তেলিয়ামুড়া ডেস্ক, ২৮আগষ্ট।।
কৃষি ফার্মে ড্রেন নির্মাণ কাজে বড়োসড়ো দুর্নীতির ঘোটালা। জৈনক ইঞ্জিনিয়ারের হাত ধরে এই দুর্নীতির ঘোটালা। ঘটনা তেলিয়ামুড়া মহকুমা কৃষি তত্ত্বাবধায়কের অফিস সংলগ্ন কৃষি ফার্মে।
কৃষি তত্ত্বাবধায়ক অফিসের ইঞ্জিনিয়ার মৃণাল দেব ফোনের বার্তালাপে জানিয়েছেন, কৃষি ফার্মের ড্রেন নির্মাণ করার জন্য বরাদ্ধকৃত অর্থের পরিমাণ প্রায় ১৯ লক্ষ টাকা।
জানা যায়, তেলিয়ামুড়া মোহরছড়া এলাকার ঠিকেদার মণীশ ভৌমিক তেলিয়ামুড়া কৃষি ফার্মের ড্রেন নির্মাণ করার কাজের বরাত পেয়ে ১০ শতাংশ কমিশনের মাধ্যমে অন্যত্র বিক্রি করে দেয়। সেই কাজটি বর্তমানে করছেন মোহরছড়া এলাকার মিঠুন দেবনাথ, দীপক বিশ্বাস সহ অপর আরেকজন। কিন্তু এই নির্মাণ কাজের ইমপ্লিমেন্টিং অফিসার হলেন ইঞ্জিনিয়ার মৃণাল দেব। নির্মাণ কাজের দুর্নীতির দুর্গন্ধ পেয়ে ইঞ্জিনিয়ার মৃণাল দেব ড্রেন ভেঙ্গে নতুন করে পুনরায় ড্রেন নির্মাণ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন মৌখিক ভাবে।
জানা গেছে,, নির্মাণ কাজে যেসব সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে তা অতি নিম্নমানের। বালির পরিবর্তে নির্মাণ কাজে ব্যাবহার করা হচ্ছে লালমাটি। যদিও সরকারি নিয়ম মতে ৮ শতাংশ বালির সঙ্গে ১ শতাংশ সিমেন্ট ব্যাবহার করার কথা থাকলেও নির্মাণ কাজে ব্যাবহার করা হচ্ছে ৩০ শতাংশ বালির সঙ্গে ১শতাংশ সিমেন্ট। ফলে সামান্য বৃষ্টির জলেই ড্রেনগুলো ভেঙ্গে পড়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। তবে সেই করিৎকর্মা ইঞ্জিনিয়ারের ছত্র-ছায়ায় লালিত পালিত তিন ঠিকাদার নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে ড্রেন নির্মাণের কাজ করে যাচ্ছেন।
নির্মাণ কাজের দুর্নীতির ব্যাপার এলাকাবাসী সহ কৃষি ফার্মের একাংশ কর্মীরা তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিল ইঞ্জিনিয়ার মৃণাল দেব মহাশয়ের নিকট। কিন্তু ইঞ্জিনিয়ার মৃণাল দেব নগদ নারায়ণের গন্ধে বিভোর হয়ে ঠিকেদারের সঙ্গে মিলে দুর্নীতিগ্রস্ত ড্রেন নির্মাণের কাজটি প্রশ্রয় দিচ্ছেন বলে অভিযোগ। তবে,, মহকুমা কৃষি তত্ত্বাবধায়কের অফিস সংলগ্ন এলাকায় নির্মাণ কাজের দুর্নীতির ঘোটালা চলতে থাকলেও মহকুমা কৃষি তত্ত্বাবধায়ক রাজীব দে একেবারেই কুম্ভ নিদ্রায় আচ্ছন্ন। অনেকটা “ধরি মাছ না ছুঁই পানির” মতো অবস্থা।
স্থানীয় সূত্রের খবর,ইঞ্জিনিয়ার মৃনাল দেব কৃষি ফার্মে নির্মীয়মান ড্রেন পরিদর্শনে আসেন না। বর্তমান রাজ্য সরকার চাইছে দুর্নীতি মুক্ত এবং স্বচ্ছতার সাথে রাজ্যের উন্নতিকল্পে কাজ করতে, কিন্তু একাংশ সরকারি দপ্তরের দুর্নীতিগ্রস্ত আধিকারিকদের কারণে তা সম্ভবপর হচ্ছে না। তবে যাই হোক, ইঞ্জিনিয়ার মৃণাল দেবের পক্ষ থেকে এই কাজের সঙ্গে যুক্ত ঠিকাদারদের দুর্নীতির গন্ধ পেয়ে মৌখিকভাবে নির্মাণ কাজটি ভেঙ্গে পুনরায় ড্রেন নির্মাণ করার জন্য জানানোর বেশ কয়েকদিন অতিক্রান্ত হলেও এখন পর্যন্ত ওই এলাকায় বিভিন্ন নিম্নমানের সামগ্রী ব্যাবহার করেই চলছে নির্মাণ কাজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.