ডেস্ক রিপোর্টার,২৬ফেব্রুয়ারি।।
“ডিজিটাল নির্বাচন”—২০১৮ সালে দেখেছিলো ত্রিপুরা। তৎকালীন বিরোধী শক্তি বিজেপি’র “ডিজিটাল আক্রমণে” নাস্তানাবুদ হয়েছিলো ২৫বছরের শাসক দল সিপিআইএম।
রাজ্যের মানুষ তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করেছিল ডিজিটাল নির্বাচন।
২০১৮ সালে বিরোধী দল বিজেপি “সোশ্যাল মিডিয়া”কে প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছিলো অতি মাত্রায়। বামেরা বিজেপি’র এই প্রচারকে প্রতিহত করতে পারেনি।সোশ্যাল মিডিয়াকে ঢাল করে বিজেপি গোটা দেশে বামেদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ স্তরে প্রচার করতে সক্ষম হয়েছিলো।এবং হয়েছিলো সফল।
তৎকালীন শাসক বামপন্থীরা বিজেপি’র এই ডিজিটাল প্রচারের মোকাবিলা করতে হিমশিম খেয়েছিলো। তার প্রমান পাওয়া গিয়েছিলো ভোট বাক্সকে।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ঝড়ো প্রচার রাজ্য রাজনীতিতে বিজেপি’র জনপ্রিয়তা বাড়ানোর একটা অন্যতম কারণ। বিরোধি শক্তি বিজেপি’র প্রচারের এই তরিকা আচ করতে অনেকটা সময় পেরিয়ে যায়। ততক্ষণে যা হওয়ার তা হয়ে গিয়েছিলো। বামেদের হাত থেকে ফস্কে গিয়েছিলো ক্ষমতার ভর কেন্দ্র। তা বিলক্ষণ বুঝতে পেরেছিলেন মেলারমাঠের দন্ডমুন্ডের কর্তারা।কিন্তু তাদের মুখে কিছু বলার ছিলো না।তাড়া করছিলো পরাজয়ের ভয়।অবশেষে সত্যি হয়েছিলো আশঙ্কা।
এখন ১৮ পেরিয়ে ২২। বছর ঘুরতেই বিধানসভা ভোট। বিজেপি’র কায়দাতেই ২৩-র মহাযুদ্ধে “ডিজিটাল” প্রচারকে হাতিয়ার করছে বিরোধী দল সিপিআইএম।বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে রাজনীতিকরা বলছেন,” ২৩-এ ২১৮-র পুনরাবৃত্তি হতে চলেছে। ২২-র গোড়া থেকে বামপন্থীরা প্রচারে ব্যাপক ভাবে ব্যবহার করছে সোশ্যাল মিডিয়াকে।তুলনামূলক ভাবে ডিজিটাল প্রচারে কয়েক কদম পিছিয়ে আছে বিজেপি। প্রদেশ বিজেপি’র সোশ্যাল মিডিয়া টিম এবং আইটি সেল ১৮-র মতো সক্রিয় নয়।এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সিপিআইএম সোশ্যাল মিডিয়া তথা ডিজিটাল প্রচারে টেক্কা দিচ্ছে শাসক দল বিজেপিকে।
মেলারমাঠের অন্দর মহলের খবর অনুযায়ী, শাসক দল বিজেপিকে টেক্কা দিতে বিরোধী দল সিপিআইএম সোশ্যাল মিডিয়া ও আইটি সেল পরিচালনার জন্য পেশাদারি ছেলে-মেয়েদের নিযুক্ত করেছে।তাদের দিচ্ছে মাসিক বেতন।পর্দার আড়ালে থেকেই তারা কাজ করছে। সামনে থাকছে দলীয় ক্যাডাররা।কিন্তু বিজেপিতে সোশ্যাল মিডিয়া ও আইটি সেল থাকলেও তাদের মধ্যে পেশাদারিত্বের চরম অভাব। তাছাড়া আছে ক্ষমতায় থাকার আত্মতুষ্টি। সব মিলিয়ে ডিজিটাল প্রচারে এখন বামেদের টেক্কা দিতে পারছেনা শাসক বিজেপি।বিভিন্ন ইস্যুতে নজরে পড়ছে বিজেপি’র সোশ্যাল মিডিয়া ও আইটি সেলের দেওলিয়াপনা। বিজেপি’র কাছে এখনো যথেষ্ট সময় আছে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলিকে শক্তিশালী করার জন্য। যদি এখনই কোনো ব্যবস্থা না নেয়,তাহলে আগামী দিনে হাত পুড়তে পারে পদ্ম শিবিরের,এমনটাই বলছেন রাজনীতির প্রাজ্ঞরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.