ডেস্ক রিপোর্টার,৩০ জানুয়ারি।।
২৩-র ভোট যুদ্ধে মজবুত জমি তৈরি করতে মুখিয়ে আছে প্রথম সারির প্রতিটি রাজনৈতিক দল। শাসক দল বিজেপি, বিরোধী দল সিপিআইএম, তৃণমূল কংগ্রেস ও কংগ্রেস সহ সবকটি উপজাতি ভিত্তিক রাজনৈতিক দল।
সম্প্রতি রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল সিপিআইএমকে দেখে মনে হচ্ছে তারা আগের তুলনায় অনেক বেশি আত্ম বিশ্বাসী। বাড়ছে তাদের আন্দোলনের গতিও।কিন্তু গত বছর পাহাড় নির্বাচনে বামেরা প্রত্যাশা অনুযায়ী রেজাল্ট করতে পারেনি।মাত্র ১০শতাংশ ভোট নিয়েই তাদের সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিলো। সদ্য সমাপ্ত পুর ও নগর ভোটেও বামেদের রেজাল্ট প্রত্যাশার ধারে কাছে ছিলো না।যদিও বাম নেতৃত্বের অভিযোগ ছিল, সন্ত্রাসের কারণেই তাদের ভোটাররা ভোট দিতে পারেননি।এবং পড়েছিলো ছাপ্পা ভোট।তাই পুর ভোটের রেজাল্ট দিয়ে বামেদের শক্তি বিচার করা ঠিক হবে না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, পশ্চিম বাংলার মতো ত্রিপুরাতেও বামেরা তাদের জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে। তার প্রমান মিলেছে এডিসি ও পুর ভোটে। বরং পুর ভোটে বামেদের তুলনায় তৃণমূল কংগ্রেস অনেক বেশি ভালো রেজাল্ট করেছে।ভোট পেয়েছে ২৩শতাংশ।বামেরা পেয়েছে ১৯ শতাংশ। তৃণমূল এই ভোট পেয়েছে মাত্র তিন মাসের পরিশ্রমে।
রাজনীতিকদের দাবি, বামেদের ভোট শাসক দল বিজেপি’র তুলনায় বেশি পাবে তৃণমূল কংগ্রেস। বামেরা বিজেপিকে ভোট দেবে না।তা প্রায় নিশ্চিত। বিকল্প হিসেবে তাদের কাছে থাকবে তৃণমূল ও কংগ্রেস।কিন্তু রাজ্যের কংগ্রেস গত ২৫বছর ধরেই ভুগছে রাতকানা রোগে।তর্কের খাতিরে যদি ধরে নেওয়া যায় সুদীপ রায় বর্মন কংগ্রেসে যোগ দেবেন, তাহলে কংগ্রেস শক্তিশালী হবে নিশ্চিত। কার ভোটে? পরিষ্কার উত্তর বিক্ষুব্ধ বিজেপি’র ভোটে।কিন্তু বামেদের ভোট কংগ্রেসের দিকে “বাঁক” নেবে না। এই ভোট ধাবিত হবে তৃণমূল কংগ্রেসের দিকেই।
সম্প্রতি বাম ভোট তৃণমূল কংগ্রেসে বাঁক নেওয়ার ঝলক শুরু হয়ে গেছে। আগরতলা পুর নিগমের সিপিআইএমের দুই বারের কাউন্সিলার যমুনা বিশ্বাস যোগ দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসে।বাম নেতৃত্বের প্রতি খেদ দেখিয়ে একজন ডাকসাইটের প্রাক্তন বাম কাউন্সিলার যোগ দিয়েছেন ঘাসফুল শিবিরে।বামেদের একাংশ সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের ঝোঁকও বাড়ছে মমতার দলের দিকে। তার পেছনে যথেষ্ট কারণ রয়েছে।কারণ বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সন্ত্রাস নিয়ে প্রথম সারির বাম নেতৃত্ব সরব হলেও কর্মীদের মনে আত্মবিশ্বাস জোগাতে পারেনি। বিজেপি’র বিরুদ্ধে গড়ে তুলতে পারেনি প্রতিরোধ।
তৃণমূল কংগ্রেসের সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যে আসার পর থেকেই বিজেপি’র বিরুদ্ধে সীমিত শক্তি নিয়ে প্রতিরোধ মূলক আন্দোলন গড়ে তুলে টিএমসি।এরপরই বামেদের বুকে জল আসে।এবং ধীরে ধীরে আন্দোলনমুখী হয়।কিন্তু বাম নেতৃত্বের এই ভীরুতা মেনে নিতে পারেনি দলীয় একাংশ সমর্থকরা।তারা পাল্টা ঝুঁকে যায় তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে। আগামী দিনে বাম ভোট তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে ঝুঁকে পড়ার প্রবণতা বাড়ছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক প্রাজ্ঞরা।
বাংলার বাম নেতা বিমান বসু পরিষ্কার ভাবে বার্তা দিয়েছেন, বিজেপিকে আটকাতে গিয়ে প্রয়োজনে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মেলাতেও প্রস্তুত বামেরা। বঙ্গের কমিউনিস্ট নেতা বিমান বসুর এই বক্তব্য, রাজ্যের বাম কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে টনিকের মতো কাজ বলেই মনে করছেন রাজনীতিকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.