ডেস্ক রিপোর্টার,৩০এপ্রিল।।
রাজ্য রাজনীতিতে এবার নতুন ভাবে মাথাচাড়া দিয়েছে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টি। তারা শুরু করেছে জনসংযোগ। মাঝখানে সাড়া জাগিয়ে ত্রিপুরার মাটিতে রাজনীতির তৃতীয় ইনিংস শুরু করেছিলো মমতার তৃণমূল কংগ্রেস। এখনো আছে ময়দানে।তবে টিমটিম করছে। সবে মাত্র গঠন করেছে রাজ্য কমিটি। বাস্তব অর্থে কোনো আঞ্চলিক দলই রাজ্য রাজনীতির ক্ষমতার শিকড়ে পৌঁছতে পারেনি। স্থানীয় জনজাতি ভিত্তিক আঞ্চলিক দলগুলির অস্তিত্বও ছিলো অল্প সময়ের জন্যই। তাই রাজ্য রাজনীতিতে আঞ্চলিক দগুলির ভবিষ্যৎ খুব একটা সুখকর নয়। অন্তত ইতিহাস এমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আপ এবার দিল্লির বাইরে গিয়ে দখল করেছে পাঞ্জাব। গোয়া ও উত্তর প্রদেশে পেয়েছে আসন।গুয়াহাটিতে সদ্য সমাপ্ত পুর ভোটে খোলেছে খাতা। স্বাভাবিক ভাবেই তার একটা প্রভাব পড়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। এই সাফল্যের কারণে রাজ্যে ডালপালা মেলার সুযোগ পেয়েছে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দল।

রাজনীতিকরা বলছেন, দিল্লিতে আপের জনপ্রিয়তা যখন মধ্য গগণে তখন রাজ্যেও ঝাড়ু নিয়ে দুর্নীতি মুছে ফেলতে আবির্ভাব ঘটেছিলো কেজরিওয়ালের দলের।
তৎকালীন সময়ে আপের রাজ্য কমিটির সভাপতি ছিলেন প্রয়াত চিকিৎসক সলিল সাহা। তিনি ২০১৪-সালের লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিম আসন থেকে আপের প্রার্থী হয়েছিলেন। বর্তমান শাসক দলের কয়েকজন নেতাও তখন আপের সঙ্গে ছিলেন। কিন্তু সলিল সাহা আপকে রাজ্য রাজনীতির অলিন্দে সবল করে তুলতে পারেননি। সলিল সাহার আকস্মিক মৃত্যুর পর আপ থমকে যায়। তাদের নেতা-কর্মীদের খোঁজে পাওয়া যায়নি। একটা বড় অংশ চলে গিয়েছিলেন বিজেপিতে। রাজ্যের শাসক দলের বিধায়ক ডা. দিলীপ দাস, বিজেপি’র প্রাক্তন মুখপাত্র প্রসেনজিৎ চক্রবর্তী সহ আরো অনেকেই ছিলেন আপে।তারা পরবর্তী সময়ে বিজেপিতে ঝুঁকে যান। সব মিলিয়ে থমকে যায় আপের দৌড়।

এবার পাঞ্জাব সহ অন্যান্য রাজ্যে আপ ভালো রেজাল্ট করতে রাজ্যের দলের কর্মী-সমর্থকরা নতুন ভাবে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে।ইতিমধ্যে আপ ঘোষণা দিয়েছে রাজ্যের চার কেন্দ্রের উপনির্বাচনে প্রার্থী দেবে তারা।এবং ২৩-র বিধানসভা নির্বাচনেও ৬০ আসনেই তারা লড়াই করবে।
প্রশ্ন হচ্ছে রাজ্য রাজনীতিতে এটা আপের জন্য দ্বিতীয় ইনিংস। প্রথম ইনিংসে তারা ব্যর্থ। বরং আপকে পেছনে ফেলে সামনের সারিতে চলে এসেছিল বিজেপি।এবং ১৮-তে দখল করেছিলো ক্ষমতা। তৃণমূল কংগ্রেসও তৃতীয় বারের মতো রাজ্যে এসেছে জমি তৈরি করতে।কিন্তু ত্রিপুরাতে তাদের ভবিষ্যৎ খুব সুখকর হবে না। বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে একথা বলেছেন রাজনীতিকরা।

রাজনীতির প্রাজ্ঞ ব্যক্তিদের বক্তব্য, ত্রিপুরাতে এই মুহূর্তে বিজেপি, সিপিআইএম,কংগ্রেস ও পাহাড়ের তপ্রামথাকে টপকে অন্যান্য দল গুলির পক্ষে কিছু করা সম্ভব নয়। আইপিএফটি সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর মতো তিপ্রামথার স্থায়িত্বও বেশি দিন হবে না। হয়তো বা ২৩-র ভোটে কিছুটা চমক দেখাবে মথা।তারপরই ফুরিয়ে যেতে পারে।
অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দলে তেমন কোনো নেতা নেই, যার প্রবল জনভিত্তি রয়েছে।স্বাভাবিক ভাবেই রাজ্য রাজনীতিতে আপের যে খুব একটা ভবিষ্যৎ আছে,তা হলফ করে বলা যাচ্ছে না। অর্থাৎ অন্যান্য আঞ্চলিক দলগুলির মতোই আপকে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়েই লড়তে হবে।বর্তমান পরিস্থিতি বিচার বিশ্লেষণ করলেই এমন চিত্রই প্রকট হচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনীতির বিশারদরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.