে গাদ্দার বলে উল্লেখ করে সেটে দিয়েছে পোস্টারও। গায়ে মেখেছেন সবুজ আবির। তৃণমূল কর্মীদের দাবি, সুবল ভৌমিক গোটা দলকে নষ্ট করে দিয়েছেন। তৃণমূলের এই সংগঠন দিয়ে ২৩র ভোটে কিছু করা যাবে না। এটা বুঝতে পেরেছেন সুবল নিজেও।তাই দল ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছেন। এর আগেই তৃণমূল কংগ্রেস প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে সুবল ভৌমিককে দল সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেয়।
এই মুহূর্তে তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতির দৌঁড়ে বেশ কয়েকজন রয়েছেন।তাদের মধ্যে সুস্মিতা দেব বহিরাগত।আছেন আশীষ লাল সিং।তবে তিনি বর্তমানে দলের দায়িত্ব নিতে নারাজ।নাম উঠে আসছে প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি পীযূষ বিশ্বাসের।তিনি নাকি টিডিএফ ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেবেন। জোর আলোচনা চলছে বঙ্গ নেতৃত্বের সঙ্গে। এখন তৃণমূল নেতা তাপস রায়ের নামও শোনা যাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত কে হবেন সুবলের স্থলাভিষিক?এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তৃণমূল নেতা- কর্মীরা।
তৃণমূল কংগ্রেসের সদর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সাংবাদিক বৈঠকে দলের ইনচার্জ রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় দলের কর্মী – সমর্থকদের আশ্বস্ত করে বলেন,”মানুষের স্বার্থে ত্রিপুরার মাটিতে তৃণমূল কংগ্রেস ছিল, আছে এবং আগামীদিনে আরো শক্তিশালী হয়ে উঠবে”।
প্রসঙ্গত ১৯৯৮ থেকে শুরু করে ২০১৮ পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস ত্রিপুরায় তিনবার পদার্পণ করেছিলো।প্রতি বারই রাজ্য রাজনীতির উর্বর ভূমি পেয়েছিলো তৃণমূল। মমতার প্রতি আস্থা প্রদর্শন করেছিলো রাজ্যের মানুষ।কিন্তু প্রতিবারই নানান কারণে তৃণমূলকে ঘিরে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার অপমৃত্যু ঘটেছে। এবার চলছে তৃণমূল কংগ্রেসের চতুর্থ প্রচেষ্টা। পুর ও নগর ভোট তৃণমূল মানুষ তৃণমূল কংগ্রেসের পাশে থাকলেও সদ্য সমাপ্ত চার বিধানসভা কেন্দ্রের উপভোটে মুখ থুবড়ে পড়ে তৃণমূল কংগ্রেসের।২৩- তৃণমূল কতটা আলো জ্বালাতে পারবে তা বলবে সময়েই।

Leave a Reply

Your email address will not be published.