ডেস্ক রিপোর্টার,২৮এপ্রিল।।
গন্তব্য পথে চ্যালেঞ্জ মোকাবিকার দৃঢ়তা, অনড় ভাবনা, সাফল্য প্রাপ্তির পথে গতি সঞ্চারিত করে। আগামীর রূপরেখা অনুসারে, নিজের নিহিত গুনকে বাস্তবিক প্রয়োগ দ্বারা সম্ভাবনাময় দিক নির্ভর দক্ষতা ও শিক্ষা গ্রহণ, উপার্জনক্ষম সুনিশ্চিত ভবিষ্যত দিশা চয়নের সহায়ক। গতানুগতিক শিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি, নিজেদের অধিকার সুনিশ্চিতিকরণে ছাত্র ছাত্রীদের স্বার্থে গৃহীত গুচ্ছ পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত থাকা আবশ্যক । শিক্ষাকে জাতীয় মেরুদন্ড আখ্যায়িত করেও, এই অবহেলিত ক্ষেত্রটি মোদীর উদ্যোগে সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জাতীয় শিক্ষা নীতির সংশোধনী, এক বলিষ্ঠ পদক্ষেপ ।রোজগারী মানসিকতা স্বনির্ভর ব্যক্তিত্ব তৈরির সহায়ক, আর স্বনির্ভর ব্যক্তিত্বই সমৃদ্ধশালী প্রদেশ নির্মাণের অন্যতম শর্ত।বৃহস্পতিবার কাঞ্চনপুর সরকারি মহাবিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রীদের সঙ্গে মত মিনিময়ের সময় একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জাতীয় মানের উপযোগী শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকীকরণ সহ ভাবি প্রজন্মের সুনিশ্চিত ও সমৃদ্ধশালী ভবিষ্যৎ দিশা চয়নের উপযোগী পরিমন্ডল তৈরীর লক্ষ্যে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে গুচ্ছ পরিকল্পনা রূপায়িত হচ্ছে।পড়ুয়াদের মধ্যে রাষ্ট্রীয় ভাবনা জাগ্রতকরণে সদক রতনমনি সেবা সদনের ভূমিকা প্রশংসনীয়।গ্রাম নির্ভর নগর ব্যবস্থা ও অন্তিম ব্যক্তি নির্ভর শীর্ষ ব্যক্তির ন্যায়, রাজ্যের সর্বাঙ্গীন বাস্তবিক বিকাশের বিগত দিনে রাজ্যের সমস্ত অবহেলিত এলাকায় উন্নয়নের সম বিকেন্দ্রীকরণে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কর্মযজ্ঞ রূপায়িত হচ্ছে।কাঞ্চনপুরের মতো সমৃদ্ধশালী ও অনন্য ভূমিতে অবস্থানরত প্রত্যেকেই ভাগ্যবান। দশদা আর. ডি ব্লকের অন্তর্গত বড়ছড়া বিদ্যালয়ের একশ শয্যা বিশিষ্ট নব নির্মিত ছাত্রাবাসের শুভ সূচনা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন,”প্রকৃতির আশীর্বাদধন্য ত্রিপুরার ভূস্বর্গ কাঞ্চনপুর, সবুজের আলিঙ্গনে লালিত এক সমৃদ্ধশালী পুন্য ভূমি ।বিগত দিনের অবহেলিত ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের অপবাদমুক্ত হয়ে, বর্তমানে এই অঞ্চলে সমস্ত ক্ষেত্রেই সার্বিক বিকাশ ধারা সফল ভাবে রূপায়িত হচ্ছে ।উন্নয়নের একটি মডেল হিসেবে স্বগৌরবে ক্রম অগ্রসরমান এই অঞ্চল । এডিসি এলাকায় উন্নত সড়কের জাল বিস্তারের পাশাপাশি প্রতিটি ব্লককে জাতীয় সড়কে সংযুক্তিকরণের লক্ষ্যে পরিকল্পনা গৃহীত হয়েছে।”

এদিন কাঞ্চনপুরে জনজাতি ছাত্রাবাস উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে আসন সংখ্যা কম হওয়া সত্বেও সেখানকার স্থানীয় জনতা প্রচন্ড রোদকে উপেক্ষা করে টিলার উপর দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণ শোনেন। অনুষ্ঠান স্থলে আসন সংখ্যা কম হওয়া জন্য মুখ্যমন্ত্রী ক্ষমা চেয়ে নেন জনতার কাছে।

মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, জনজাতিদের আর্থ সামাজিক জীবনমান বিকাশের পাশাপাশি সময়োপযোগী জাতীয়মানের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ আমাদের অন্যতম প্রাধান্য। একজন জনজাতি বোনকেও যেন, দূর থেকে জল সংগ্রহ করতে না হয়, সেই লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় লক্ষ্যমাত্রার আগেই প্রতিটি বাড়িতে পরিশ্রুত পানীয়জল সহ সমস্ত নাগরিক অধিকার পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য পূরণে দ্রুততার সাথে বাস্তবায়িত হচ্ছে ।রাজ্যে অবস্থানরত রিয়াং উদবাস্তুদের দীর্ঘপ্রতিক্ষিত সমস্যার স্থায়ী সমাধান ও সমৃদ্ধশালী ভবিষ্যত সম্ভবপর হয়েছে । মোদীর আন্তরিক দৃষ্টিভঙ্গির ফলে, উত্তর পূর্বের সর্বাঙ্গীন বিকাশে গতি তরান্বিতকরণ সম্ভব হয়েছে ।
কাঞ্চনপুরের বড়ছড়া বিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত ১০০ আসন বিশিষ্ট জনজাতি ছাত্রাবাসের উদ্বোধন করে সম্পুর্ণ ছাত্রাবাসটি ঘুরে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী।

Leave a Reply

Your email address will not be published.