ডেস্ক রিপোর্টার, ২৬আগষ্ট।।
রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী জিষ্ণু দেববর্মন ও বিজেপির নেত্রী পাতালকন্যা জমাতিয়ার সফর কেন্দ্র করে অগ্নিগর্ভ চড়িলাম। শুক্রবার পৃথক দুটি ঘটনা বিষিয়ে উঠে চড়িলামের রাজনৈতিক পরিবেশ। জিষ্ণু দেববর্মন ও পাতাল কন্যা উভয়ই বিক্ষোভের মুখে পড়েন।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশকে ছুড়তে হয়েছে কাদানে গ্যাস। করতে হয় লাঠিচার্জ।তাতে তিপ্রামথার বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হয়।শেষ পর্যন্ত নাম মাত্র যোগদান সভা করে আগরতলায় ফিরে আসেন উপমুখ্যমন্ত্রী।প্রবল অবরোধের মুখে কর্মসূচিকে বানচাল করতে বাধ্য হন পাতাল কন্যাও।
এদিন উপমুখ্যমন্ত্রী জিষ্ণু দেববর্মনের নির্বাচনে ক্ষেত্র চড়িলামে বিজেপির যোগদান সভা ছিল। পূর্বনির্ধারিত সুচি অনুযায়ী, এদিন জিষ্ণু দেববর্মন আগরতলা থেকে রওনা হন চড়িলামের যোগদান সভার উদ্দেশ্যে। কিন্তু তিপ্রমাথার কর্মীরা এই যোগদান সভা বানচাল করার জন্য মাঠে নামে। অভিযোগ বিজেপি নেতৃত্বের। উপ মুখ্যমন্ত্রী জিষ্ণু দেববর্মন যোগদান সভায় পৌঁছানোর আগেই রাস্তায় আটকে দেয় তিপ্রামথার কর্মীরা।

স্বাভাবিকভাবেই তিপ্রামথার কর্মীরা জানিয়ে দেয়, উপমুখ্যমন্ত্রী যোগদান সভায় পৌঁছতে পারবেন না। এরপরই পুলিশ মথার কর্মীদের বুঝিয়ে সুজিয়ে সারানোর চেষ্টা করে। কিন্তু আন্দোলনকারীরা পিছু হটতে নারাজ। একসময় পুলিশের সঙ্গেই কথার কর্মীদের সংঘর্ষ হয়। পুলিশ প্রথমে লাঠিচার্জ করে। পরিস্থিতি প্রতিকূলে দেখে উপস্থিত পুলিশকর্মীরা সঙ্গে সঙ্গেই কাদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। এরপরেই মথার কর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয় এবং পরিষ্কার হয় মূল সড়ক।এই ঘটনায় মথার কর্মীদের আক্রমণে গুরুতর যখন হয়েছেন বিশ্রামগঞ্জ থানার ওসি যতীন্দ্র দাস ।তাকে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত মথার কর্মীরা রাস্তা অবরোধ থেকে সরে যাওয়ার পর যোগদান সভা স্থলে যান উপমুখ্যমন্ত্রী। পূর্ব নির্ধারিত সুচি অনুযায়ী তিনি নামমাত্র সভা করেন। কারণ মথার কর্মীদের আস্ফালনের কারণে সভায় আসা সাধারণ লোকজন ভয়ে বাড়ি ফিরে যায়। সভা শেষ করে আগরতলায় চলে আসেন উপ- মুখ্যমন্ত্রী জিষ্ণু দেববর্মন।
এদিনই বিজেপির জনজাতি নেত্রী পাতালকন্যা জমাতিয়া চড়িলামে গিয়েছিলেন সাংগঠনিক কাজে যোগ দিতে। চড়িলামের বড়ইবদল এলাকায় যাওয়ার পরেই স্থানীয় প্রমিলা বাহিনী পাতালকন্যার পথ অবরোধ করে। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, তারা একসময় পাতাল কন্যার দল টিপিএফে ছিল। কিন্তু পাতাল কন্যা তাদের সঙ্গে কোন কথা না বলেই টিপিএফ ছেড়ে বেরিয়ে যান। এবং যোগ দেন বিজেপিতে। কর্মীদের বক্তব্য, পাতাল কন্যা শুধুমাত্র নিজের স্বার্থসিদ্ধির কথা চিন্তা করেই দল ছেড়ে বেরিয়ে যান। কিন্তু দলীয় কর্মী সমর্থকদের কথা তিনি চিন্তা করেননি। তাই পাতাল কন্যাকে তারা মেনে নিতে পারছে না। দীর্ঘ সময় গোটা অঞ্চলের প্রমীলা বাহিনী পাতাল কন্যাকে রাস্তায় আটকে রাখে।খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান সিপাহীজলা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রনধীর দেববর্মা,বিশালগড় মহকুমা পুলিশ আধিকারিক রাহুল দাস, বিশ্রামগঞ্জ থানার ওসি সহ বিশাল পুলিশবাহিনী ও টিএসআর। শেষ পর্যন্ত পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং আন্দোলনকারীরা প্রত্যাহার করে পথ অবরোধ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.