ডেস্ক রিপোর্টার,২৭ সেপ্টেম্বর।।
ত্রিপুরাকে পাখির চোখ করে রাজনীতির গুঁটি সাজানোর পরিকল্পনা নিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলকে ত্রিপুরার মাটিতে শক্তিশালী করতে প্রচন্ড লড়াকু মনোভাব দেখছেন দলের সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।ঝাঁকে ঝাঁকে তৃণমূল নেতারা বঙ্গ থেকে উড়ে আসছেন রাজ্যে। তারপরও দলের প্রধান মুখ তুলে আনতে পারেনি তৃণমূল কংগ্রেস। বলতে গেলে স্থানীয় নেতা একজন।তিনি সুবল ভৌমিক।তবে তাঁরও নেই আগের ঝাঁঝ। স্থানীয় ভাবে দলের ভর কেন্দ্রে থাকা লোকজন এখনো “নেতা”র সংজ্ঞায় পড়েন নি।বলছেন রাজনীতিকরা।
তার মধ্যেই গোদের উপর বিষ ফোঁড়ার মত অবস্থা ছন্নহীন তৃণমূল কংগ্রেসের।শুরু হয়ে গেছে স্থানীয় নেতৃত্বের কাজিয়া। বর্তমানে দলের প্রধান মুখ সুবল ভৌমিক ফের অপমানিত হলেন রাজনীতির অ-আ না জানা মামুন মিয়ার কাছে।তৃণমূল কংগ্রেসের একটি হোয়াটস অ্যাপ্স গ্রুপ রয়েছে মিডিয়ার লোকজনদের নিয়ে।গ্রুপের নাম এআইটিএমসি ত্রিপুরা(AITMC Tripura)l
সোমবার সকালে এই হোয়াটস অ্যাপ্স গ্রুপ থেকে এডমিন মামুন খান দলের নেতা সুবল ভৌমিককে রিমোভ করে দেন।অথচ এই গ্রুপে কুণাল ঘোষ থেকে শুরু করে শান্তনু সেন সবাই আছেন।হঠাৎ করে সুবল ভৌমিককে কেন রিমোভ করা হলো গ্রুপ থেকে? রবিবার এই গ্রুপে সুবল ভৌমিক যোগদান পর্বের দুইটি ছবিও পোস্ট করেছিলেন। মামুন খানের মতো চিনেপুটি নেতা সুবল ভৌমিককে গ্রুপ থেকে সরিয়ে দেওয়ার কারণ কি? এটা অবশ্যই খুঁজবেন তৃণমূল নেতৃত্ব।তবে এটা পরিষ্কার সুবল ভৌমিকের সঙ্গে মামুন খানের ঠান্ডা লড়াই চলছে। প্রদেশ তৃণমূলের অন্দর মহল থেকেও ভেসে ওঠছে সুবল-মামুনের মধ্যে বনিবনা না থাকার বিষয়টি।
সোমবার সন্ধ্যায় মামুন খানের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেসের কয়েকজন পূর্ব থানায় যান। তাদের থানায় যাওয়ার উপপাদ্য ছিলো মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ পুলিশ মামলা রাখে নি। ব্যাস, থানা থেকে বেরিয়ে এসেই তৃণমূল কংগ্রেসের চিনেপুটি নেতা মামুন খান এআইটিএমসি ত্রিপুরা গ্রুপে সাংবাদিক সম্মেলনের ঘোষণা দেন। স্থান মানুন খানের বর্ডার গোলচক্কর বাড়িতে।রাত ৮টা নাগাদ।
তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশ কর্মী-সমর্থকদের প্রশ্ন হঠাৎ করে কেন সাংবাদিক সম্মেলনের স্থান তৃণমূল কংগ্রেসের অস্থায়ী কার্যালয় বলে কথিত সুবল ভৌমিকের বাড়ি থেকে মামুনের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হলো? মামুন খান কি বঙ্গ নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত ছাড়া সাংবাদিক বৈঠকের স্থান পরিবর্তন করলেন?তাহলে কি সুবল ভৌমিককে দল গুরুত্ব দিচ্ছে না? নাকি স্ব-ঘোষিত নেতা মামুন খান নিজেকে প্রচারের আলোতে আনতে সুবলকে ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছে? এই রকম অসংখ্য প্রশ্ন অবতারণা করছে দলের সাধারণ কর্মী সমর্থকদের মধ্যে।
নিষ্ঠাবান তৃণমূল কর্মীদের বক্তব্য, ত্রিপুরার মাটিতে নতুন করে ঘাসফুলের অঙ্কুরোদগম হয়েছে।এখন গঠন করা যায়নি রাজ্য কমিটি। নেই কোনো স্থানীয় মুখ। এই পরিস্থিতিতে সাংবাদিক সম্মেলনের “স্থান” নিয়ে শুরু হয়েছে দৌড়ঝাঁপ।সুবল ভৌমিকে তো রাজ্য রাজনীতির লোকজন জানেন।আর সদ্য নেতা হওয়ার স্বপ্নে বিভোর মামুনতো রাজ্য রাজনীতির “টেন ক্লাসে”র নেতা।তার নেই কোনো গ্রহণ যোগ্যতা।তারও আস্ফালন শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ তৃণমূলের অন্দরে থাকা কর্মীদের। অবশ্যই গত লোকসভা নির্বাচনে মামুন খান তৃণমূল কংগ্রেস থেকে পশ্চিম আসনে লড়াই করেছিলেন। বলতে গেলে “বাঘ নাই বনে শেয়াল রাজা”।
রাজ্য রাজনীতিতে নতুন ভাবে সদ্য অঙ্কুরোদগম হওয়া তৃণমূল কংগ্রেসের যদি এই পরিস্থিতি হয় তাহলে মমতা-অভিষেকের স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে।কখনো সাকার হবে না।সুবল ভৌমিক, মামুন খানের মত নেতারা তৃণমূলকে আন্তর্জলি যাত্রার দিকে যে নিয়ে যাবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published.