ডেস্ক রিপোর্টার,২৬এপ্রিল।
বাম রাজত্বের টানা ২৫ বছর রাজ্যের অফিসগুলিতে ছিলো না কোনো কর্ম সংস্কৃতি। প্রতিটি সরকারী অফিস ছিলো বাম কর্মচারীদের রাজনীতির আতুর ঘর। সরকারী অফিসের কাজকর্ম লাটে তুলে দিয়ে রাজনীতি নিয়েই ব্যস্ত থাকতেন কর্মচারীরা। বাম জামানায় কর্মচারীদের বিরুদ্ধে এরকম বহু অভিযোগ ছিলো।

২০১৮-সালে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব সরকারী অফিসগুলিতে বাম জামানার কর্ম সংস্কৃতি পরিবর্তনের জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন সমস্ত কর্মীদের। এবং সময়ের কাজ সময়ে শেষ করার নির্দেশও দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রথম দিকে কর্মচারীরা ডরে-ভয়ে নির্দিষ্ট সময়ে অফিসে এসে করতেন তাদের দাপ্তরিক কাজকর্ম। কিন্তু এখন রাজ্যের অধিকাংশ সরকারী দপ্তর গুলিতে বাম জামানায় কর্ম সংস্কৃতি ফিরে এসেছে।বলছেন খোদ কর্মচারীরাই।তার জ্বলন্ত প্রমান পাওয়া গিয়েছে সোমবার। ঘটনাস্থল বড়জলা তহশীল কাছারি অফিসে।

এদিন বড়জলা তহশীল কাছারি অফিসে সাধারণ মানুষ তাদের প্রয়োজনীয় কাজের জন্য ছুটে যান।কিন্তু দপ্তরের দরজা-জানালা খোলা থাকলেও অফিসে ছিলো না কোনো কর্মচারী(চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী ব্যতীত)। তখন ঘড়ির কাঁটা ছিলো সকাল ১০টা৩০মিনিটে। উপস্থিত লোকজনের অভিযোগ, তারা সাড়ে এগারোটা পর্যন্ত বসে থাকেন অফিসে।কিন্তু ততক্ষণ পর্যন্ত কাছারির বড়বাবু, মেঝ বাবু, সেজ বাবু, ছোট বাবু কেউ’ই পা মাড়ান নি। শেষ পর্যন্ত যখন অফিসে উপস্থিত লোকজন বিরক্ত হয়ে বাড়ির রাস্তার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন, তখন একে একে অফিসে আসেন কর্তারা(কর্মচারী)। এই নিয়ে উপস্থিত লোকজনের সঙ্গে কর্মচারীদের বাক বিতণ্ডা হয়ে। শেষে অবশ্যই গরমে হাঁসফাঁস করা কর্মচারীরা অফিসে থাকা বৈদ্যুতিন পাখার হিমেল হওয়া গায়ে লাগিয়ে নম: বিষ্ণু, নম: বিষ্ণু করে ধরেন দপ্তরিক কাজে। এই হলো রাজ্যের সরকারী অফিসগুলির কর্ম সংস্কৃতি।

সাধারণ মানুষের বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবের নির্দেশ সরকারী কর্মচারীদের কাছে মলিন কলাপাতার মতো। তারা প্রথম দিকে মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশকে মান্যতা দিলেও এখন তা নিয়ে ভাবিত নন। অধিকাংশ সরকারী দপ্তরে কর্মীরা তাদের খেয়াল খুশি মতোই আসছেন।এই কারণেই সাধারণ মানুষকে নাগরিক পরিষেবা পেতে সমস্যা হচ্ছে বলেই মনে করছেন ভুক্তভোগীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.