ডেস্ক রিপোর্টার,২৫ সেপ্টেম্বর।।
প্রশাসন চলে ত্রিপল “এন”-র উপর ভিত্তি করে। নিয়ত-নীতি-নিয়ম —- এই তিনটি বিষয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে প্রশাসনিক কাজকর্ম।বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব।মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, বাম জামানায় “মুখ্যমন্ত্রী”র বাড়িতে ধরণা না দিলে টিসিএস-টিপিএস হওয়া যেতো না।এখন সেই প্রথার অবলুপ্তি ঘটেছে।ত্রিপুরা সিভিল সার্ভিস অফিসার অ্যাসোসিয়েশনের ২৬তম দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। শনিবার রাজধানীর রবীন্দ্র ভবনে অনুষ্ঠিত হয় টি সি এস অফিসারদের এই সম্মেলন।
পূর্বতন বাম সরকারকে কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব বলেন, এক সময় ডাক্তার,ইঞ্জিনিয়াররা তাদের মূল পেশা ছেড়ে ত্রিপুরা সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় বসত না।কারণ তারা জানতেন, বাম সরকারের মুখ্যমন্ত্রী ও মেলারমাঠ পার্টি অফিসে ধর্না না দিলে কপালে চাকরি জুটবে না।এই কারণে তারা পা মারাতো না। এখন পরিস্থিতি পাল্টেছে।চাকরির জন্য মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি ও পার্টি অফিসে যেতে হয়না।মেধা থাকলেই পেয়ে যাচ্ছে চাকরি। বিজেপি লিড সরকার এই প্রথা দূর করতে সক্ষম হয়েছে।এখন এমবিএ, বি-টেক করা ছেলেরা ত্রিপুরা সিভিল সার্ভিসের পরীক্ষা দিচ্ছে।এবং পেয়ে যাচ্ছে চাকরি।
মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব উপস্থিত টিসিএস অফিসারদের উদ্দেশ্যে বার্তা দিয়ে বলেন, প্রশাসন চলতে প্রয়োজন ত্রিপল “এন”।অর্থাৎ নিয়ত-নীতি ও নিয়ম।এই তিনটি বিষয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে প্রশাসন। নিয়ত-নীতি ও নিয়ম ঠিক থাকলে প্রশাসনিক কাজকর্মে কোনো ব্যাঘাত ঘটে না।
দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি আনুগত্য স্বীকার করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যে লোকসভার আসন মাত্র দুইটি।তার মধ্যে একজন সাংসদকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী করা হয়েছে। অথচ এর আগে রাজ্যের স্থানীয় কোনো সাংসদকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী করা হয়নি। পশ্চিম বাংলা ও অসম থেকে আসা লোকজনকে মন্ত্রী করা হয়েছে। কেন এই সিদ্ধান্ত?প্রশ্ন মুখ্যমন্ত্রীর।
বিপ্লব কুমার দেবের বক্তব্য, পশ্চিম বাংলা, অসম বড় রাজ্য হলেও পিছিয়ে নেই ত্রিপুরা।কিন্তু নরেন্দ্র মোদির আগে ত্রিপুরাকে এই সন্মান কেউ দিতে পারে নি।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রশংসা করে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব বলেন,মোদির রাজত্বে “না” বলে কোনো শব্দ নেই।রাজ্যের জন্য যখনই প্রধানমন্ত্রীর সাহায্য চেয়েছেন,তখনই তিনি দিয়েছেন দরাজ হাতে।এইরকম বহু ঘটনার দৃষ্টান্ত মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে তুলে ধরেন ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.